মঙ্গলবার
২৫ আগস্ট ২০২৬, ১০ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
মঙ্গলবার
২৫ আগস্ট ২০২৬, ১০ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ছাত্র আন্দোলনের চাপে নতি স্বীকার মোদি সরকারের

এনপিবি ডেস্ক
প্রকাশ : ১০ আগস্ট ২০২৬, ০৬:৪৬ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
expand
ছবি: সংগৃহীত

শিক্ষার্থীদের আন্দোলন এবং আন্দোলনকারীদের ওপর পুলিশের অভিযানের বিষয়ে সংসদে পূর্ণাঙ্গ ও বিস্তারিত আলোচনায় সরকার প্রস্তুত বলে জানিয়েছেন ভারতের সংসদবিষয়ক মন্ত্রী কিরেন রিজিজু। বিরোধীদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে তিনি জানান, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহও সংসদে এ বিষয়ে বক্তব্য দিতে প্রস্তুত। তবে আলোচনার সময় বিরোধীদের হট্টগোল বা কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা না করার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

সোমবার সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে রিজিজু বলেন, শিক্ষার্থীদের আন্দোলন এবং এ-সংক্রান্ত সব বিষয় নিয়ে সংসদে বিস্তারিত আলোচনা করতে সরকারের কোনো আপত্তি নেই। তবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বক্তব্য দেওয়ার সময় এবং সরকারের পক্ষ থেকে জবাব দেওয়ার সময় বিরোধীদের তা মনোযোগ দিয়ে শুনতে হবে।

রিজিজু বলেন, সরকারের অবস্থান স্পষ্ট। শিক্ষার্থীদের আন্দোলন ও এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে পূর্ণাঙ্গ ও বিস্তারিত আলোচনায় তারা প্রস্তুত। তবে আলোচনা এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যের সময় বিরোধীরা যেন এমন কোনো পরিস্থিতি তৈরি না করেন, যাতে সরকারের বক্তব্য বাধাগ্রস্ত হয়।

তিনি বলেন, ‘আমার একমাত্র অনুরোধ, আলোচনা এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর জবাব দেওয়ার সময় বিরোধীরা যেন কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি না করেন। এতে যেন বক্তব্য দেওয়া বাধাগ্রস্ত না হয়।’

সরকারের এই অবস্থান এমন সময়ে এল, যখন লোকসভার বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধী শিক্ষার্থী বিক্ষোভ দমনে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের তীব্র সমালোচনা করেছেন। ‘দ্য হিন্দু’ পত্রিকায় প্রকাশিত এক কলামে তিনি এ সমালোচনা করেন।

ওই লেখায় রাহুল গান্ধী অভিযোগ করেন, বিক্ষোভকারীদের ওপর পুলিশের অভিযানের বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কোনো তদন্তের নির্দেশ দেননি এবং এ নিয়ে কোনো বিবৃতিও দেননি। তার দাবি, সংসদে এ বিষয়ে আলোচনার জন্য বিরোধীদের দেওয়া প্রস্তাবও বারবার প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে।

রাহুল গান্ধী অভিযোগ করেন, দিল্লিতে শিক্ষার্থীদের ওপর কাঁদানে গ্যাস, লাঠিচার্জ ও পেলেট গান ব্যবহার করা হয়েছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, পুলিশের হামলায় কয়েকজন শিক্ষার্থী গুরুতর আহত হন এবং নারীদেরও লাঠিপেটা করা হয়। তিনি আরও অভিযোগ করেন, অপ্রাপ্তবয়স্ক শিক্ষার্থীদের ওপরও লাঠিচার্জ করা হয়েছে।

বিহারের সিওয়ানে শিক্ষার্থী বিক্ষোভে আগ্নেয়াস্ত্র, এমনকি একে-৪৭ ব্যবহারের অভিযোগও তোলেন রাহুল গান্ধী। তার প্রশ্ন, এই বেআইনি ও অসাংবিধানিক সহিংসতার অনুমোদন কে দিয়েছিল?

পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস ও পরীক্ষায় অনিয়মের অভিযোগে দিল্লিতে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ শুরু হয়। ২০ জুলাই রাজধানীর যন্তর মন্তরে অবস্থান নেওয়া বিক্ষোভকারীদের একটি বড় অংশ সংসদের দিকে মিছিল নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।

এ সময় বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ কাঁদানে গ্যাসের শেল ও লাঠিচার্জ করে। পরে পুলিশের সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের সংঘর্ষ হয় এবং বেশ কয়েকজনকে আটক করা হয়। এই পুলিশি অভিযানের বিষয়ে সংসদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বিবৃতি দাবি করে আসছে বিরোধীরা।

এর আগে গত সপ্তাহে রাজ্যসভায় বক্তব্য দেওয়ার সময় কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে ২০ জুলাইয়ের পুলিশি অভিযানের বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের বিবৃতি দাবি করেন। জবাবে রিজিজু বলেছিলেন, কোন মন্ত্রী কখন সংসদে এসে বক্তব্য দেবেন, তা বিরোধীরা ঠিক করে দিতে পারে না।

অমিত শাহ সংসদে উপস্থিত থাকছেন না বিরোধীদের এমন অভিযোগও নাকচ করেন রিজিজু। তিনি দাবি করেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী প্রতিদিনই সংসদ চত্বরে আসেন এবং সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত সেখানে থাকেন।

রিজিজুর অভিযোগ, বিরোধীরা অনেক সময় স্লোগান দিয়ে সংসদ থেকে বেরিয়ে যান এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বক্তব্য দিতে উঠলে তা শোনেন না। সংসদের কার্যক্রমে বাধা সৃষ্টি না করে সরকারের বক্তব্য শোনার জন্য তিনি বিরোধীদের প্রতি আহ্বান জানান।

এখন সরকারের পক্ষ থেকে শিক্ষার্থী আন্দোলন ও পুলিশি অভিযানের বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনার প্রস্তাব দেওয়ায় বিষয়টি নিয়ে সংসদে নতুন করে রাজনৈতিক উত্তেজনা তৈরি হয়েছে।

সূত্র: এনডিটিভি

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন