শুক্রবার
১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৭ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শুক্রবার
১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৭ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

পশ্চিমবঙ্গের ‘জোড়াফুল’ নিয়ে টানাটানি, মীমাংসা দিতে দিল্লিতে তলব

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ : ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৪:৩৭ এএম
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়  ও ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। ছবি: সংগৃহীত
expand

পশ্চিমবঙ্গের সাবেক শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেসের নির্বাচনী প্রতীক ‘জোড়াফুল’ কার নিয়ন্ত্রণে থাকবে, তা নিয়ে দলের দুই পক্ষের বিরোধ এখন চূড়ান্ত রূপ নিয়েছে। দলের মূল প্রতীক নিজেদের দাবি করে নির্বাচন কমিশনে পাল্টাপাল্টি আবেদন জানিয়েছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন অংশ এবং বিদ্রোহী বিধায়কদের পক্ষ। এই বিরোধ নিষ্পত্তির লক্ষ্যে তৃণমূলের দুই পক্ষকেই দিল্লিতে তলব করেছে ভারতের নির্বাচন কমিশন (ইসিআই)।

আগামী শনিবার দিল্লির ইন্ডিয়া ইন্টারন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব ডেমোক্রেসি অ্যান্ড ইলেকশন ম্যানেজমেন্টের দপ্তরে দুই পক্ষের প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলাদা বৈঠক করবে নির্বাচন কমিশন। সেখানে উভয় পক্ষ নিজেদের যুক্তি তুলে ধরার পর কমিশন তাদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানাবে।

গত বুধবার এ বিষয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং বিদ্রোহী অংশের নেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে পৃথক চিঠি পাঠিয়েছে নির্বাচন কমিশন। চিঠিতে জানানো হয়েছে, শনিবার বেলা ১১টায় প্রথমে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক হবে। এরপর দুপুর ১২টায় বসবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রতিনিধিদলের সঙ্গে বৈঠক। প্রতিটি পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ পাঁচজন করে প্রতিনিধি এই শুনানিতে অংশ নিতে পারবেন।

তৃণমূলে ভাঙন

১৯৯৮ সালের ১ জানুয়ারি কংগ্রেস ভেঙে তৃণমূল কংগ্রেস গড়ে তুলেছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর নেতৃত্বেই দলের বিকাশ ঘটে এবং নিজের ভাবনা থেকেই তিনি এঁকেছিলেন দলের প্রতীক ‘জোড়াফুল’। প্রতিষ্ঠার পর থেকে সব নির্বাচনেই এই প্রতীকে লড়েছে তৃণমূল।

তবে সাম্প্রতিক রাজ্য বিধানসভা নির্বাচনে বড় বিপর্যয়ের মুখে পড়ে দলটি। ২৯৪টি আসনের মধ্যে বিজেপি ২০৮টি আসন পেয়ে সরকার গঠন করে এবং শুভেন্দু অধিকারী মুখ্যমন্ত্রী হন। তৃণমূল পায় মাত্র ৮০টি আসন। এই শোচনীয় পরাজয়ের পর মমতার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ তুলে দলে তীব্র অসন্তোষ দেখা দেয়। একপর্যায়ে ৮০ জন বিধায়কের মধ্যে অন্তত ৬৫ জন মমতার বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রকাশ করে দল ছাড়েন।

বিদ্রোহী এই ৬৫ জন বিধায়ক একত্র হয়ে গড়ে তোলেন পাল্টা তৃণমূল, যার নেতৃত্বে রয়েছেন বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। পরে বিধানসভার স্পিকার এই অংশকে প্রধান বিরোধী দল হিসেবে স্বীকৃতি দেন এবং ঋতব্রত হন বিরোধীদলীয় নেতা। ফলে মমতার সঙ্গে থেকে যান হাতে গোনা কয়েকজন বিধায়ক।

উপনির্বাচন ঘিরে প্রতীকের লড়াই

আগামী ৬ অক্টোবর রাজ্যের দুটি বিধানসভা কেন্দ্রে উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। আসন দুটি হলো পূর্ব মেদিনীপুরের নন্দীগ্রাম ও মুর্শিদাবাদের রেজিনগর। উপনির্বাচনের মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ সময় ১৬ সেপ্টেম্বর।

এই উপনির্বাচনকে কেন্দ্র করেই মূলত প্রতীক নিয়ে বিরোধ তুঙ্গে উঠেছে। নির্বাচন কমিশনে আবেদন জানিয়ে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের অংশের দাবি, দলের অধিকাংশ বিধায়ক ও নেতা তাঁদের সঙ্গে রয়েছেন, তাই নিয়মানুযায়ী ‘জোড়াফুল’ প্রতীক পাওয়ার অধিকারী তাঁরাই।

অন্যদিকে মমতার অংশের দাবি, দলটির প্রতিষ্ঠাতা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। প্রতীকটিও তিনিই এঁকেছিলেন এবং নির্বাচন কমিশন থেকে দলের প্রতীক হিসেবে অনুমোদন নিয়েছিলেন। ফলে এই প্রতীকের ওপর তাঁর অংশেরই নিরঙ্কুশ অধিকার রয়েছে। দুই পক্ষের এই পাল্টাপাল্টি দাবির মুখে এখন দিল্লির নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্তের দিকেই তাকিয়ে রয়েছে পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক মহল।

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
X
City bank
City bank