শনিবার
০২ মে ২০২৬, ১৯ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শনিবার
০২ মে ২০২৬, ১৯ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

পাল্টা হামলা করতে নতুন ছক কষছে ইরান

এনপিবি ডেস্ক
প্রকাশ : ০২ মে ২০২৬, ০৪:৪৯ পিএম
ছবি সংগৃহীত
expand
ছবি সংগৃহীত

বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ও কৌশলগত নৌপথ হরমুজ প্রণালি ঘিরে আবারও উত্তেজনা বাড়ছে। ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের পাল্টাপাল্টি চাপ ও সামরিক প্রস্তুতির কারণে এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। এতে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে বড় ধরনের প্রভাব পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

ইরানের ওপর অর্থনৈতিক চাপ বাড়াতে দেশটির তেল রপ্তানি ও উপকূলীয় বন্দর কার্যক্রমকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের কঠোর অবস্থান পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। এর জবাবে তেহরানও নিজেদের প্রতিরক্ষা প্রস্তুতি জোরদারের কথা জানিয়েছে। ফলে মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে নতুন করে সামরিক সংঘাতের আশঙ্কা বাড়ছে।

ইতোমধ্যে মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলে নিজেদের সামরিক উপস্থিতি বাড়িয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। একাধিক যুদ্ধজাহাজ ও বিমানবাহী রণতরি মোতায়েনের মাধ্যমে সম্ভাব্য যেকোনো পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে বলে আন্তর্জাতিক বিভিন্ন গণমাধ্যম জানিয়েছে।

অন্যদিকে ইরানের অভ্যন্তরে কট্টরপন্থি মহল থেকে পাল্টা প্রতিরোধের আহ্বান উঠেছে। দেশটির সামরিক সূত্রের বরাতে আন্তর্জাতিক কিছু প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরান প্রচলিত অস্ত্রের পাশাপাশি বিকল্প ও অপ্রচলিত কৌশল নিয়েও ভাবছে। এর মধ্যে প্রশিক্ষিত সামুদ্রিক প্রাণী ব্যবহারের পুরোনো ধারণাও নতুন করে আলোচনায় এসেছে।

একটি আন্তর্জাতিক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, অতীতে ইরান সামরিক কাজে প্রশিক্ষিত ডলফিন ব্যবহারের সক্ষমতা নিয়ে পরীক্ষা চালিয়েছিল। এমনকি শত্রু জাহাজে হামলা চালানো বা মাইন বহনের মতো প্রশিক্ষণ দেওয়ার কথাও উঠে এসেছে। যদিও এ বিষয়ে সাম্প্রতিক কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।

বিশ্লেষকদের মতে, পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হলে ইরান সাবমেরিন মোতায়েন, সামুদ্রিক মাইন স্থাপন কিংবা গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক যোগাযোগ ব্যবস্থায় বিঘ্ন ঘটানোর মতো পদক্ষেপ নিতে পারে। এতে শুধু আঞ্চলিক নয়, বৈশ্বিক যোগাযোগ ব্যবস্থাও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

ইরানের বিপ্লবী গার্ডের নৌবাহিনী ইতোমধ্যে হরমুজ প্রণালিতে সক্রিয় রয়েছে। ফলে এই পথ দিয়ে চলাচলকারী বাণিজ্যিক জাহাজ ও সামরিক জাহাজের মধ্যে নিরাপত্তা উদ্বেগ বাড়ছে।

মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক বিশেষজ্ঞদের মতে, তেহরান বর্তমান অবরোধকে কেবল অর্থনৈতিক চাপ হিসেবে দেখছে না, বরং এক ধরনের যুদ্ধপরিস্থিতি হিসেবে বিবেচনা করছে। দীর্ঘমেয়াদি চাপের মুখে ইরান সংঘাতে জড়ানোর সিদ্ধান্ত নিতে পারে বলেও আশঙ্কা করা হচ্ছে।

বিশ্লেষকদের ধারণা, হরমুজ প্রণালিতে উত্তেজনা আরও বাড়লে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের অস্থিরতা দেখা দিতে পারে। কারণ বিশ্বের উল্লেখযোগ্য পরিমাণ তেল এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ দিয়েই পরিবহন করা হয়।

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

মন্তব্য করুন