

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকার সবচেয়ে বড় শহর গাজা সিটির প্রায় ৪০ শতাংশ এলাকা নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার কথা জানিয়েছে ইসরায়েলি সেনারা।
শুক্রবার (৫ সেপ্টেম্বর) শহরের কয়েকটি বহুতল ভবনে হামলা চালিয়ে অন্তত দুটি ভবন ধ্বংস করে তারা। এর মধ্যে একটি ছিল ১২ তলা এবং অন্যটি পাঁচতলা।
ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর মুখপাত্র জানিয়েছেন, তারা এখন গাজার প্রায় ৪০ শতাংশ এলাকা দখল করে রেখেছে। যুদ্ধ শুরুর আগে এখানে প্রায় ১০ লাখ মানুষ বসবাস করত। গত মাসের শুরুতে শহর দখলের ঘোষণা দেওয়ার পর ইসরায়েলি বাহিনী বিমান ও গোলা হামলার মাধ্যমে ধীরে ধীরে কেন্দ্রের দিকে অগ্রসর হয়।
শুক্রবার তারা "ম্যানেজমেন্ট অব মুশতাহা টাওয়ার" নামের একটি ভবনে হামলা চালায়। সেখানে বহু মানুষ আশ্রয় নিয়েছিলেন। হামলায় হতাহতের ঘটনা ঘটে। ইসরায়েলের দাবি, ভবনটিতে হামাস যোদ্ধারা অবস্থান করছিলেন। তবে টাওয়ার কর্তৃপক্ষ বলছে, সেখানে শুধু সাধারণ মানুষ ছিলেন, কোনো যোদ্ধা নয়।
এছাড়া শহরের আরেকটি পাঁচতলা ভবনের বাসিন্দাদের চলে যেতে নির্দেশ দিয়েছে ইসরায়েল। স্থানীয়দের অভিযোগ, ইতোমধ্যেই ভবনটির অংশবিশেষ বোমা হামলায় ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে।
গাজার স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্যমতে, শুক্রবারের হামলায় গাজা নগরীসহ পুরো উপত্যকায় অন্তত ৬৯ জন নিহত এবং ৪২২ জন আহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে শিশু ও নারীও রয়েছেন।
সামরিক বিশ্লেষক ইলাইজা ম্যাগনিয়ার আল-জাজিরাকে বলেন, ইসরায়েল তাদের সেনাদের ক্ষয়ক্ষতি কমানোর জন্য বহুতল ভবনকে প্রধান টার্গেট করছে। তবে এর আরেকটি উদ্দেশ্য হচ্ছে বেসামরিক মানুষকে ভয় দেখিয়ে এলাকা ছাড়তে বাধ্য করা।
শুক্রবার গাজায় ইসরায়েলি আগ্রাসনের ৭০০তম দিন পূর্ণ হয়েছে। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের হিসাব অনুযায়ী, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর থেকে এ পর্যন্ত অন্তত ১৯ হাজার ৪২৪ শিশু নিহত হয়েছে। অর্থাৎ প্রায় প্রতি ঘন্টায় একজন শিশুর মৃত্যু ঘটছে। একই সময়ে নিহত হয়েছেন ১০ হাজারের বেশি নারী ও ৪ হাজারেরও বেশি প্রবীণ ব্যক্তি। সামগ্রিকভাবে নিহতদের মধ্যে প্রায় ৮৩ শতাংশই বেসামরিক বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ইসরায়েলি প্রতিরক্ষামন্ত্রী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে হুঁশিয়ারি দেওয়া বার্তায় কাৎজ বলেন, “গাজার নরকদ্বার এখন খুলে দেওয়া হয়েছে, আর তা আর বন্ধ হবে না। আমাদের অভিযান আরও তীব্র হবে।”
মন্তব্য করুন

