

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার ঘোষণা দিলেও বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথে এখনো স্বাভাবিক হয়নি জাহাজ চলাচল। উপসাগরীয় অঞ্চলে শত শত জাহাজ অপেক্ষায় থাকলেও অল্প কয়েকটি জাহাজই এখন পর্যন্ত প্রণালি অতিক্রম করেছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, নিরাপত্তা ঝুঁকি, সমুদ্রে থাকা সম্ভাব্য মাইন এবং নতুন কোনো ফি বা নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার অনিশ্চয়তা—এই তিন কারণে হরমুজ প্রণালি পুরোপুরি চালু হতে সময় লাগছে।
বিবিসি ভেরিফাইয়ের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সমঝোতার ঘোষণা আসার পর থেকে মাত্র কয়েকটি জাহাজ এই পথ ব্যবহার করেছে। অথচ উপসাগরীয় এলাকায় প্রায় ৫৮০টি জাহাজ অপেক্ষমাণ রয়েছে।
হরমুজ প্রণালি বিশ্বের জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশ্বের মোট তেল ও গ্যাস পরিবহনের বড় একটি অংশ এই নৌপথ দিয়ে যায়। সংঘাতের কারণে প্রণালিটি কার্যত অচল হয়ে পড়ার পর এখনো আগের পরিস্থিতি ফিরেনি।
বিশেষজ্ঞদের মতে, জাহাজ মালিক, ক্যাপ্টেন এবং বীমা প্রতিষ্ঠানগুলো এখনো পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে। কেউই প্রথম ঝুঁকি নিয়ে যাত্রা শুরু করতে চাইছে না।
বিশ্লেষকদের ভাষ্য, অতীতে কয়েক দফা প্রণালি খোলা ও বন্ধের ঘটনা ঘটায় জাহাজ পরিচালনাকারীদের মধ্যে আস্থার সংকট তৈরি হয়েছে। তাই শুধু রাজনৈতিক ঘোষণা নয়, বাস্তবে নিরাপত্তা পরিস্থিতির উন্নতি দেখার অপেক্ষায় রয়েছে সবাই।
হরমুজ প্রণালিতে সম্ভাব্য নৌ-মাইনের উপস্থিতিও বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নৌযান চলাচল নিরাপদ করতে হলে আগে পুরো এলাকায় জরিপ ও মাইন অপসারণের কাজ করতে হবে।
তাদের ধারণা, এই প্রক্রিয়া শেষ করতে কয়েক সপ্তাহ থেকে কয়েক মাস পর্যন্ত সময় লাগতে পারে। কারণ মাইন শনাক্ত ও অপসারণ একটি ধীর এবং ঝুঁকিপূর্ণ কার্যক্রম।
হরমুজ প্রণালি ব্যবহারের ক্ষেত্রে ভবিষ্যতে কোনো ধরনের ফি বা নতুন নিয়ম চালু হবে কি না, তা নিয়েও রয়েছে অনিশ্চয়তা।
যদিও ট্রাম্প জানিয়েছেন, প্রণালিতে টোল থাকবে না, তবে ইরানের পক্ষ থেকে ভবিষ্যতে পরিচালনা বা নিরাপদ চলাচলের নামে কোনো ধরনের সেবা ফি আরোপের সম্ভাবনার কথা আলোচনায় এসেছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এমন কোনো ব্যবস্থা চালু হলে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে।
সব মিলিয়ে রাজনৈতিক সমঝোতার পরও হরমুজ প্রণালির স্বাভাবিক কার্যক্রম ফিরতে সময় লাগবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। তাদের মতে, নিরাপত্তা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত জাহাজ মালিকরা পুরোপুরি আস্থা ফিরে পাবেন না।