রবিবার
১১ জানুয়ারি ২০২৬, ২৭ পৌষ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
রবিবার
১১ জানুয়ারি ২০২৬, ২৭ পৌষ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

ইন্টারনেট শাটডাউন করলো ইরান

এনপিবি ডেস্ক
প্রকাশ : ১১ জানুয়ারি ২০২৬, ০২:০৪ পিএম
ইরানজুড়ে বিক্ষোভ
expand
ইরানজুড়ে বিক্ষোভ

কঠোর ইন্টারনেট নিয়ন্ত্রণ ও নিরাপত্তা বাহিনীর দমনমূলক অভিযানের মধ্যেও ইরানে সরকারবিরোধী আন্দোলন থেমে নেই।

শনিবার (১০ জানুয়ারি) রাতে রাজধানী তেহরানসহ দেশের বিভিন্ন শহরে বিক্ষোভকারীরা স্লোগানে স্লোগানে রাজপথ মুখর করে তোলে।

আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা এএফপির তথ্যমতে, গত তিন বছরের মধ্যে এটি ইসলামি প্রজাতন্ত্রের বিরুদ্ধে সবচেয়ে বড় গণআন্দোলন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। প্রায় দুই সপ্তাহ আগে অর্থনৈতিক সংকট ও জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির প্রতিবাদ থেকে শুরু হওয়া আন্দোলন এখন সরাসরি বর্তমান ধর্মীয় শাসনব্যবস্থার অবসানের দাবিতে রূপ নিয়েছে।

ইরান সরকার এই অস্থিরতার পেছনে যুক্তরাষ্ট্রের মদদের অভিযোগ তুললেও বিক্ষোভকারীরা আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। বিভিন্ন শহরের গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলোতে নিজেদের উপস্থিতি জোরালো করার প্রস্তুতিও নিতে দেখা যাচ্ছে তাদের।

মানবাধিকার সংস্থাগুলোর দাবি, চলমান দমন অভিযানে নিহতের সংখ্যা ৫১ ছাড়িয়েছে, যাদের মধ্যে শিশুদেরও নাম রয়েছে। অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল অভিযোগ করেছে, নিরাপত্তা বাহিনী আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করে বিক্ষোভকারীদের ওপর প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহার করছে।

ইন্টারনেট পর্যবেক্ষণ সংস্থা নেটব্লকস জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) থেকে ইরানে ইন্টারনেট কার্যত বিচ্ছিন্ন থাকায় ভেতরের প্রকৃত পরিস্থিতি সম্পর্কে নির্ভরযোগ্য তথ্য পাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। এমন প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মন্তব্য করে বলেন, ইরান স্বাধীনতার একেবারে কাছাকাছি পৌঁছেছে এবং প্রয়োজনে যুক্তরাষ্ট্র সহায়তা দিতে প্রস্তুত। মার্কিন গণমাধ্যম নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, ইরানে সম্ভাব্য সামরিক পদক্ষেপের বিভিন্ন বিকল্প নিয়েও ট্রাম্পকে অবহিত করা হয়েছে।

মাঠপর্যায়ে দেখা যাচ্ছে, তেহরানের উত্তরাঞ্চলসহ বিভিন্ন এলাকায় বিক্ষোভকারীরা আতশবাজি ফাটিয়ে, হাঁড়ি-পাতিল বাজিয়ে প্রতিবাদ জানাচ্ছেন। কোথাও কোথাও অপসারিত রাজতন্ত্রের পক্ষে স্লোগান এবং শাহ আমলের পতাকা প্রদর্শন করা হচ্ছে। নির্বাসনে থাকা সাবেক শাহের পুত্র রেজা পাহলভি যুক্তরাষ্ট্র থেকে দেওয়া এক ভিডিও বার্তায় আন্দোলনকারীদের শহরের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলো দখলে নেওয়ার আহ্বান জানান।

অন্যদিকে, ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি বিক্ষোভকারীদের ‘নাশকতাকারী’ আখ্যা দিয়ে কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়েছেন। সেনাবাহিনীও জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় কঠিন পদক্ষেপ নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে।

আন্তর্জাতিক মহল থেকে সংযম দেখানোর আহ্বান জানানো হলেও পরিস্থিতিতে তেমন পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে না। ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রধান উরসুলা ভন ডার লিয়েন বিক্ষোভকারীদের ওপর সহিংসতার নিন্দা জানিয়ে তাদের প্রতি সংহতি প্রকাশ করেছেন।

ইন্টারনেট বিচ্ছিন্নতা ও নিরাপত্তাজনিত আতঙ্কে তেহরানের সাধারণ মানুষ চরম ভোগান্তিতে পড়লেও অনেকেই এই আন্দোলনকে স্বাধীনতার জন্য অপরিহার্য ত্যাগ হিসেবে দেখছেন। এর প্রতিফলন দেখা গেছে দেশের বাইরেও—লন্ডনে ইরানি দূতাবাসের সামনে জড়ো হয়ে প্রবাসীরাও সরকারবিরোধী বিক্ষোভে অংশ নিয়েছেন, যা আন্দোলনের আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়াকে আরও স্পষ্ট করেছে।

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

মন্তব্য করুন

X