

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি দাবি করেছেন, দেশজুড়ে চলমান সরকারবিরোধী আন্দোলনের পেছনে থাকা ব্যক্তিরা মূলত মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে খুশি করার চেষ্টা করছে। তিনি বিক্ষোভকারীদের ‘দাঙ্গাবাজ’ আখ্যা দিয়ে বলেন, এসব কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে তারা বিদেশি শক্তির মনোযোগ আকর্ষণ করতে চাইছে।
শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে সম্প্রচারিত এক ভাষণে ৮৬ বছর বয়সী খামেনি বলেন, কয়েক লাখ মানুষের আত্মত্যাগের বিনিময়ে গড়ে ওঠা ইসলামি প্রজাতন্ত্র কখনোই বিশৃঙ্খলাকারীদের চাপের কাছে নত হবে না। তিনি সতর্ক করে জানান, ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ডে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে সরকার কোনো দ্বিধা করবে না। এ খবর জানিয়েছে বিবিসি।
বিক্ষোভের ১৩তম দিনে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। দেশটির নিরাপত্তা ও বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তারা আন্দোলনকারীদের ‘সশস্ত্র অপরাধী’ ও ‘শান্তি বিনষ্টকারী’ হিসেবে উল্লেখ করে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন।
ইরানের নিরাপত্তা পরিষদ জানিয়ে দিয়েছে, সামরিক বা সরকারি স্থাপনায় হামলার যেকোনো প্রচেষ্টার কঠোর জবাব দেওয়া হবে। একই সময়ে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে পাঠানো এক চিঠিতে তেহরান অভিযোগ করেছে, যুক্তরাষ্ট্র উসকানি ও প্ররোচনার মাধ্যমে ইরানের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করছে এবং শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদকে সহিংসতায় রূপ দিচ্ছে।
মানবাধিকার সংস্থাগুলোর তথ্য অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত অন্তত ৪৮ জন বিক্ষোভকারী এবং ১৪ জন নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য নিহত হয়েছেন। কিছু সংস্থার দাবি, প্রকৃত সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে এবং নিহতদের মধ্যে শিশুও রয়েছে। এ ছাড়া দুই হাজার দুই শতাধিক মানুষকে আটক করা হয়েছে এবং দেশজুড়ে ইন্টারনেট সংযোগ ব্যাপকভাবে সীমিত রাখা হয়েছে।
এই প্রেক্ষাপটে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের বলেন, ইরান বর্তমানে গুরুতর সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। পরিস্থিতি আরও অবনতি হলে যুক্তরাষ্ট্র কঠোর প্রতিক্রিয়া দেখাতে পারে বলেও তিনি হুঁশিয়ারি দেন। তবে সরাসরি সেনা পাঠানোর সম্ভাবনা নাকচ করেন তিনি।
ইরানের পরিস্থিতি নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলেও উদ্বেগ বাড়ছে। যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স ও জার্মানির শীর্ষ নেতারা এক যৌথ বিবৃতিতে ইরানি নিরাপত্তা বাহিনীর সহিংসতার নিন্দা জানিয়ে শান্তিপূর্ণ সমাবেশের অধিকার নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন।
জাতিসংঘের মুখপাত্র স্টিফেন ডুজারিকও প্রাণহানির ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ করা মানুষের মৌলিক অধিকার।
এর মধ্যেই ইরানের সাবেক সম্রাটের পুত্র রেজা পাহলভি মার্কিন প্রেসিডেন্টের কাছে জরুরি হস্তক্ষেপের আহ্বান জানিয়েছেন। তবে তেহরান সরকার এই আহ্বানকে দেশের সার্বভৌমত্বে হস্তক্ষেপ হিসেবে দেখছে।
মন্তব্য করুন

