সোমবার
১০ আগস্ট ২০২৬, ২৬ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সোমবার
১০ আগস্ট ২০২৬, ২৬ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কলকাতায় মমতার ওপর হামলা, অল্পের জন্য প্রাণে রক্ষা

এনপিবি ডেস্ক
প্রকাশ : ০৯ আগস্ট ২০২৬, ০৫:১৬ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
expand
ছবি: সংগৃহীত

ভারতের পশ্চিমবঙ্গের উত্তর ২৪ পরগনা জেলায় সাবেক মুখ্যমন্ত্রী ও তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের গাড়িতে হামলার অভিযোগ উঠেছে।

রোববার (৯ আগস্ট) হালিশহরে এ ঘটনা ঘটে। অজ্ঞাতপরিচয় কয়েকজন দুর্বৃত্ত গাড়িতে ইট-পাথর ছুড়ে হামলা চালিয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন মমতা। এ ঘটনায় গাড়ির কাচ বন্ধ না থাকলে তার মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারত বলে দাবি করেন তিনি।

হালিশহরে পুলিশ হেফাজতে এক তৃণমূল কর্মীর কথিত মৃত্যুর ঘটনায় তার পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে যাচ্ছিলেন মমতা। পথে তার গাড়ি ঘিরে বিক্ষোভ করেন একদল মানুষ। এ সময় গাড়িতে কাদা ছোড়ার পাশাপাশি জুতা ও পানির বোতল ছোড়ার অভিযোগও উঠেছে। বিক্ষোভকারীরা ‘চোর ভাগাও’ স্লোগান দেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশকে বিক্ষোভকারীদের পেছনে ঠেলে দিতে দেখা যায়।

পরে সাংবাদিকদের মমতা বলেন, পুলিশের সামনে বাইরে থেকে আসা কিছু লোক তার গাড়িতে পাথর ছুড়েছে। গাড়ির জানালা বন্ধ না থাকলে পাথরের আঘাতে তার মাথা ফেটে যেতে পারত এবং তিনি মারা যেতে পারতেন। এমন হামলার মুখে আগে কখনো পড়েননি বলেও দাবি করেন তিনি। তার অভিযোগ, পুলিশ তাদের নিরাপত্তা দিতে কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেয়নি এবং শুধু বিজেপিকে নিরাপত্তা দেয়।

মমতার সঙ্গে থাকা লোকসভা সদস্য কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় ও রাজ্যসভার সদস্য দোলা সেনও প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় অভিযোগ করেন, মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নির্দেশে পুলিশকে ব্যবহার করে পুরো পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে।

তবে মমতার গাড়িতে হামলার অভিযোগের সঙ্গে বিজেপির কোনো সম্পৃক্ততা নেই বলে দাবি করেছে দলটি। রাজ্য বিজেপির সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য হামলার নিন্দা জানিয়ে বলেন, বিজেপি এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত নয়। হামলার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে পুলিশকে ব্যবস্থা নেওয়ারও আহ্বান জানান তিনি।

এর আগে পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূলের বড় ধরনের পরাজয়ের পর মমতার ভাতিজা ও তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্বাচনী এলাকাতেও হামলার ঘটনা ঘটেছিল বলে অভিযোগ ওঠে।

এদিকে, মমতা উত্তর ২৪ পরগনায় গিয়েছিলেন সাবেক তৃণমূল কাউন্সিলর জেনি শর্মার স্বামী বিরজু কেওটের পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে। পুলিশের হেফাজতে বিরজুর মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন তার স্ত্রী। চাঁদাবাজির অভিযোগে গ্রেপ্তার হওয়ার পর গত শুক্রবার আদালত তাকে পাঁচ দিনের পুলিশ হেফাজতে পাঠিয়েছিল।

জেনি শর্মার অভিযোগ, পুলিশ হেফাজতে বিরজুকে নির্যাতন ও মারধর করে হত্যা করা হয়েছে। তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ও এ ঘটনায় পুলিশের সমালোচনা করেছেন। তার দাবি, এফআইআরে নাম না থাকা সত্ত্বেও বিরজুকে পুলিশ ধরে নিয়ে যায় এবং শেষ পর্যন্ত তিনি আর জীবিত ফিরে আসেননি।

অভিষেক বলেন, এ ঘটনা শুধু আইনশৃঙ্খলার বিষয় নয়, বরং আইনের শাসন নিয়েই প্রশ্ন তুলছে। তবে পুলিশ হেফাজতে মৃত্যুর অভিযোগের বিষয়ে এখনো পুলিশের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

সূত্র: এনডিটিভি।

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন