

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


পটুয়াখালী-৩ (গলাচিপা–দশমিনা) আসনে জোটের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি ও ডাকসুর সাবেক ভিপি নুরুল হক নুরকে সমর্থনের কথা থাকলেও বাস্তব চিত্র ভিন্ন। স্থানীয় বিএনপির বড় একটি অংশ এখনো তার পক্ষে সক্রিয়ভাবে মাঠে নামেনি। বরং তারা প্রকাশ্যে অবস্থান নিয়েছেন বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী ও সদ্য বহিষ্কৃত জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য হাসান মামুনের পাশে।
দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দেওয়ার পর ৩০ ডিসেম্বর হাসান মামুনকে দল থেকে বহিষ্কার করে বিএনপি। যদিও বহিষ্কারের আগের দিনই তিনি দলীয় পদ থেকে পদত্যাগপত্র পাঠিয়েছেন বলে দাবি করেন। তবে এসব সিদ্ধান্তের কোনো প্রভাব তার নির্বাচনী তৎপরতায় পড়েনি। গলাচিপা ও দশমিনার উপজেলা, পৌরসভা, ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায়ের প্রায় সব পদধারী নেতাকর্মী এখনো তার সঙ্গেই রয়েছেন।
এই পরিস্থিতি নিয়ে একাধিক সভা-সমাবেশে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ভিপি নুরুল হক নুর। তিনি বলেন, যুগপৎ আন্দোলনে একসঙ্গে থাকলেও বিএনপি মাত্র ১২টি আসন ছেড়েছে, আর সেসব আসনেও জোটপ্রার্থীরা স্থানীয় বিএনপির পূর্ণ সহযোগিতা পাচ্ছেন না। তার অভিযোগ, গলাচিপা-দশমিনায় অধিকাংশ কমিটি গঠন করেছেন হাসান মামুন নিজেই, ফলে স্থানীয় নেতাকর্মীরা দলীয় সিদ্ধান্তের চেয়ে তাকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন।
ভিপি নুর জানান, বিষয়টি তিনি বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্বকে অবহিত করেছেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, দুই উপজেলার অনেক সাবেক নেতা তাকে সমর্থন দিলেও বর্তমান নেতৃত্ব তার বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছে। এই সংকটের সমাধান বিএনপিকেই করতে হবে বলে মনে করেন তিনি। নইলে ভবিষ্যতে জোটের মধ্যে আস্থার সংকট তৈরি হতে পারে বলেও সতর্ক করেন ভিপি নুর। তবে ভিপি নুরের এসব বক্তব্য স্থানীয় বিএনপি নেতাদের অবস্থান বদলাতে পারেনি।
গলাচিপার চরবিশ্বাস ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি বেলায়েত বিশ্বাস বলেন, পরিস্থিতি যেমনই হোক তারা হাসান মামুনের সঙ্গেই থাকবেন। তার দাবি, ওই ইউনিয়নে হাসান মামুন ভিপি নুরের চেয়ে বেশি ভোট পাবেন।
গলাচিপা পৌর বিএনপির সভাপতি মিজানুর রহমান বলেন, জোটের হিসাব তারা বোঝেন না, তারা বোঝেন গলাচিপার মানুষকে। দীর্ঘ ৩৬ বছর ধরে মাঠে থেকে দলকে সংগঠিত করেছেন হাসান মামুন। তাকে ছেড়ে গেলে সেটি বেঈমানির শামিল হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। তার ভাষায়, তারা ধানের শীষের বিরুদ্ধে নন, কিন্তু ট্রাক মার্কার বিপক্ষে।
একই সুর শোনা যায় গলাচিপা উপজেলা বিএনপির সভাপতি সিদ্দিকুর রহমানের কণ্ঠেও। তিনি বলেন, অতীতে ভিন্ন দলের লোক এনে মনোনয়ন দেওয়ার খেসারত বিএনপি দিয়েছে। ২০১৮ সালের উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, সেসব অভিজ্ঞতা থেকেই তারা হাসান মামুনের পাশে দাঁড়িয়েছেন এবং দলীয় সিদ্ধান্ত যাই হোক, শেষ পর্যন্ত তার সঙ্গেই থাকবেন।
দশমিনা উপজেলা বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি অ্যাডভোকেট খোরশেদ আলম বলেন, সুখে-দুঃখে যাকে পাশে পেয়েছেন, তাকে ছেড়ে যাওয়ার প্রশ্নই ওঠে না। প্রয়োজনে বহিষ্কার হলেও তারা প্রস্তুত, তবে তখন কেন্দ্রকে ভাবতে হবে—কতজনকে একসঙ্গে বহিষ্কার করা সম্ভব।
দশমিনা উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শাহ আলম শানু বলেন, এই জনপদ মূলত হাসান মামুনের জনপদ। তার মতে, ভিপি নুর বিএনপির নেতা নন, আবার তিনি ধানের শীষ প্রতীক নিয়েও মাঠে নেই—এই বাস্তবতাও বিবেচনায় রাখা উচিত।
সাধারণ ভোটারদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বিএনপির তৃণমূল পর্যায়ের সক্রিয় সমর্থন ছাড়া ভিপি নুরুল হক নুরের জয় সহজ হবে না। গলাচিপায় একাধিক প্রার্থী থাকায় ভোট বিভক্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। বিপরীতে দশমিনায় একমাত্র প্রার্থী হিসেবে মাঠে রয়েছেন হাসান মামুন। সব মিলিয়ে বর্তমান পরিস্থিতিতে পটুয়াখালী-৩ আসনের নির্বাচনী সমীকরণে এগিয়ে রয়েছেন বিএনপির এই বিদ্রোহী প্রার্থী।
মন্তব্য করুন
