

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


ভারতের উত্তর প্রদেশের মথুরা জেলায় মেয়ের প্রেমিকের সহায়তায় স্বামীকে চেতনানাশক খাইয়ে পাথর দিয়ে মাথায় আঘাত করে হত্যার অভিযোগ উঠেছে এক নারীর বিরুদ্ধে। পরে মরদেহ গুম করতে তা যমুনা নদীর পাশের একটি জঙ্গলে ফেলে রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
টাইমস নাউয়ের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শনিবার (৯ আগস্ট) পুলিশ জানায়, হত্যাকাণ্ডের পর থেকে ওই এলাকায় মরদেহের সন্ধানে তল্লাশি চালানো হচ্ছে। তবে তিন দিন ধরে অভিযান চললেও এখনো মরদেহের সন্ধান পাওয়া যায়নি।
মথুরার সিনিয়র সুপারিন্টেন্ডেন্ট অব পুলিশ শ্লোক কুমার জানান, মরদেহ উদ্ধারের পাশাপাশি গ্রেপ্তার তিন আসামিকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।
পুলিশ জানায়, নিহত মনোজ সোনির বড় ভাই রামবাবুর দায়ের করা অভিযোগের ভিত্তিতে ঘটনাটি সামনে আসে। অভিযোগে বলা হয়েছে, মনোজকে তার স্ত্রী নয়না, ছোট মেয়ে ভক্তি এবং ভক্তির কথিত প্রেমিক বিমল চৌধুরী মিলে হত্যা করেছেন।
তদন্তকারীদের ধারণা, মেয়ের প্রেমের সম্পর্ক নিয়ে বিরোধের জেরে এই হত্যাকাণ্ড ঘটে থাকতে পারে। মেয়ে ও তার প্রেমিককে একসঙ্গে দেখার পর মনোজ এই সম্পর্কের বিরোধিতা করেছিলেন, যা নিয়ে পরিবারটিতে প্রায়ই বাকবিতণ্ডা হতো।
পুলিশ জানায়, গত ১৮ এপ্রিল থেকে নিখোঁজ ছিলেন মনোজ। তার স্ত্রী প্রথমে ২১ এপ্রিল একটি নিখোঁজ ডায়েরি করলেও পরদিনই তা প্রত্যাহার করে নেন। কয়েক সপ্তাহ ধরে তার কোনও খোঁজ না পাওয়ায় রামবাবু আরেকটি অভিযোগ জানান এবং পরবর্তীতে মুখ্যমন্ত্রীর অভিযোগ সংক্রান্ত পোর্টালে যোগাযোগ করেন। এরপর গত জুলাই মাসে একটি অপরাধ সংক্রান্ত মামলা দায়ের করা হয়।
অভিযোগপত্র অনুযায়ী, অভিযুক্তরা পরবর্তীতে স্বজনদের কাছে স্বীকার করেছেন যে তারা মরদেহটি আক্রুর গ্রামের কাছের একটি জঙ্গলে নিয়ে যান, সেখানে তা পুড়িয়ে দেন এবং অবশিষ্টাংশ পুঁতে রাখেন।
রামবাবুর দাবি, স্বামী নিখোঁজ হওয়া এবং অস্বাভাবিক উদাসীন আচরণের বিষয়ে বাবা ব্রজমোহন জিজ্ঞাসাবাদ করলে একপর্যায়ে নয়না নিজের বাবার কাছে স্বীকারোক্তি দেন। অভিযোগ রয়েছে, নয়না প্রথমে তার স্বামীকে চেতনানাশক মেশানো দুধ খাওয়ান এবং পরবর্তীতে মাথায় পাথর দিয়ে থেঁতলে হত্যা করেন। এই কাজে তার মেয়ে ও মেয়ের প্রেমিক সহযোগী হিসেবে অংশ নেন। পরে তারা মরদেহ জঙ্গলে নিয়ে পুড়িয়ে মাটিচাপা দেন।
তবে মরদেহ উদ্ধার না হওয়া পর্যন্ত পুলিশ আনুষ্ঠানিকভাবে এই হত্যাকাণ্ড নিশ্চিত করেনি। পরিবারটির বাড়ি থেকে যমুনা নদী পর্যন্ত ছয় কিলোমিটার এলাকায় অনুসন্ধান চালাচ্ছে পুলিশ কর্মকর্তা ও দলগুলো। তবে ভারী বৃষ্টির কারণে মাটি খোঁড়া এবং উদ্ধার অভিযান ব্যাহত হচ্ছে। এ বিষয়ে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।