শুক্রবার
০৯ জানুয়ারি ২০২৬, ২৫ পৌষ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
শুক্রবার
০৯ জানুয়ারি ২০২৬, ২৫ পৌষ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

এনসিপি চায় চুয়াডাঙ্গা-১, জামায়াতের না

চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি
প্রকাশ : ০৬ জানুয়ারি ২০২৬, ০৮:৪৩ এএম
চুয়াডাঙ্গা-১ আসনে ৬ জন প্রার্থীর মধ্যে ৫ জন প্রার্থীই ১১ দলীয় জোটের অন্তর্ভুক্ত
expand
চুয়াডাঙ্গা-১ আসনে ৬ জন প্রার্থীর মধ্যে ৫ জন প্রার্থীই ১১ দলীয় জোটের অন্তর্ভুক্ত

চুয়াডাঙ্গা-১ আসনে ৬ জন প্রার্থীর মধ্যে ৫ জন প্রার্থীই ১১ দলীয় জোটের অন্তর্ভুক্ত।

তারা হলেন- জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত প্রার্থী ও জেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট মাসুদ পারভেজ রাসেল, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ মনোনীত প্রার্থী ও জেলা সভাপতি হাসানুজ্জামান সজিব, একই দলের জেলা সহ-সভাপতি জহুরুল ইসলাম আজিজি, এবি পার্টির মনোনীত প্রার্থী ও কেন্দ্রীয় যুগ্ম সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল মামুন এবং এনসিপি মনোনীত প্রার্থী ও কেন্দ্রীয় যুগ্ম সদস্য সচিব মোল্লা মো. ফারুক এহসান।

৫ আগস্টের পর থেকে এ আসনে জামায়াত মাসুদ পারভেজ রাসেলকে প্রার্থী ঘোষণা করে গণসংযোগ শুরু করে। এ আসনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটের প্রার্থীদের মধ্যে জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী মাসুদ পারভেজ রাসেল ভোটের প্রচারণায় এগিয়ে রয়েছেন।

এরপর ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী হাসানুজ্জামান সজিবের অবস্থান, তারপর এবি পার্টির আব্দুল্লাহ আল মামুন, এরপর জহুরুল ইসলাম আজিজি এবং সর্বশেষ এনসিপির মোল্লা মো. ফারুক এহসানের অবস্থান।

মোল্লা মো. ফারুক এহসানের অবস্থান সর্বশেষ হওয়ার বিষয়ে এ আসনের ভোটারদের অভিমত— এনসিপি একটি নতুন দল। দলটিকে এগিয়ে নেওয়ার জন্য উপজেলা, ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায়ে অদ্যাবধি কোনো কার্যক্রম গড়ে ওঠেনি।

চুয়াডাঙ্গা-১ আসনটি তিতুদহ, বেগমপুর, নবগঠিত গড়াইটুপি ও নেহালপুর বাদে চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার ৬টি এবং আলমডাঙ্গা উপজেলার ১৫টি ইউনিয়নসহ মোট ২১টি ইউনিয়ন, ২টি পৌরসভা ও ২টি থানা নিয়ে গঠিত। আসনটির বর্তমান ভোটার সংখ্যা ৫ লাখ ৭ হাজার ৪৮১ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ২ লাখ ৫১ হাজার ৯৭১ জন, মহিলা ভোটার ২ লাখ ৫৫ হাজার ৫০৩ জন এবং হিজড়া ভোটার ৭ জন।

১৫টি ইউনিয়নের মধ্যে সদর উপজেলার পদ্মবিলা ও মাখালডাঙ্গা— এই ২টি ইউনিয়নে এনসিপির কমিটি থাকলেও কোনো কার্যক্রম নেই। জেলায় চুয়াডাঙ্গা শহরে একটি অফিস রয়েছে, তাও একজন ব্যক্তির নামে। এছাড়া পুরো আসনে এনসিপির ভোট করার মতো কোনো কার্যক্রম চোখে পড়েনি।

আলমডাঙ্গা বৈষম্যবিরোধী ছাত্রনেতা আরাফাত রহমান বলেন, আলমডাঙ্গার ১৫টি ইউনিয়ন ও ১টি পৌর এলাকার মধ্যে কোনো অফিস নেই এবং কোনো দৃশ্যমান কাজও নেই।

এনসিপির সদর উপজেলা প্রধান সমন্বয়কারী মিজানুর রহমান টিটন বলেন, জুলাই বিপ্লবের ২ বছর অতিবাহিত হলেও ফারুক মোল্লা চুয়াডাঙ্গাবাসীর জন্য কিছু করেননি। চুয়াডাঙ্গা জেলায় ১০০ জনও তাকে চেনে না।

এনসিপির সাবেক জেলা ১নং যুগ্ম সমন্বয়কারী আমির হোসেন সমির বলেন, মাসুদ পারভেজ রাসেল বর্তমানে জনগণের ভালোবাসায় সিক্ত। তিনি আরও বলেন, ফারুক মোল্লাকে কেউ চেনে না বা জানে না। তাকে দিয়ে ভোট করালে এই আসনটি জোট হারাবে। তিনি যেহেতু ঢাকায় থাকেন, ঢাকার যেকোনো আসনে নির্বাচন করুক— এখানে না আসাই জেলার জন্য উত্তম হবে।

এদিকে আলমডাঙ্গা পৌর এলাকার বাসিন্দা আমান উদ্দিন বলেন, ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের পর তিনি একবার এলাকায় এসেছিলেন। ২৯ ডিসেম্বর ৪-৫ জনকে নিয়ে তিনি মনোনয়ন জমা দেন। এরপর আর কোনো ভোটের কার্যক্রম পরিলক্ষিত হয়নি। এনসিপির ১০০ থেকে ১৫০ জন ভোটার থাকতে পারে। তার জন্য এ আসন ছেড়ে দিয়ে আসন হারানো জোটের জন্য ঠিক হবে না।

আলমডাঙ্গার শিক্ষক ইবরুল হোসেন ও সুজন আহমেদ বলেন, নতুন দল হিসেবে সারা দেশে কার্যক্রম থাকলেও আলমডাঙ্গায় এখনো কার্যক্রম শুরু হয়নি।

এদিকে এনসিপির মনোনীত প্রার্থী ও দলের কেন্দ্রীয় যুগ্ম সদস্য সচিব মোল্লা মো. ফারুক এহসান বলেন, চুয়াডাঙ্গার মানুষের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো কর্মসংস্থান ও চাকরি সৃষ্টি। আমি নির্বাচিত হলে চুয়াডাঙ্গায় একটি এক্সপোর্ট প্রসেসিং জোন (ইপিজেড) প্রতিষ্ঠার জন্য কাজ করব। এছাড়া মংলা সমুদ্রবন্দর এখন কার্যকর হওয়ায় রপ্তানিমুখী শিল্প প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে দেশ-বিদেশে প্রচারণা চালাব।

তিনি স্বীকার করেন, চুয়াডাঙ্গা-১ আসনে তার একটি অফিস আছে। জনবল ও কার্যক্রম না থাকলেও তিনি জামায়াতের ওপর ভরসা করে নির্বাচন করতে চান।

অপরদিকে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত প্রার্থী ও জেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি মাসুদ পারভেজ রাসেলের জনপ্রিয়তা এই আসনে তুঙ্গে বলে দাবি করছেন স্থানীয়রা। তাদের মতে, বিএনপি মনোনীত প্রার্থী শরীফুজ্জামান শরীফের সঙ্গে তার হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হওয়ার জোরালো সম্ভাবনা রয়েছে।

দীর্ঘদিন পর সাধারণ জনগণ ভোটাধিকার প্রয়োগের অপেক্ষায় থাকায় আসন্ন নির্বাচন নিয়ে এলাকায় বাড়তি আগ্রহ দেখা যাচ্ছে।

চুয়াডাঙ্গা-১ আসনের জামায়াতের নির্বাচন পরিচালক নূর মোহাম্মদ হোসাইন টিপু জানান, এ আসনে ১৭৯টি ভোটকেন্দ্রের বিপরীতে জামায়াতের ১৮ হাজার ৯০০ জন ভোটার কর্মী রয়েছে। এর বাইরেও জামায়াতের কর্মীরা ভোট সংগ্রহের কাজ করছেন।

নীলমণিগঞ্জ বাজারের ব্যবসায়ী ইসাহাক মালিক বলেন, “জোট প্রার্থী হিসেবে আমরা অ্যাডভোকেট মাসুদ পারভেজ রাসেলকেই চাই। মোল্লা ফারুকের এখানে কোনো জনপ্রিয়তা নেই। তাকে মনোনয়ন দিলে জোট প্রার্থীদের হার নিশ্চিত।”

আরেক ব্যবসায়ী কামরুল হাসান বলেন, “দীর্ঘ ১৭ বছর এই জনপদে আমরা দুর্ভোগ ও নির্যাতনের শিকার হয়েছি। সেই অবস্থা আর চাই না। এই আসনে জয়লাভ করতে হলে জামায়াত মনোনীত প্রার্থীকেই জোটের প্রার্থী করা উচিত। মোল্লা ফারুক এহসানকে এখানকার মানুষ তেমন চেনেন না। শেষ সময়ে এসে বিকল্প চিন্তা না করাই ভালো।”

জামায়াত মনোনীত প্রার্থী অ্যাডভোকেট মাসুদ পারভেজ রাসেল জানান, যদি ১৯৯১ সালের মতো নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়, তাহলে মানুষের মধ্যে স্বস্তি ফিরে আসবে। কয়েকটি নির্বাচনে আওয়ামী লীগ জুলুমতন্ত্র কায়েম করেছিল। জুলাই বিপ্লবের পর সন্ত্রাস ও দুর্নীতিমুক্ত নির্বাচনের জন্য এ অঞ্চলের মানুষ মুখিয়ে আছে। সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা কৃষি, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার উন্নয়ন। নতুন ভোটাররা ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী হিসেবে দাঁড়িপাল্লা মার্কায় ভোট দেওয়ার অপেক্ষায় আছেন। যেখানে যাচ্ছি, সেখানেই আমরা সাড়া পাচ্ছি।

সব মিলিয়ে, চুয়াডাঙ্গা-১ আসনে জামায়াত ও বিএনপির পাশাপাশি ইসলামী আন্দোলন গণসংযোগ করলেও আমার বাংলাদেশ পার্টি ও এনসিপির নির্বাচনী কার্যক্রম এখনো দৃশ্যমান নয়।

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

মন্তব্য করুন

X