

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


যুক্তরাষ্ট্র–ভারত সম্পর্ককে বিব্রত করার এক হত্যাচক্রান্ত মামলায় ভারতীয় নাগরিক নিখিল গুপ্ত তার ভূমিকা স্বীকার করেছেন। ২০২৩ সালে ব্যর্থ হওয়া এই হত্যাচক্রান্তে লক্ষ্যবস্তু ছিলেন নিউ ইয়র্কে বসবাসরত মার্কিন নাগরিকত্বধারী শিখ কর্মী গুরপতবন্ত সিং পান্নুন।
শুক্রবার নিউ ইয়র্কের একটি ফেডারেল আদালতে হাজির হয়ে পান্নুনকে হত্যার পরিকল্পনার সঙ্গে জড়িত তিনটি অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন ৫৪ বছর বয়সী নিখিল গুপ্ত। পান্নুন প্রকাশ্যে ভারতের পাঞ্জাব রাজ্যে স্বাধীন শিখ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পক্ষে দীর্ঘদিন কাজ করে আসছিলেন।
২০২৩ সালের জুনে চেক প্রজাতন্ত্রে গ্রেপ্তার হওয়ার পর গুপ্তকে যুক্তরাষ্ট্রে প্রত্যর্পণ করা হয়। দোষ স্বীকারের ফলে তিনি সরাসরি বিচারের সম্মুখীন হননি, যদিও মামলাটি যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার সঙ্গে ভারতের সম্পর্ককে উত্তেজনাপূর্ণ করে তোলে।
মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, গুপ্ত এমন একটি দলের অংশ ছিলেন, যারা ভারত সরকারের সঙ্গে সমন্বয়ে বিদেশে শিখ বিচ্ছিন্নতাবাদীদের লক্ষ্যবস্তু করছিল। এর মধ্যে কানাডার পশ্চিমাঞ্চলে ২০২৩ সালের জুনে হারদীপ সিং নিজ্জারকে শিখ মন্দিরের বাইরে মুখোশধারী বন্দুকধারীদের গুলিতে হত্যা করার ঘটনাও অন্তর্ভুক্ত।
যুক্তরাষ্ট্রের অভিযোগ, ভারতীয় পররাষ্ট্র গোয়েন্দা সংস্থার কর্মকর্তা বিকাশ যাদবের নির্দেশে গুপ্ত পান্নুনকে হত্যার জন্য একজন ভাড়াটে খুনি নিয়োগ করেছিলেন। যাদব এই মামলায় অভিযুক্ত থাকলেও তিনি ভারতে অবস্থান করছেন। যুক্তরাষ্ট্রে আনার পর থেকে গুপ্ত জামিন ছাড়াই আটক আছেন এবং কয়েক দশক কারাদণ্ড ভোগ করতে পারেন।
মামলার নথি অনুযায়ী, যাদব ভারতের মন্ত্রিপরিষদ সচিবালয়ে কর্মরত অবস্থায় হত্যার ষড়যন্ত্র পরিচালনা করেছিলেন। অভিযোগে বলা হয়েছে, গুপ্তকে ভাড়াটে খুন নিয়োগ করার নির্দেশ দেন যাদব। তাঁদের বিরুদ্ধে ভাড়াটে খুন, হত্যার ষড়যন্ত্র এবং অর্থপাচারের ষড়যন্ত্রের অভিযোগ আনা হয়।
শুক্রবার আদালতে শুনানিতে প্রমাণ হিসেবে টেক্সট বার্তা, ফোন কল এবং এক আন্ডারকভার এজেন্টের সাক্ষ্য উপস্থাপন করা হয়, যিনি নিজেকে ভাড়াটে খুনি হিসেবে পরিচয় দিয়ে ১৫ হাজার ডলার গ্রহণ করেছিলেন। ম্যাজিস্ট্রেট বিচারক সারাহ নেটবার্ন-এর সামনে লিখিত বিবৃতিতে গুপ্ত বলেন, ২০২৩ সালের বসন্তে তিনি একজনকে হত্যায় সম্মত হয়েছিলেন। বিচারক জিজ্ঞেস করলে, তিনি স্বীকার করেন, এজন্য ১৫ হাজার ডলার প্রদান করা হয়েছে।
এদিকে কানাডীয় নাগরিকত্বধারী পান্নুন এই মামলাকে ভারতের সীমান্তপারের সন্ত্রাসবাদের উদাহরণ বলে উল্লেখ করেছেন এবং যুক্তরাষ্ট্রের সার্বভৌমত্ব ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতার জন্য হুমকি হিসেবে বিবেচনা করেছেন। ভারত পান্নুনকে সন্ত্রাসী ঘোষণা করেছে এবং তার সংগঠনকে নিষিদ্ধ করেছে।
২০২৩ সালে এই অভিযোগ প্রকাশিত হওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্র ও ভারতের সম্পর্ক জটিল হয়ে পড়ে। চীনকে মোকাবিলায় ভারতকে ঘনিষ্ঠ মিত্র হিসেবে দেখতে চাওয়া বাইডেন প্রশাসনের কূটনৈতিক প্রচেষ্টায় প্রভাব পড়ে। ডোনাল্ড ট্রাম্পের আমলেও দুই দেশের সম্পর্ক মাঝে মাঝে টানাপোড়েনের মধ্য দিয়ে গেছে, যদিও সম্প্রতি শুল্ক সংক্রান্ত উত্তেজনা কমাতে সমঝোতা হয়েছে।
কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি আগামী সপ্তাহগুলোতে ভারত সফর করতে পারেন। তাঁর পূর্বসূরি জাস্টিন ট্রুডো নিজ্জার হত্যাকাণ্ডে ভারতের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ তুলেছিলেন, যা ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি অযৌক্তিক বলে প্রত্যাখ্যান করেন।
যুক্তরাষ্ট্রের অভিযোগ অনুযায়ী, গুপ্ত নিজ্জার হত্যার পর পান্নুনকে হত্যার পরিকল্পনা ত্বরান্বিত করার বার্তা পাঠিয়েছিলেন এবং নিহত কানাডীয় কর্মীর ভিডিওও কথিত ভাড়াটে খুনির কাছে পাঠিয়েছিলেন। কানাডীয় পুলিশ পরে অভিযোগ বিস্তৃত করে জানিয়েছে, শিখ কর্মীদের বিরুদ্ধে সহিংসতা, ভয়ভীতি ও চাঁদাবাজির ষড়যন্ত্রে ভারতীয় কর্মকর্তারা জড়িত ছিলেন। নিজ্জার হত্যার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট চার ভারতীয় নাগরিক এখনও ব্রিটিশ কলাম্বিয়ায় বিচারের অপেক্ষায় রয়েছেন।
বাণিজ্যকেন্দ্রিক বাস্তববাদী পররাষ্ট্রনীতির অংশ হিসেবে কার্নির নেতৃত্বে কানাডা ও ভারত কূটনৈতিক সম্পর্ক পুনঃস্থাপন করেছে এবং বাণিজ্য আলোচনা পুনরায় শুরু হয়েছে। ভারত কানাডার অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে, তবে যুক্তরাষ্ট্রের দাবির বিষয়ে অভ্যন্তরীণ তদন্তে বলা হয়েছে, অভিযোগিত চক্রান্তটি ‘অসংযত ভারতীয় এজেন্টদের’ দ্বারা পরিচালিত হয়েছিল।
মন্তব্য করুন
