

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যে বাবার বাড়িতে বেড়াতে গিয়ে গুলিতে প্রাণ হারিয়েছেন এক ব্রিটিশ তরুণী। স্থানীয় পুলিশ ও আদালত সূত্রে জানা গেছে, নিহত তরুণীর সঙ্গে তার বাবার রাজনৈতিক মতবিরোধ থেকে ঘটনার সূত্রপাত হতে পারে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি নিউজ এ তথ্য জানিয়েছে।
নিহত তরুণীর নাম লুসি হ্যারিসন (২৩)। তিনি যুক্তরাজ্যের চেশায়ারের ওয়ারিংটনের বাসিন্দা। গত ১০ জানুয়ারি ডালাসের কাছের প্রস্পার এলাকায় বাবার বাড়িতে তাকে বুকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় উদ্ধার করে পুলিশ।
লুসির প্রেমিক স্যাম লিটলার আদালতে জানান, ঘটনার দিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদকে কেন্দ্র করে লুসি ও তার বাবার মধ্যে তীব্র তর্ক হয়। ওই সময় ট্রাম্পের অভিষেক ঘিরে রাজনৈতিক আলোচনা চলছিল।
পুলিশের নথি অনুযায়ী, লুসির বাবা ক্রিস হ্যারিসন আগ্নেয়াস্ত্র বহন করতেন, যা নিয়ে লুসি প্রায়ই আপত্তি তুলতেন। লুসির পরিবার জানিয়েছে, ছোটবেলায় বাবার অতিরিক্ত মদ্যপানের কারণে তিনি যুক্তরাজ্য ছেড়ে যুক্তরাষ্ট্রে চলে যান—এই বিষয়টি নিয়েও বাবা-মেয়ের সম্পর্ক ছিল টানাপোড়েনপূর্ণ।
ঘটনার দিন ক্রিস হ্যারিসন প্রায় আধা লিটার সাদা ওয়াইন পান করেছিলেন বলে আদালতে জানানো হয়। একপর্যায়ে রাজনৈতিক তর্কের সময় লুসি তার বাবাকে যৌন সহিংসতা সংক্রান্ত একটি কাল্পনিক পরিস্থিতি সামনে এনে প্রশ্ন করেন, যা নিয়ে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
আদালতে দেওয়া বক্তব্যে ক্রিস হ্যারিসন বলেন, তিনি মদ্যপ অবস্থায় আবেগের নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেছিলেন। পরে তিনি নিজের দোষ স্বীকার করেন।
ঘটনার সময় লুসি রান্নাঘরে ছিলেন। সাক্ষ্য অনুযায়ী, বাবা তাকে হাত ধরে বাড়ির নিচতলার একটি কক্ষে নিয়ে যান। কিছুক্ষণ পর একটি গুলির শব্দ শোনা যায়। ঘরে ঢুকে লুসির প্রেমিক তাকে মেঝেতে পড়ে থাকতে দেখেন। পাশে ছিলেন তার বাবা, যিনি কান্নায় ভেঙে পড়েছিলেন।
আদালতের শুনানিতে লুসির মা বলেন, তার মেয়ে ছিলেন সহানুভূতিশীল ও চিন্তাশীল মানুষ। সামাজিক ও রাজনৈতিক বিষয় নিয়ে আলোচনা করতে তিনি আগ্রহী ছিলেন এবং অন্যায়ের বিরুদ্ধে নিজের মত প্রকাশ করতেন।
ঘটনাটি যুক্তরাষ্ট্রে আগ্নেয়াস্ত্রের সহজলভ্যতা এবং পারিবারিক সহিংসতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে বলে মন্তব্য করেছেন মানবাধিকারকর্মীরা।
মন্তব্য করুন

