বুধবার
১৯ আগস্ট ২০২৬, ৪ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
বুধবার
১৯ আগস্ট ২০২৬, ৪ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

দ্য প্রিন্টের প্রতিবেদন: ঢাকার চাপে অবস্থান বদলাচ্ছে ভারত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ : ১৯ আগস্ট ২০২৬, ০২:৫২ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
expand
ছবি: সংগৃহীত

সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে কেন্দ্র করে ঢাকা যখন চাপ বাড়াচ্ছে তখন বাংলাদেশের বিষয়ে অবস্থান বদলাচ্ছে ভারত। এক্ষেত্রে তারা পারস্পারিক স্বার্থের প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে। দিল্লির এমন অবস্থানকে বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের কূটনৈতিক ভাষায় নতুন ইঙ্গিত হিসেবে দেখছে ভারতের সংবাদমাধ্যম দ্য প্রিন্ট।

মঙ্গলবার নিয়মিত ব্রিফিংয়ে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল বলেন, বাংলাদেশকে নিয়ে ভারতের লক্ষ্য হলো পারস্পরিক স্বার্থ ও পারস্পরিকতার ভিত্তিতে ইতিবাচক, গঠনমূলক এবং ভবিষ্যতমুখী সম্পর্ক গড়ে তোলা। শেখ হাসিনার সাম্প্রতিক সংবাদ সম্মেলন নিয়ে ভারতের অবস্থানে নতুন কিছু নেই বলেও জানান তিনি।

শেখ হাসিনাকে ফেরত পাঠানোর বিষয়ে জয়সওয়াল বলেন, বাংলাদেশ থেকে পাওয়া প্রত্যর্পণের অনুরোধ নির্ধারিত ও প্রচলিত প্রক্রিয়া অনুযায়ী পর্যালোচনা করা হচ্ছে।

ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের প্রসঙ্গে ‘রেসিপ্রোসিটি’ বা পারস্পরিকতার শব্দটি এর আগে এভাবে ব্যবহার করা হয়নি বলে দ্য প্রিন্টের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এমন সময়ে দিল্লি এই অবস্থানের কথা বলছে, যখন ঢাকা দুই দেশের সম্পর্কের ভিত্তি হিসেবে সার্বভৌম সমতা, পারস্পরিক সম্মান, অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করা এবং জাতীয় মর্যাদার ওপর জোর দিচ্ছে।

তারেকের ভারত সফর নিয়ে অনিশ্চয়তা

দ্য প্রিন্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নিকট ভবিষ্যতে ভারত সফরের সম্ভাবনা আপাতত অনিশ্চিত। আগামী মাসে অনুষ্ঠেয় ব্রিকস সম্মেলনেও তার অংশ নেওয়া নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে। ভারত তাকে বিশেষ অতিথি হিসেবে আমন্ত্রণ জানিয়েছে।

বাংলাদেশের অবস্থান হচ্ছে, দুই দেশের সম্পর্ককে সামনে এগিয়ে নিতে হলে ভারতের পক্ষ থেকেও গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক পদক্ষেপ প্রয়োজন। রোববার বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র এ কে এম শহীদুল করিমের বক্তব্যেও এর ইঙ্গিত পাওয়া যায়।

তিনি জানিয়েছিলেন, তারেক রহমানের ভারত সফরের অনুকূল পরিবেশ তৈরির ক্ষেত্রে শেখ হাসিনাসহ অভিযুক্ত ও পলাতক ব্যক্তিদের প্রত্যর্পণের বিষয়ে ভারতের পদক্ষেপ গুরুত্বপূর্ণ। একই সঙ্গে রাজনৈতিক কর্মী ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডে অভিযুক্তদেরও ফেরত চেয়েছে ঢাকা।

এসব দাবির পর দুই দেশের সম্পর্কের টানাপোড়েন আরও দৃশ্যমান হয়েছে। কূটনৈতিক সূত্রের বরাতে দ্য প্রিন্ট বলছে, সাম্প্রতিক পরিস্থিতিতে সম্পর্কের অগ্রগতি এখন রাজনৈতিক পর্যায়ের আলোচনার ওপর অনেকটাই নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে।

হাসিনার সংবাদ সম্মেলন ঘিরে উত্তেজনা

২০২৪ সালের আগস্টে ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর থেকে ভারতে অবস্থান করছেন শেখ হাসিনা। চলতি মাসে দিল্লিতে তার একটি সংবাদ সম্মেলনকে কেন্দ্র করে ঢাকা-নয়াদিল্লির মধ্যে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়।

ভারত অবশ্য দ্রুত ওই অনুষ্ঠানের দায় থেকে নিজেদের দূরে সরিয়ে নেয়। ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর এর আগে জানিয়েছিলেন, অনুষ্ঠানটি শেখ হাসিনার ব্যক্তিগত আয়োজন ছিল। তবে এতে বাংলাদেশের অসন্তোষ কমেনি।

সম্পর্ক উন্নয়নে দিল্লির ধারাবাহিক যোগাযোগ

এর মধ্যেই গত কয়েক মাসে তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকারের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নের চেষ্টা করেছে ভারত। গত বছরের শেষ দিকে খালেদা জিয়ার জানাজায় অংশ নিতে ঢাকায় এসেছিলেন ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর। এরপর ফেব্রুয়ারিতে তারেক রহমানের শপথ অনুষ্ঠানে যোগ দেন ভারতের লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা ও পররাষ্ট্রসচিব বিক্রম মিশ্রি।

এপ্রিল মাসেও নয়াদিল্লিতে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমানের সঙ্গে বৈঠক করেন জয়শঙ্কর। বৈঠকের পর ভারত জানিয়েছিল, নতুন সরকারের সঙ্গে গঠনমূলকভাবে কাজ করতে এবং দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করতে তারা আগ্রহী।

সম্প্রতি বাংলাদেশের প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এ কে এম শামসুল ইসলাম (অব.) নয়াদিল্লিতে বিমসটেকের জাতীয় নিরাপত্তা প্রধানদের বৈঠকে অংশ নেন। এর পর ভারতের গোয়েন্দা সংস্থা ‘র’-এর প্রধান পরাগ জৈনের ঢাকায় সফর ও কয়েকজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তার সঙ্গে বৈঠকের বিষয়টিও আলোচনায় আসে।

দুই দেশের মধ্যে এসব উচ্চপর্যায়ের যোগাযোগের অন্যতম লক্ষ্য ছিল নরেন্দ্র মোদি ও তারেক রহমানের সম্ভাব্য বৈঠকের জন্য অনুকূল পরিবেশ তৈরি করা। ভারত চলতি বছরের শুরুতে তারেক রহমানকে রাষ্ট্রীয় সফরের আমন্ত্রণ জানায়। পাশাপাশি ব্রিকস সম্মেলনেও তাকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।

তবে শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণসহ বিভিন্ন বিষয়ে ঢাকার অবস্থান এবং দিল্লির সাম্প্রতিক ‘পারস্পরিকতা’র বার্তা—দুই দেশের সম্পর্কের ভবিষ্যৎ গতিপথ এখন রাজনৈতিক আলোচনার দিকেই ঠেলে দিচ্ছে।

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
X
City bank
City bank