

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


সৌদি আরবের আবহা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠী হুথি। সংগঠনটি দাবি করেছে রাজধানী সানার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হামলার জবাবে সৌদির এই বিমানবন্দরে হামলা করা হয়েছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোর মধ্যে দুই পক্ষের সম্পর্কের ক্ষেত্রে এটিকে অন্যতম বড় উত্তেজনাপূর্ণ ঘটনা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
বার্তা সংস্থা এপির তথ্য অনুযায়ী, সোমবার (১৩ জুলাই) সানার বিমানবন্দরে হামলার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই আবহা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর লক্ষ্য করে এ হামলা চালানোর দাবি জানায় হুথিরা। তবে তাৎক্ষণিকভাবে হতাহতের কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। এ ঘটনায় সৌদি কর্তৃপক্ষও তাৎক্ষণিক কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানায়নি।
হুথিদের সামরিক মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ইয়াহিয়া সারি টেলিগ্রামে প্রকাশিত এক ভিডিও বার্তায় আন্তর্জাতিক বিমান সংস্থাগুলোকে সৌদি আরবের আকাশসীমা ব্যবহারে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান। তার দাবি, সানার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ওপর আরোপিত অবরোধ প্রত্যাহার না হওয়া পর্যন্ত এ সতর্কতা বহাল থাকবে।
এর আগে ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকার জানিয়েছিল, সানার বিমানবন্দরে হামলার উদ্দেশ্য ছিল একটি ইরানি উড়োজাহাজের অবতরণ ঠেকানো। ওই ঘটনার পরই পাল্টা জবাব দেওয়ার ঘোষণা দেয় হুথিরা।
পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছে জাতিসংঘও। সোমবার অনুষ্ঠিত নিরাপত্তা পরিষদের জরুরি বৈঠকে জাতিসংঘের রাজনৈতিকবিষয়ক সহকারী মহাসচিব খালেদ খিয়ারি বলেন, ইয়েমেন ও পুরো মধ্যপ্রাচ্য আরেকটি বড় সংঘাতের ঝুঁকি বহন করতে পারবে না। তিনি সংকট নিরসনে জাতিসংঘের তত্ত্বাবধানে সংলাপে অংশ নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের প্রতি আহ্বান জানান।
হুথিদের পক্ষ থেকে আরও বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক সৌদি বিমান হামলার মাধ্যমে উত্তেজনা প্রশমনের সময় শেষ হয়েছে। ইয়াহিয়া সারি সতর্ক করে বলেন, এই হামলার জবাব দেওয়া হবে। পরে দেওয়া আরেক বিবৃতিতে তিনি অভিযোগ করেন, সানার বিমানবন্দরে হামলার ফলে রোগী ও আটকে পড়া মানুষের জন্য পরিচালিত মানবিক ফ্লাইটও বাধাগ্রস্ত হয়েছে।
উল্লেখ্য, ২০১৪ সালে হুথিরা রাজধানী সানা ও উত্তর ইয়েমেনের বিস্তীর্ণ এলাকা দখলের পর দেশটিতে গৃহযুদ্ধ শুরু হয়। পরের বছর আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারকে পুনর্বহালের লক্ষ্যে সৌদি আরবের নেতৃত্বে সামরিক জোট অভিযান শুরু করে, যাতে সংযুক্ত আরব আমিরাতও অংশ নেয়। যদিও চলতি বছরের শুরুতে কৌশলগত মতপার্থক্যের জেরে ইয়েমেনে সামরিক উপস্থিতি থেকে সরে যায় আরব আমিরাত।
এদিকে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের মুখপাত্র মেজর জেনারেল তুর্কি আল-মালকি জানিয়েছেন, হুথিদের ছোড়া একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র দক্ষিণাঞ্চলে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সফলভাবে প্রতিহত করেছে। তবে এ বিষয়ে তিনি বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করেননি।