

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


ইসরায়েলি বাহিনীর হাতে আটক হওয়ার পর ভয়াবহ নির্যাতনের অভিযোগ তুলেছেন গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলা-এর কয়েকজন অধিকারকর্মী।
তাঁদের দাবি, আটক অবস্থায় ঘন্টার পর ঘণ্টা হাঁটু গেড়ে বসিয়ে রাখা, মারধর ও খাদ্য-পানীয় থেকে বঞ্চিত করার মতো নির্মম আচরণের শিকার হতে হয়েছে।
ইসরায়েলি নৌবাহিনী গাজামুখী এই ত্রাণবাহী ফ্লোটিলাটিকে আটকে দেয় গত সপ্তাহে। অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকার ওপর আরোপিত নৌ অবরোধ ভাঙার উদ্দেশ্যে ফ্লোটিলাটি রওনা দিয়েছিল।
এতে মানবাধিকার কর্মী, সাংবাদিক, রাজনীতিক ও জলবায়ু আন্দোলনকর্মীরা অংশ নেন। আটক ব্যক্তিদের মধ্যে প্রায় ৪৫০ জনকে গ্রেপ্তার করা হলেও পরবর্তীতে বেশ কয়েকজনকে ছেড়ে দেওয়া হয়।
‘শৌচাগারের পানি খেয়ে বেঁচে ছিলাম’
ইতালীয় সংবাদ সংস্থা এএনএসএ জানায়, মুক্তি পাওয়ার পর রোমে ফিরে এক কর্মী চেজারে তোফানি বলেন,
আমাদের সঙ্গে অমানবিক আচরণ করা হয়েছে। সৈন্যদের হেফাজতে রাখার পর পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়, সেখানে আরও হয়রানি করা হয়।
ইতালির ইসলামিক কমিউনিটিজ ইউনিয়নের প্রধান ইয়াসিন লাফরামও একই অভিযোগ তুলে বলেন,
তারা আমাদের ওপর অস্ত্র তাক করে রেখেছিল, ভীত করার চেষ্টা করেছে। নিজেদের গণতান্ত্রিক দেশ দাবি করলেও তাদের আচরণ ছিল একেবারে নিষ্ঠুর।
আরেক সাংবাদিক সাভেরিও তোমাসি জানান, আটক থাকা অবস্থায় কাউকে ওষুধ দেওয়া হয়নি, এমনকি অসুস্থ ব্যক্তিদের নিয়েও কৌতুক করা হয়েছে। তাঁর ভাষায়, আমাদের সঙ্গে পশুর মতো আচরণ করা হয়েছে।
ইতালীয় সাংবাদিক লরেনজো ডি’আগোস্তিনো বলেন,
তাঁর ব্যক্তিগত জিনিসপত্র ও অর্থ ইসরায়েলি বাহিনী নিয়ে নিয়েছে। আটক অবস্থায় কুকুর লেলিয়ে ভয় দেখানো এবং বন্দুকের লেজার লাইট চোখে ফেলে আতঙ্ক সৃষ্টি করার অভিযোগও করেন তিনি।
‘গ্রেটা থুনবার্গকেও টেনে নেওয়া হয়’
ফ্লোটিলায় থাকা অন্যান্য অধিকারকর্মীদের দাবি, জলবায়ু আন্দোলনকর্মী গ্রেটা থুনবার্গকেও ইসরায়েলি সেনারা টেনেহিঁচড়ে নিয়ে যায় এবং তাকে অপমানজনক আচরণের মুখোমুখি হতে হয়। একই সঙ্গে নেলসন ম্যান্ডেলার নাতি মান্ডলা ম্যান্ডেলাসহ কয়েকজন ইউরোপীয় আইনপ্রণেতাকেও মারধর করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
‘মাথা নিচু না রাখলে মারা হবে’
ইতালীয় নাগরিক পাওলো ডি মোনটিস জানান,
তারা আমাদের চোখ তুলে তাকাতে দেয়নি। একবার তাকানোর চেষ্টা করতেই আমার মাথার পেছনে আঘাত করে। ঘণ্টার পর ঘণ্টা হাঁটু গেড়ে থাকতে বাধ্য করেছে।
মালয়েশিয়ার গায়িকা হেলিজা হেলমি ও তাঁর বোন হাজওয়ানি হেলমিও একই অভিজ্ঞতার কথা জানান। হাজওয়ানি বলেন,
আমরা শৌচাগারের পানি খেয়ে বেঁচে ছিলাম। কেউ অসুস্থ হলে তারা বলত-‘মরে গেছে নাকি?’ এটা ছিল অমানবিকতার সীমা।
হেলিজা যোগ করেন, ‘১ অক্টোবরের পর তিন দিন আমি কিছু খেতে পারিনি। শুধু টয়লেটের পানি খেয়েছি।’
অভিযোগগুলো নিয়ে ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষের মধ্যে দেখা গেছে ভিন্ন অবস্থান। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, সব বন্দীর প্রতি ‘মানবিক আচরণ’ করা হয়েছে এবং অভিযোগগুলো মিথ্যা।
অন্যদিকে, চরম ডানপন্থী জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন-গভির প্রকাশ্যে বলেন,
আমি গর্বিত যে আমরা ফ্লোটিলা সদস্যদের সন্ত্রাসবাদী সমর্থক হিসেবে আচরণ করেছি। যারা হামাসের পক্ষে কাজ করে, তারা কোনো সৌজন্য পাওয়ার যোগ্য নয়।
তিনি আরও হুঁশিয়ারি দেন, ‘যারা ইসরায়েলের দিকে আসবে, তারা যেন আমাদের কারাগারের বাস্তবতা আগে জেনে নেয়।’
ঘটনাটির নিন্দা জানিয়েছে তুরস্ক, পাকিস্তান, কলম্বিয়াসহ একাধিক দেশ। গ্রিস লিখিত প্রতিবাদ জানিয়েছে ইসরায়েল সরকারকে। বিভিন্ন দেশে ইসরায়েলবিরোধী বিক্ষোভও ছড়িয়ে পড়েছে।
ইসরায়েলের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, আরও ২৯ জন ফ্লোটিলা কর্মীকে ফেরত পাঠানো হয়েছে, তবে অনেকেই এখনো সেখানে আটক আছেন।
মন্তব্য করুন
