

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্ভাব্য ভারত সফরের সঙ্গে শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণের বিষয়টি যুক্ত করার সমালোচনা করেছেন ভারতে বাংলাদেশের সাবেক হাইকমিশনার বীণা সিক্রি। বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সাম্প্রতিক বক্তব্যকে তিনি কূটনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে ‘রূঢ়’ ও ‘অহংকারী’ বলে মন্তব্য করেছেন।
ভারতীয় সংবাদ সংস্থা এএনআইকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বীণা সিক্রি বলেন, তারেক রহমানের ভারত সফর এবং শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণের বিষয়কে একসঙ্গে দেখার চেষ্টা তাকে বিস্মিত করেছে।
তার মতে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রকাশিত বক্তব্য দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে ইতিবাচক বার্তা দেয় না।
ভারতের সঙ্গে তারেক রহমানের যোগাযোগের প্রসঙ্গ তুলে ধরে এই সাবেক কূটনীতিক বলেন, গত ১৭ ফেব্রুয়ারি প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি তাকেই প্রথম বিদেশি নেতা হিসেবে ভারত সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন। দিল্লি আশা করেছিল, তারেক রহমান তার প্রথম বিদেশ সফরের গন্তব্য হিসেবে ভারতকে বেছে নেবেন।
তবে বীণা সিক্রির দাবি, ছয় মাস পেরিয়ে গেলেও ওই আমন্ত্রণের আনুষ্ঠানিক জবাব ঢাকা দেয়নি। এর মধ্যে ব্রিকস সম্মেলনে যোগ দেওয়ার জন্যও বাংলাদেশকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল, কিন্তু কয়েক সপ্তাহ আগে পাঠানো সেই আমন্ত্রণের বিষয়েও ঢাকার কাছ থেকে কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি বলে তিনি উল্লেখ করেন।
শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণকে রাজনৈতিক সফরের সঙ্গে শর্ত হিসেবে যুক্ত করারও বিরোধিতা করেন বীণা সিক্রি। তার বক্তব্য, প্রত্যর্পণ একটি দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়া এবং সেটি শেষ হতে অনেক সময় লাগতে পারে। তাই এই বিষয়কে সামনে রেখে তারেক রহমানের ভারত সফর আটকে রাখা হলে দুই দেশের সম্পর্কের জন্য তা কতটা ফলপ্রসূ হবে, সে প্রশ্নও তোলেন তিনি।
তার মতে, দুই দেশের শীর্ষ পর্যায়ের সফরের প্রস্তুতির জন্য নির্দিষ্ট কূটনৈতিক প্রক্রিয়া থাকে। সেই প্রক্রিয়ার বাইরে গিয়ে প্রকাশ্য বক্তব্য বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শর্তারোপ করা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করতে পারে। ঢাকার উচিত এ ধরনের অবস্থান না নিয়ে আনুষ্ঠানিক কূটনৈতিক আলোচনার ওপর জোর দেওয়া।
এর আগে গত রোববার বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র এ কে এম শহীদুল করিম বলেছিলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ভারত সফরের অনুকূল পরিবেশ তৈরির জন্য শেখ হাসিনাসহ ভারতে অবস্থানরত পলাতক ব্যক্তিদের প্রত্যর্পণের বিষয়ে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন। গত ৫ আগস্ট দিল্লিতে শেখ হাসিনার একটি সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিতির বিষয়টিকেও ঢাকা সফরের পরিবেশের জন্য নেতিবাচক হিসেবে দেখেছিল।
তবে ভারত সরকার জানিয়েছে, ওই অনুষ্ঠানের সঙ্গে তাদের কোনো সম্পৃক্ততা ছিল না। অনুষ্ঠানটি একটি বেসরকারি গণমাধ্যমের উদ্যোগে আয়োজন করা হয়েছিল বলে দিল্লির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
এদিকে তারেক রহমানের সম্ভাব্য ভারত সফর নিয়ে দুই দেশের মধ্যে যোগাযোগ চলছে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র শহীদুল করিম। তবে এখনো সফরের কোনো চূড়ান্ত তারিখ নির্ধারিত হয়নি।
২০২৪ সালের আগস্টে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর থেকে ভারতে অবস্থান করছেন শেখ হাসিনা। তাকে দেশে ফিরিয়ে দেওয়ার দাবি দীর্ঘদিন ধরেই জানিয়ে আসছে বাংলাদেশ। সম্প্রতি দিল্লিতে তাঁর প্রকাশ্য উপস্থিতিকে কেন্দ্র করে দুই দেশের সম্পর্কে নতুন করে টানাপোড়েন তৈরি হয়েছে।
বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে দণ্ডিত শেখ হাসিনাকে দ্বিপক্ষীয় প্রত্যর্পণ চুক্তির আওতায় ফেরত দেওয়ার পাশাপাশি শরীফ ওসমান হাদি হত্যা মামলার অভিযুক্তদের হস্তান্তরের দাবিও জানিয়েছে ভারতকে।


