

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সাম্প্রতিক কূটনৈতিক অগ্রগতির ধারাবাহিকতায় আজ (রোববার) সুইজারল্যান্ডে দুই দেশের প্রতিনিধিদের মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ কারিগরি পর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। বহুল আলোচিত ‘ইসলামাবাদ সমঝোতা স্মারক’ স্বাক্ষরের পর এটিই হতে যাচ্ছে উভয় পক্ষের পরবর্তী আনুষ্ঠানিক আলোচনা।
পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় শনিবার এক বিবৃতিতে জানায়, সুইজারল্যান্ডের বার্গেনস্টকে অনুষ্ঠিতব্য এই বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের প্রতিনিধিদের পাশাপাশি মধ্যস্থতাকারী হিসেবে পাকিস্তান ও কাতারের কর্মকর্তারাও উপস্থিত থাকবেন। আলোচনার মূল লক্ষ্য হবে সমঝোতা স্মারকের বিভিন্ন দিক বাস্তবায়নের উপায় এবং ভবিষ্যৎ কূটনৈতিক অগ্রগতির পথ নির্ধারণ।
কূটনৈতিক সূত্রগুলো বলছে, ইসলামাবাদে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারককে দুই দেশের মধ্যে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার একটি প্রাথমিক পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে এখনো কোনো স্থায়ী শান্তিচুক্তি বা পূর্ণাঙ্গ সমঝোতা হয়নি। সে কারণে পরবর্তী সময়ে সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় দুই দেশের উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তাদের সরাসরি বৈঠকের সম্ভাবনাও আলোচনায় রয়েছে।
তবে আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি এই কূটনৈতিক প্রচেষ্টাকে জটিল করে তুলতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। বিশেষ করে লেবাননকে ঘিরে চলমান সামরিক উত্তেজনা এবং মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিতিশীল পরিস্থিতি আলোচনার অগ্রগতিতে প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
এরই মধ্যে নতুন করে আলোচনায় এসেছে হরমুজ প্রণালি। ইরান অভিযোগ করেছে, যুদ্ধবিরতি সংক্রান্ত সমঝোতা যথাযথভাবে মানা হয়নি এবং যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল চুক্তির শর্ত লঙ্ঘন করেছে। এমন অভিযোগের প্রেক্ষাপটে শনিবার দেশটি কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিতে চলাচল সীমিত করার ঘোষণা দেয়।
ইরানের সামরিক কমান্ডের কেন্দ্রীয় সদর দপ্তর খাতাম আল-আনবিয়া এক বিবৃতিতে জানায়, বর্তমান পদক্ষেপকে তারা ‘প্রাথমিক প্রতিক্রিয়া’ হিসেবে বিবেচনা করছে। পরিস্থিতির আরও অবনতি হলে অতিরিক্ত ব্যবস্থা নেওয়ারও ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে আলোচনার ব্যাপারে ইতিবাচক অবস্থানের আভাস পাওয়া গেছে। মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স জানিয়েছেন, তিনি নিজেও শিগগিরই সুইজারল্যান্ডে অনুষ্ঠিতব্য আলোচনায় অংশ নিতে পারেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, ১৪ দফা ভিত্তিক যে যুদ্ধবিরতি কাঠামো নিয়ে আলোচনা চলছে, তা শেষ পর্যন্ত টেকসই সমাধানের পথ তৈরি করবে।
তবে হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে সৃষ্ট নতুন পরিস্থিতি নিয়ে ভ্যান্স প্রকাশ্যে কোনো মন্তব্য করেননি। ফলে মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনাপূর্ণ বাস্তবতার মধ্যেই আজকের বৈঠক কতটা ফলপ্রসূ হবে, সেদিকে আন্তর্জাতিক মহলের দৃষ্টি নিবদ্ধ রয়েছে।
