

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


দেশোর সর্ব উত্তরের জেলা পঞ্চগড়ে দিন দিন বাড়ছে শীতের তীব্রতা। হিমালয়ের একেবারে কাছাকাছি অবস্থান হওয়ায় উত্তর দিক থেকে বয়ে আসা হিমেল বাতাসে জেলায় মৃদু শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে।
হঠাৎ করেই তাপমাত্রা এক অঙ্কের ঘরে নেমে আসায় শীতের তীব্রতা আরও বেড়েছে।
আজ মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) সকাল ৯টায় পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৮ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
এ সময় বাতাসের আর্দ্রতা ছিল শতভাগ এবং বাতাসের গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় ৬ থেকে ৮ কিলোমিটার। ফলে শীতের অনুভূতি আরও তীব্র হয়ে উঠেছে।
গতকাল সোমবার এ জেলায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ১২ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং দিনের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ১৬.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
জানা যায়,গত কয়েকদিন ধরে ভোর থেকে সকাল পর্যন্ত ঘন কুয়াশায় ঢেকে থাকছে পঞ্চগড়ের বিভিন্ন এলাকা। কোথাও কোথাও দুপুর পর্যন্ত সূর্যের দেখা মিলছে না। সকাল ও সন্ধ্যার পর কুয়াশার ঘনত্ব আরও বেড়ে যাওয়ায় সড়ক ও মহাসড়কে যান চলাচলে বিঘ্ন ঘটছে।
তীব্র শীত ও কুয়াশার কারণে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন নিম্ন আয়ের মানুষজন। দিনমজুর, চা শ্রমিক, পাথর শ্রমিকসহ খেটে খাওয়া মানুষেরা শীতের কারণে নিয়মিত কাজে যেতে পারছেন না।
এতে তাদের দৈনন্দিন আয় কমে গেছে এবং অনেক পরিবার খাবার জোগাড় করতেও হিমশিম খাচ্ছে। বিশেষ করে গরীব ও শীতার্ত মানুষের জন্য শীতের রাতগুলো হয়ে উঠেছে ভয়াবহ কষ্টের। পর্যাপ্ত শীতবস্ত্রের অভাবে তারা চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন।
স্থানীয়রা শীতার্ত ও অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়াতে সমাজের বিত্তবান ব্যক্তি ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। দ্রুত শীতবস্ত্র বিতরণসহ প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত না করা হলে শীতজনিত কষ্ট আরও বাড়বে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
এদিকে, তীব্র শীত ও একটানা কুয়াশার কারণে শিশু ও বৃদ্ধদের স্বাস্থ্যঝুঁকি বেড়েছে। সর্দি, কাশি, নিউমোনিয়া ও শ্বাসকষ্টজনিত রোগে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বাড়ছে বলে জানিয়েছে স্থানীয় হাসপাতাল ও ক্লিনিকগুলো।
এবিষয়ে জেলার তেঁতুলিয়া চৌরাস্তা বাজারের ভ্যান চালক রাশেদ আলী বলেন, আমাদের শীতের কারনে আয় কমে গেছে। শীতের কারনে যাত্রী পাচ্ছি না আমরা৷
একই কথা বলেন চা শ্রমিক হাজিরুল হক তিনি বলেন, অনেক শীত পড়েছে আজ৷ চা বাগানে পাতা কাটতে অনেক কষ্ট হচ্ছে৷ আমাদের কেউ খোঁজ খবর নিচ্ছে না৷
তেঁতুলিয়া আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জিতেন্দ্র নাথ রায় জানান, হিমেল বাতাস ও কনকনে ঠান্ডার কারণে পঞ্চগড়ে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ অব্যাহত রয়েছে। আগামী কয়েকদিন সকাল ও সন্ধ্যায় কুয়াশা থাকতে পারে এবং তাপমাত্রা আরও কমার আশঙ্কা রয়েছে।
মন্তব্য করুন
