শুক্রবার
০৯ জানুয়ারি ২০২৬, ২৫ পৌষ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
শুক্রবার
০৯ জানুয়ারি ২০২৬, ২৫ পৌষ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

বাবার নির্দেশে শিশু আয়েশাকে হত্যা করে চাচা

পটুয়াখালী প্রতিনিধি
প্রকাশ : ০৬ জানুয়ারি ২০২৬, ০৬:১০ পিএম
অভিযুক্ত বাবুল প্যাদা
expand
অভিযুক্ত বাবুল প্যাদা

পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলায় চাঞ্চল্যকর স্কুলছাত্রী আয়েশা মনিকে ধর্ষণের পর শ্বাসরোধে হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় তার বাবা বাবুল প্যাদাকে (৪৮) দুই দিনের রিমান্ডে নেওয়ার আদেশ দিয়েছেন আদালত।

মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) দুপুরে রাঙ্গাবালী সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট চৌকি আদালতে বাবুল প্যাদাকে হাজির করে রিমান্ডের আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা রাঙ্গাবালী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. সোহান আহমেদ। শুনানি শেষে বিচারক মো. দোলন হাসান দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

এর আগে গতকাল সোমবার মামলার প্রধান আসামি রুবেল প্যাদাকে (৩৫) গ্রেপ্তারের পর আদালতে হাজির করা হয়। এ সময় তিনি আয়েশা মনি হত্যাকাণ্ডে বাবুল প্যাদার সম্পৃক্ততার কথা উল্লেখ করে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। আদালত তাঁর বক্তব্য রেকর্ড করে তাঁকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। একই দিন রাতে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মোহাম্মদ সাজেদুল ইসলাম সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

মামলাটির তদন্ত কর্মকর্তা রাঙ্গাবালী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো, সোহান আহমেদ বলেন,গতকাল সোমবার আসামি রুবেল প্যাদাকে আদালতে তোলা হলে তিনি শিশুটিকে ধর্ষণের পর শ্বাসরোধ করে হত্যার কথা স্বীকার করেন। আসামি আদালতে আরও স্বীকার করেন, শিশুটির বাবা বাবুল প্যাদার নির্দেশে তিনি হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছেন। তবে প্রধান আসামি আসামির রুবেল প্যাদার বক্তব্যে নিয়ে সন্দেহজনক। যে কারনে মামলাটির বিষয়ে অধিকতর তদন্ত দরকার।

রাঙ্গাবালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সিরাজুল ইসলাম বলেন, নিহত শিশুটির মা দীর্ঘদিন বিদেশে আছেন। মায়ের অবর্তমানে বাবা তার (নিহত শিশু) সমবয়সী এক মেয়ের সঙ্গে অবৈধ সম্পর্কে জড়িয়ে পড়ে। এসব ঘটনা দেখে শিশুটি তার বড় বোনকে জানায়। তখন পরিবারে কলহ দেখা দেয়। বিষয়টি গোপন রাখতে তার বাবা আত্মীয় রুবেল প্যাদার সঙ্গে মেয়েকে মেরে ফেলার পরিকল্পনা করেন। হত্যার আগে দুজনের মধ্যে আর্থিক লেনদেনও হয়।

ওসি আরও বলেন, গত শুক্রবার সন্ধ্যার দিকে আসামি রুবেল প্যাদা ঘরে ঢুকে শিশুটিকে ধর্ষণের পর শ্বাসরোধ করে হত্যা করে। পরে একটি বস্তায় ভরে রান্না ঘরের পাশে রাখেন। মেয়ে নিখোঁজের নাটক সাজিয়ে থানায় জিডি করেন বাবা। এসব কথা আদালত ও পুলিশের কাছে আসামি রুবেল প্যাদা স্বীকার করেছেন। এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর বড় বোন বাদী হয়ে তাঁদের বাবা ও রুবেলকে আসামি করে মামলা করেন। তবে তদন্তের স্বার্থে এখনই সব প্রকাশ করা যাচ্ছে না।

নিহত শিশুটির শারীরিক পরীক্ষা করা পটুয়াখালী ২৫০ শয্যা হাসপাতালের চিকিৎসা কর্মকর্তা সেঁজুতি সরকার বলেন, গতকাল সোমবার শিশুটির শারীরিক পরীক্ষা করেছেন তাঁরা। শরীরের একাধিক স্থানে আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। শিশুটির মরদেহ কিছু গলে যাওয়ায় ধর্ষণের বিষয়টি প্রাথমিকভাবে শনাক্ত করা যায়নি। ডিএনএ পরীক্ষায় বাকিটা নিশ্চিত হওয়া যাবে।

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

মন্তব্য করুন

X