বুধবার
১৭ জুন ২০২৬, ৩ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
বুধবার
১৭ জুন ২০২৬, ৩ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

প্রশ্নফাঁস ঠেকাতে ভারতে টেলিগ্রাম সাময়িক বন্ধ

এনপিবি ডেস্ক
প্রকাশ : ১৭ জুন ২০২৬, ০৯:৫৪ এএম
এআই দ্বারা তৈরিকৃত ছবি
expand
এআই দ্বারা তৈরিকৃত ছবি

মেডিকেল কলেজে ভর্তি পরীক্ষা ন্যাশনাল এলিজিবিলিটি কাম এনট্রান্স টেস্ট–আন্ডারগ্রাজুয়েট (নিট–ইউজি) ঘিরে প্রশ্নপত্র ফাঁসের আশঙ্কায় ভারতে সাময়িকভাবে বন্ধ করা হয়েছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম টেলিগ্রাম। আগামী ২১ জুন অনুষ্ঠেয় পরীক্ষার আগে এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে দেশটির সরকার।

পরীক্ষা পরিচালনাকারী সংস্থা ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সি (এনটিএ) জানিয়েছে, প্রতারক চক্র পরীক্ষার্থীদের বিভ্রান্ত করতে টেলিগ্রাম ব্যবহার করছে। প্রশ্নপত্র ফাঁসের নামে বিভিন্ন চ্যানেল, গ্রুপ ও বটের মাধ্যমে প্রতারণার অভিযোগ পাওয়ার পর এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

এনটিএর দাবি, কিছু টেলিগ্রাম চ্যানেল পরীক্ষার্থীদের কাছে আসল প্রশ্নপত্র দেওয়ার কথা বলে লাখ লাখ রুপি দাবি করছিল। তবে সংস্থাটি জানিয়েছে, পরীক্ষার নিরাপদ ব্যবস্থার বাইরে প্রকৃত প্রশ্নপত্র পাওয়ার কোনো সুযোগ নেই।

তবে সরকারের এই সিদ্ধান্ত নিয়ে সমালোচনাও শুরু হয়েছে। ডিজিটাল অধিকারকর্মীদের অভিযোগ, অ্যাপ বন্ধ করা সমস্যার স্থায়ী সমাধান নয়। তাদের মতে, প্রশ্নপত্র ফাঁসের মূল উৎস বন্ধ না করে শুধু একটি প্ল্যাটফর্ম সীমিত করলে প্রকৃত জালিয়াতি রোধ করা সম্ভব নয়।

দ্য ইন্টারনেট ফ্রিডম ফাউন্ডেশন (আইএফএফ) বলেছে, এ সিদ্ধান্ত স্বচ্ছতাহীন এবং এতে সাধারণ ব্যবহারকারীরাই ক্ষতিগ্রস্ত হবেন। সংগঠনটির দাবি, অনেক শিক্ষার্থী পড়াশোনা, নোট আদান-প্রদান ও গ্রুপ আলোচনার জন্য টেলিগ্রামের ওপর নির্ভর করেন।

নিট–ইউজি পরীক্ষা এর আগেও বিতর্কের মুখে পড়েছিল। গত ৩ মে অনুষ্ঠিত পরীক্ষায় প্রায় ২২ লাখ ৮০ হাজার শিক্ষার্থী অংশ নেন। পরীক্ষা শেষে প্রশ্নপত্র ফাঁস ও অনিয়মের অভিযোগ ওঠার পর দেশজুড়ে বিক্ষোভ শুরু হয়। পরে পরীক্ষা বাতিল করা হয় এবং বিষয়টি তদন্ত করছে ভারতের কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা সিবিআই।

২০২৪ সালেও নিট পরীক্ষা নিয়ে প্রশ্নপত্র ফাঁস, অতিরিক্ত নম্বর দেওয়া এবং জালিয়াতির অভিযোগ উঠেছিল। এসব ঘটনায় ভারতের শিক্ষাব্যবস্থা ও পরীক্ষার স্বচ্ছতা নিয়ে বড় ধরনের বিতর্ক তৈরি হয়।

এনটিএ জানিয়েছে, টেলিগ্রাম ব্যবহারে বিধিনিষেধ ২২ জুন পর্যন্ত কার্যকর থাকবে। একই সঙ্গে প্রশ্নপত্র ফাঁসের ভুয়া প্রমাণ তৈরির অভিযোগে টেলিগ্রামের ‘মেসেজ এডিট’ সুবিধাও সাময়িকভাবে নিষ্ক্রিয় রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

সরকারের দাবি, পরীক্ষার স্বচ্ছতা রক্ষা করতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। তবে সমালোচকদের মতে, প্রযুক্তি বন্ধ করার চেয়ে প্রশ্নপত্র ফাঁসের সঙ্গে জড়িত মূল চক্রকে শনাক্ত ও শাস্তির আওতায় আনা জরুরি।

সূত্র: বিবিসি

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
X
UPCOMING
Portugal VS Congo DR
Scheduled
17 Jun, 11:00 PM
VS
World Cup