

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


সাংবাদিকদের সঙ্গে তীব্র ও আক্রমণাত্মক বক্তব্যের জন্য পরিচিত হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লিভিট দায়িত্ব ছাড়ছেন। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বুধবার (১০ আগস্ট) এ ঘোষণা দিয়েছেন। তবে পদ ছাড়লেও তিনি ট্রাম্পের উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।
মাত্র ২৮ বছর বয়সে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেস সেক্রেটারি হিসেবে দায়িত্ব নিয়ে লিভিট এ পদে বসা সবচেয়ে কম বয়সী ব্যক্তি হন। ট্রাম্পের প্রতি দৃঢ় আনুগত্যের জন্যও তিনি পরিচিত ছিলেন। প্রায়ই উত্তপ্ত হয়ে ওঠা সংবাদ সম্মেলনে সাবলীল ও আক্রমণাত্মক বক্তব্যের মাধ্যমে তিনি প্রেসিডেন্টের অবস্থান তুলে ধরতেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প বলেন, হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি এবং তার অন্যতম বিশ্বস্ত সহযোগী লিভিট চলতি মাসের শেষে দায়িত্ব ছাড়বেন। পরিবারের সঙ্গে, বিশেষ করে তার ছোট সন্তানদের সঙ্গে আরও বেশি সময় কাটাতেই তিনি এ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে জানান ট্রাম্প।
ট্রাম্প আরও জানান, দায়িত্ব ছাড়ার পর লিভিট তার অন্যতম প্রধান ‘আউটসাইড অ্যাডভাইজার’ হিসেবে কাজ করবেন এবং রিপাবলিকান পার্টির ভেতরে প্রভাবশালী কণ্ঠস্বর হিসেবে ভূমিকা রাখবেন।
গত মে মাসে লিভিট তার দ্বিতীয় সন্তানের জন্মের কথা জানান। মেয়েটির নাম ভিভিয়ানা। এর আগে একটি কথিত হত্যাচেষ্টার ঘটনার পরও তিনি মাতৃত্বকালীন ছুটি পিছিয়ে দায়িত্বে ছিলেন। হোয়াইট হাউস করেসপন্ডেন্টস ডিনারে এক বন্দুকধারী ঢোকার চেষ্টা করার পর ওই ঘটনার সূত্রপাত হয়।
মাতৃত্বকালীন ছুটি শেষে হোয়াইট হাউসে ফেরার কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই তার পদ ছাড়ার ঘোষণা আসে। পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিভিট বলেন, প্রেসিডেন্টের হয়ে হোয়াইট হাউসের পডিয়াম থেকে কথা বলার সুযোগ তার জন্য বিশেষ সম্মানের।
লিভিট আরও বলেন, উদারপন্থী গণমাধ্যমকে জবাবদিহির মধ্যে আনা এবং ট্রাম্প প্রশাসনের সাফল্য সম্পর্কে মার্কিন জনগণকে জানাতে পেরে তিনি আনন্দিত। তবে দ্বিতীয় সন্তানের জন্মের পর হোয়াইট হাউসে ফিরে এসে তিনি উপলব্ধি করেন, প্রেস সেক্রেটারি হিসেবে প্রয়োজনীয় সময় দেওয়ার পাশাপাশি দুই সন্তানের জন্য প্রয়োজনীয় সময় দেওয়া তার পক্ষে কঠিন হয়ে পড়ছে।
ট্রাম্পের সঙ্গে লিভিটের সম্পর্ক দীর্ঘদিনের। ২০২১ সালে শেষ হওয়া ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদেও তিনি প্রেস অফিসে কাজ করেছেন। পরে ২০২৪ সালের নির্বাচনী প্রচারে ট্রাম্পের মুখপাত্র হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
প্রেস সেক্রেটারি হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর লিভিট নিয়মিত হোয়াইট হাউস ব্রিফিং আবারও সক্রিয় করেন। ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে এসব ব্রিফিংয়ের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গিয়েছিল। তবে তার সময়ে হোয়াইট হাউস ও সাংবাদিকদের যোগাযোগের ধরনেও বড় পরিবর্তন আসে।
২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে লিভিট ঘোষণা দেন, ওভাল অফিস ও এয়ার ফোর্স ওয়ানে ট্রাম্পের কাছাকাছি থেকে সংবাদ সংগ্রহের সুযোগ কোন সাংবাদিকরা পাবেন, তা স্বাধীন সংবাদদাতা সংগঠন নয়, হোয়াইট হাউস নিজেই নির্ধারণ করবে। একই সময়ে ডানপন্থী ও ট্রাম্পপন্থী গণমাধ্যমগুলোকেও সংবাদ সংগ্রহের অনুমতিপত্র পেতে সহায়তা করা হয়। এর ফলে ব্রিফিং কক্ষে প্রচলিত সংবাদমাধ্যমের উপস্থিতি কমে যায় বলে সমালোচনা ওঠে।
নিউ হ্যাম্পশায়ারে বেড়ে ওঠা লিভিটের পরিবার সেখানে একটি আইসক্রিমের দোকান চালাত। বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময় ২০১৭ সালে একটি পত্রিকায় চিঠি লিখে তিনি আলোচনায় আসেন। একটি ক্লাসে অধ্যাপক ট্রাম্পের সমালোচনা করায় তার প্রতিবাদেই ওই চিঠি লিখেছিলেন তিনি।
২০২০ সালের নির্বাচনে ট্রাম্পের পরাজয়ের পর ২০২২ সালে নিউ হ্যাম্পশায়ার থেকে কংগ্রেসের একটি আসনে নির্বাচন করেন লিভিট। তবে সেই নির্বাচনে তিনি পরাজিত হন। তার প্রচারের মূল বিষয় ছিল ট্রাম্পের প্রতি সমর্থন এবং আগ্নেয়াস্ত্র রাখার অধিকারের পক্ষে অবস্থান।
এরপর ২০২৪ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনী প্রচারে টেলিভিশন বিতর্ক ও বিভিন্ন অনুষ্ঠানে ট্রাম্পের পক্ষে দৃঢ় অবস্থান নিয়ে তার প্রশংসা অর্জন করেন লিভিট।
রাজনীতিতে নিজের ভবিষ্যৎ নিয়েও ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি। লিভিটের ভাষায়, যুক্তরাষ্ট্র ক্রমবর্ধমান উগ্রপন্থী ডেমোক্রেটিক পার্টির অস্তিত্বগত হুমকির মুখে রয়েছে এবং দলটি আমেরিকার গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো ধ্বংস করতে চায়।
তিনি আরও বলেন, তার রাজনৈতিক লড়াই নতুন পর্যায়ে প্রবেশ করছে, তবে সেই লড়াই এখনো শেষ হয়নি।

