বৃহস্পতিবার
১৬ জুলাই ২০২৬, ১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
বৃহস্পতিবার
১৬ জুলাই ২০২৬, ১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

‘অঙ্ক মেলেনি’ আঁটছে নতুন ফন্দি

প্রকাশ : ১৬ মার্চ ২০২৬, ০৮:৩১ পিএম
ছবি সংগৃহীত
expand
ছবি সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ সামরিক অভিযানের বিরুদ্ধে কঠোর প্রতিরোধ চালিয়ে যাচ্ছে ইরান। ইসরায়েলকে লক্ষ্য করে হামলার পাশাপাশি অঞ্চলজুড়ে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটি ও স্থাপনাগুলোকেও আঘাত করছে তেহরান।

যুদ্ধ শুরুর সময় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর-এর প্রশাসন ধারণা করেছিল, দ্রুত সামরিক চাপ তৈরি করে ইরানের ইসলামী শাসনব্যবস্থাকে দুর্বল করে ফেলা সম্ভব হবে। তবে বাস্তবে পরিস্থিতি প্রত্যাশামতো এগোচ্ছে না বলে ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে।

যুদ্ধে ইরানের বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি হলেও যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকেও উল্লেখযোগ্য সামরিক ও আর্থিক চাপের মুখে পড়তে হচ্ছে। প্রতিদিন যুদ্ধের ব্যয় বাড়তে থাকায় দুই দেশের সরকারই ক্রমবর্ধমান চাপ অনুভব করছে।

এদিকে ইরানকে ঘিরে নতুন এক কৌশলগত হিসাবের তথ্য সামনে এসেছে। ইসরায়েলের গোয়েন্দা সংশ্লিষ্ট কয়েকটি সূত্র জানিয়েছে, যুদ্ধের শুরুতে যে পরিকল্পনা ও মূল্যায়নের ভিত্তিতে হামলা চালানো হয়েছিল, বাস্তবে তার কিছু অংশে বড় ধরনের অমিল দেখা দিয়েছে। বিষয়টি নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে মিডল ইস্ট মিরর।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক গোয়েন্দা কর্মকর্তারা রোববার বলেন, যুদ্ধের প্রথম দিকে ইসরায়েলি বিমান হামলা প্রত্যাশার চেয়েও কার্যকর ছিল। তবে সামগ্রিকভাবে সংঘাতের অগ্রগতি শুরুতে যে গতিতে এগোবে বলে ধারণা করা হয়েছিল, বাস্তবে তা হচ্ছে না। ফলে যুদ্ধের লক্ষ্য ও কৌশল পুনর্বিবেচনার প্রয়োজন হতে পারে বলেও তারা ইঙ্গিত দেন।

ইসরায়েলি সূত্রগুলোর মতে, সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে ইরানের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি। গোয়েন্দা বিশ্লেষণের একাংশে ধারণা করা হয়েছিল, যুদ্ধের সময় ইরানের জনগণ বড় পরিসরে সরকারের বিরুদ্ধে বিক্ষোভে নামতে পারে। কিন্তু এখন পর্যন্ত সেই ধরনের পরিস্থিতি তৈরি হয়নি, যা যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের পরিকল্পনায় বড় ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

তবে প্রাথমিক হিসাব পুরোপুরি সফল না হলেও ইরানকে ঘিরে নতুন কিছু পদক্ষেপের পরিকল্পনা করছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর আশা, এই নতুন কৌশল আগামী দিনে যুদ্ধের গতিপথে প্রভাব ফেলতে পারে।

এর আগে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী জানিয়েছিল, যুদ্ধের শুরুতে তাদের প্রধান লক্ষ্যগুলোর একটি ছিল ইরানের আকাশসীমায় নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করা। তাদের দাবি অনুযায়ী, ইরানের নিরাপত্তা ও সামরিক অবকাঠামোর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট প্রায় ২ হাজার ২০০টি স্থানে হামলা চালানো হয়েছে। এসব লক্ষ্যবস্তুর মধ্যে ছিল ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি), সরকারি স্থাপনা এবং বিভিন্ন নিরাপত্তা সংস্থার অবকাঠামো।

উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ইরানজুড়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথ হামলা শুরু করে। এই অভিযানে দেশটির তৎকালীন সর্বোচ্চ নেতা আলী খামেনিসহ প্রায় ১ হাজার ৩০০ জন নিহত হয়েছেন।

পাল্টা ব্যবস্থা হিসেবে ইরানও ইসরায়েলসহ জর্ডান, ইরাক এবং উপসাগরীয় দেশগুলোতে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে। ইরানের দাবি, তারা এসব দেশে থাকা মার্কিন সামরিক সম্পদগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করছে। এসব হামলায় হতাহতের পাশাপাশি কিছু বেসামরিক অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যার প্রভাব পড়েছে বিশ্ববাজার এবং বিমান চলাচলেও।

উল্লেখ্য, ইরানের পরমাণু প্রকল্প নিয়ে গত ৬ ফেব্রুয়ারি থেকে ২৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ২১ দিন ধরে সংলাপ চলে তেহরান এবং ওয়াশিংটনের মধ্যে। ২৭ ফেব্রুয়ারি কোনো প্রকার সমঝোতা চুক্তি ছাড়াই শেষ হয় সেই সংলাপ।

এর জেরে পরদিন ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ শুরু করে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী। ওয়াশিংটনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে একই সময়ে ইরানে সামরিক অভিযান ‘অপারেশন রোয়ারিং লায়ন’ শুরু করে ইসরায়েলও। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের এ যৌথ সামরিক অভিযানে প্রথম ধাক্কাতেই প্রাণ হারান ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি ও তার পরিবার। সেইসঙ্গে হত্যা করা হয় ইরানের সেনাবাহিনীর শীর্ষস্থানীয় কয়েকজন কমান্ডারকেও। এর জবাবে ইসরায়েল এবং উপসাগরীয় অঞ্চলে অবস্থিত মার্কিন স্বার্থসংশ্লিষ্ট স্থাপনাগুলোতে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা শুরু করে ইরানও। ১৭ দিন ধরে চলমান এই হামলা-পাল্টা হামলায় ইতোমধ্যে ভয়ংকর যুদ্ধক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে পুরো মধ্যপ্রাচ্য।

যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের যৌথ হামলায় এখন পর্যন্ত ১ হাজার ৩০০ জনেরও বেশি মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন ইরানে।

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
X
UPCOMING
France VS England
Scheduled
19 Jul, 03:00 AM
VS
World Cup