

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রকে কেন্দ্র করে মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের মধ্যে নতুন করে আলোচনায় এসেছে একটি পুরোনো ভূরাজনৈতিক ভবিষ্যদ্বাণী। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া সেই পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, সম্ভাব্য যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র শেষ পর্যন্ত ইরানের কাছে পরাজিত হতে পারে।
এই ভবিষ্যদ্বাণী করেছেন জনপ্রিয় ইউটিউব চ্যানেল প্রেডিক্টিভ হিস্টোরি–এর সঞ্চালক চীনা–কানাডীয় শিক্ষাবিদ জুয়েকিন জিয়াং।
২০২৪ সালে দেওয়া এক অনলাইন বক্তৃতায় তিনি যুক্তরাষ্ট্র–ইরান সংঘাতের আশঙ্কা এবং এর পরিণতি নিয়ে বিশ্লেষণ করেন।
বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা বাড়ার প্রেক্ষাপটে তার সেই ভিডিও নতুন করে আলোচনার ঝড় তুলেছে। অনেক অনলাইন ব্যবহারকারী তাকে ‘চীনের নস্ট্রাদামাস’ বলেও আখ্যা দিচ্ছেন। এই উপাধিটি এসেছে বিখ্যাত ফরাসি জ্যোতিষী মিশেল দ্য নস্ট্রাদাম–এর নাম অনুসারে, যিনি ভবিষ্যৎবাণীর জন্য পরিচিত ছিলেন।
২০২৪ সালে দেওয়া বক্তৃতায় জিয়াং তিনটি বড় ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলেন। এর মধ্যে দুটি ইতোমধ্যে বাস্তবে ঘটেছে বলে সামাজিক মাধ্যমে দাবি করা হচ্ছে।
তার প্রথম পূর্বাভাসটি ছিল—ডোনাল্ড ট্রাম্প আবার যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষমতায় ফিরবেন। দ্বিতীয়টি ছিল—ট্রাম্প ক্ষমতায় এলে ইরানের সঙ্গে সংঘাত শুরু হতে পারে।
জিয়াং যুক্তি দেন, ভূরাজনৈতিক চাপ ও আঞ্চলিক উত্তেজনা শেষ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রকে ইরানের সঙ্গে সরাসরি সংঘাতে ঠেলে দিতে পারে।
তার মতে, এমন সংঘাত দীর্ঘমেয়াদি ও ক্ষয়িষ্ণু যুদ্ধে পরিণত হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। জিয়াং ইরানে মার্কিন আক্রমণকে প্রাচীন গ্রিসের বিখ্যাত সামরিক অভিযান সিসিলিয়ান এক্সপেডিশনের সঙ্গে তুলনা করেন। ওই অভিযানে এথেন্স বিশাল সামরিক শক্তি নিয়ে যুদ্ধে নেমে শেষ পর্যন্ত বড় ধরনের পরাজয়ের মুখে পড়ে।
তার মতে, ইরানের ভৌগোলিক অবস্থান, পাহাড়ি ভূখণ্ড, বড় জনসংখ্যা এবং দীর্ঘমেয়াদি প্রতিরোধ যুদ্ধ পরিচালনার সক্ষমতা যুক্তরাষ্ট্রের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারে।
সম্প্রতি সংবাদ ও বিশ্লেষণধর্মী অনুষ্ঠান ব্রেকিং পয়েন্টসে অংশ নিয়ে জিয়াং বলেন, বর্তমান পরিস্থিতি ধীরে ধীরে একটি ক্ষয়িষ্ণু যুদ্ধে রূপ নিচ্ছে।
তার ভাষায়, ইরান গত দুই দশক ধরে সম্ভাব্য সংঘাতের জন্য প্রস্তুতি নিয়েছে। পাশাপাশি আঞ্চলিক মিত্র ও প্রক্সি গোষ্ঠীগুলোর মাধ্যমেও তারা কৌশলগত সুবিধা অর্জনের চেষ্টা করছে।
তিনি আরও বলেন, যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলে এর প্রভাব শুধু মধ্যপ্রাচ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না; বৈশ্বিক ভূরাজনীতিতেও বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে।
তবে বিশ্লেষকদের মতে, এ ধরনের ভবিষ্যদ্বাণী কতটা বাস্তবসম্মত হবে, তা নির্ভর করবে যুদ্ধের গতিপ্রকৃতি ও আন্তর্জাতিক রাজনীতির ভবিষ্যৎ পরিস্থিতির ওপর।
যদিও এক আগে ১৩ দিনের এক যুদ্ধে ইরানের কাছে একরকম ছেড়ে দে মা কেঁদে বাঁচি- অবস্থার শিকার হয় ট্রাম্প প্রসাশন।
মন্তব্য করুন
