

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


নেত্রকোনার খালিয়াজুরীতে আওয়ামী লীগ নেতা হিসেবে দেখিয়ে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর এক কর্মীকে গ্রেফতারের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনাকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত, রাজনৈতিক প্রতিহিংসামূলক ও নির্বাচনকে প্রভাবিত করার অপচেষ্টা বলে দাবি করেছে জামায়াতে ইসলামী।
গ্রেফতার হওয়া ব্যক্তির নাম মোহাম্মদ রোমান মিয়া (২৫)। তিনি খালিয়াজুরী উপজেলার গাজীপুর ইউনিয়নের পাঁচহাট গ্রামের সাহেব আলীর ছেলে এবং স্থানীয় পাঁচহাট বাজারে অবস্থিত ‘বিসমিল্লাহ মেডিকেল হল’ (ফার্মেসি)-এর স্বত্বাধিকারী।
গতকাল বুধবার (৩১ ডিসেম্বর) সন্ধ্যা আনুমানিক ৬টার দিকে তার নিজ ব্যবসা প্রতিষ্ঠান থেকে খালিয়াজুরী থানা পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে।
জামায়াতের পক্ষ থেকে জানানো হয়, রোমান মিয়া ২০২৪ সালের ৯ ডিসেম্বর আনুষ্ঠানিকভাবে জামায়াতে ইসলামীতে যোগদান করেন। অথচ তাকে এমন একটি রাজনৈতিক মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়েছে, যা দায়ের করা হয় ২০২৫ সালের ২ জুলাই আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে। ওই মামলার এজাহারে তার নাম নেই বলেও দাবি করেছে জামায়াত।
খালিয়াজুরী উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির মাওলানা ইসমাইল হোসেন এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে অভিযোগ করে বলেন, জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে জামায়াতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখায় এবং মাঠপর্যায়ে সক্রিয় থাকায় রোমান মিয়াকে টার্গেট করা হয়েছে। জনগণের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করে একটি বিশেষ দলকে সুবিধা করে দিতেই তাকে আওয়ামী লীগের লোক দেখিয়ে গ্রেফতার করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন,২৪-এর জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পরও যদি জামায়াতের কর্মীদের এভাবে মিথ্যা মামলায় গ্রেফতার করা হয়, তাহলে প্রশাসনের নিরপেক্ষতা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন উঠবে। পুলিশ প্রশাসন যদি দলীয় ভূমিকা পালন করে, তবে আগামী নির্বাচন ফ্যাসিস্ট হাসিনার সময়কার নির্বাচনের মতোই প্রশ্নবিদ্ধ হবে এবং প্রশাসন তাদের গ্রহণযোগ্যতা হারাবে।
এ ঘটনায় অবিলম্বে রোমান মিয়ার নিঃশর্ত মুক্তি দাবি করে তিনি পুলিশ প্রশাসনকে দলীয় পক্ষপাতিত্ব থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানান।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে খালিয়াজুরী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ নাসির উদ্দীন গ্রেফতারের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন,২০২৫ সালের একটি রাজনৈতিক মামলায় তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
তবে জামায়াতের দাবি, মামলার সঙ্গে গ্রেফতারকৃত ব্যক্তির কোনো সংশ্লিষ্টতা না থাকায় এটি স্পষ্টতই রাজনৈতিক হয়রানি। বিষয়টি নিয়ে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা ও রাজনৈতিক উত্তেজনা বিরাজ করছে।
মন্তব্য করুন
