

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


মধ্যপ্রাচ্যের দীর্ঘস্থায়ী উত্তেজনা নিরসনের পথে বড় ধরনের অগ্রগতির ইঙ্গিত মিলেছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি সমঝোতা চুক্তি কার্যকর হয়েছে বলে ঘোষণা দিয়েছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ। এই ঘোষণা সত্যিই বাস্তবায়িত হলে তা শুধু আঞ্চলিক নিরাপত্তার জন্য নয়, বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে।
সোমবার আল-জাজিরার প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।
শাহবাজ শরিফ জানিয়েছেন, চলতি সপ্তাহে মধ্যস্থতাকারীদের উদ্যোগে ধারাবাহিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে, যা চুক্তি বাস্তবায়নের প্রস্তুতি হিসেবে কাজ করবে। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, আনুষ্ঠানিক স্বাক্ষর অনুষ্ঠানও সামনে রয়েছে।
অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দাবি করেছেন, ইরানের সঙ্গে চুক্তি ‘সম্পন্ন’ হয়েছে। তিনি হরমুজ প্রণালি পুনরায় আন্তর্জাতিক নৌযান চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করার অনুমোদন এবং মার্কিন নৌ অবরোধ প্রত্যাহারের নির্দেশ দেওয়ার কথাও উল্লেখ করেন।
হরমুজ প্রণালি বিশ্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক বাণিজ্যপথগুলোর একটি। বৈশ্বিক তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) বড় অংশ এই পথ দিয়ে পরিবাহিত হয়। সাম্প্রতিক সংঘাতের কারণে এই রুটে অনিশ্চয়তা তৈরি হওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির দাম ও সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছিল। বিশ্লেষকদের মতে, প্রণালিটি স্বাভাবিকভাবে খুলে গেলে সেই চাপ অনেকটাই কমতে পারে।
প্রতিবেদনগুলোতে আরও বলা হয়েছে, চুক্তির অংশ হিসেবে সামরিক কার্যক্রম বন্ধ রাখা, ভবিষ্যৎ পারমাণবিক আলোচনা এবং অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা–সংক্রান্ত বিষয়েও আলোচনা এগোতে পারে। তবে এসব শর্তের চূড়ান্ত বাস্তবায়ন এখনো পরবর্তী আলোচনা ও আনুষ্ঠানিক স্বাক্ষরের ওপর নির্ভর করছে।
যদি সমঝোতা টেকসই হয়, তাহলে এটি সাম্প্রতিক বছরগুলোর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক সাফল্য হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। একই সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতা কমিয়ে বৈশ্বিক অর্থনীতি ও জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকেরা।
