সোমবার
১০ আগস্ট ২০২৬, ২৬ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সোমবার
১০ আগস্ট ২০২৬, ২৬ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ভারতে ফাইভ স্টার হোটেলে পাওয়া গেল পচা সবজি ও মেয়াদোত্তীর্ণ দুধ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ : ০৮ আগস্ট ২০২৬, ০৭:৪৯ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
expand
ছবি: সংগৃহীত

ভারতের বেঙ্গালুরুর বিলাসবহুল পাঁচ তারকা হোটেলগুলোতে অভিযান চালিয়ে পচা সবজি, মেয়াদোত্তীর্ণ খাবার ও ছত্রাকযুক্ত খাদ্যপণ্যসহ নানা অনিয়মের সন্ধান পেয়েছে খাদ্য নিরাপত্তা কর্তৃপক্ষ। অভিযানে শহরের ফোর সিজনস ও শাংরি-লা-সহ বেশ কয়েকটি নামী হোটেলে খাদ্য নিরাপত্তা বিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ পাওয়া গেছে।

কর্ণাটকের ফুড সেফটি অ্যান্ড ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশন বিভাগ বেঙ্গালুরুর ২৬টি তিন ও পাঁচ তারকা হোটেলে এই অভিযান চালায়। এ জন্য ৩০টি খাদ্য নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের দল গঠন করা হয়। শহরের ব্রুহাত বেঙ্গালুরু মহানগর পালিকার (বিবিএমপি) সব অঞ্চলের হোটেলগুলোতে অভিযান চালানো হয়।

অভিযানে বিভিন্ন হোটেল থেকে মুরগি, খাসির মাংস, মাছ, ভোজ্যতেল, দুধ, মসলা, চা পাউডার, পনির, টমেটো সস, লেবুর রসসহ বিভিন্ন খাদ্যপণ্যের ৩৫টি নমুনা সংগ্রহ করা হয়। এসব নমুনা পরীক্ষার জন্য গবেষণাগারে পাঠানো হয়েছে। পরীক্ষার ফলাফলের ভিত্তিতে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

অভিযানে বেশ কয়েকটি হোটেলের রান্নাঘর ও খাদ্য সংরক্ষণস্থলে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ, মেয়াদোত্তীর্ণ খাদ্যপণ্য, সবজিতে ছত্রাকের উপস্থিতি এবং খাদ্য ব্যবস্থাপনায় অনিয়ম পাওয়া গেছে। এছাড়া ভুলভাবে লেবেল দেওয়া খাদ্যপণ্য, ভারতের খাদ্য নিরাপত্তা ও মান কর্তৃপক্ষের (এফএসএসএআই) লেবেলিং নীতিমালা না মানা এবং নিরামিষ ও আমিষ খাবারের জন্য আলাদা সংরক্ষণব্যবস্থা না রাখার মতো অনিয়মও শনাক্ত হয়েছে।

খাদ্য নিরাপত্তা বিভাগ জানিয়েছে, অনিয়ম পাওয়া হোটেলগুলোর সংশ্লিষ্ট খাদ্য ব্যবসা প্রতিষ্ঠানকে নোটিশ দেওয়া হয়েছে। যেসব প্রতিষ্ঠানে আইন লঙ্ঘনের প্রমাণ মিলেছে, সেগুলোর বিরুদ্ধে আইনি কার্যক্রম শুরু করা হবে।

অভিযানের সময় মেয়াদোত্তীর্ণ বা মানুষের খাওয়ার অনুপযোগী বলে চিহ্নিত উল্লেখযোগ্য পরিমাণ খাদ্যপণ্য জব্দ করে ধ্বংস করা হয়েছে।

কর্ণাটকের স্বাস্থ্যমন্ত্রী ইউটি খাদের বলেন, রাজ্যের সবচেয়ে অভিজাত হোটেলগুলোকেও খাদ্য নিরাপত্তার নিয়ম মেনে চলতে হবে এ বিষয়টি নিশ্চিত করতেই এই অভিযান চালানো হয়েছে।

তবে অভিযানে নাম আসা তাজ ইয়েশ্বন্তপুর হোটেল কর্তৃপক্ষ অভিযোগ অস্বীকার করেছে। তাদের দাবি, খাদ্য নিরাপত্তা ও স্বাস্থ্যবিধি মানার ক্ষেত্রে তারা ১০০-এর মধ্যে ৯৫ স্কোর করেছে। হোটেলটির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, তাদের রান্নাঘর থেকে জব্দ করা আমদানি করা মাংসের মেয়াদ দুই বছর এবং সেখানে কোনো মেয়াদোত্তীর্ণ পণ্য পাওয়া যায়নি।

ইন্ডিয়ান হোটেলস কোম্পানি লিমিটেডও এক বিবৃতিতে বলেছে, বেঙ্গালুরুর তাজ ও ভিভান্তাসহ তাদের কোনো হোটেলেই পচা সবজি, ফল, মাংস বা মাছ পাওয়া যায়নি এবং পরীক্ষাগারের জন্য কোনো খাদ্য নমুনাও নেওয়া হয়নি। গণমাধ্যমের কিছু প্রতিবেদনে পচা খাবার পাওয়ার যে দাবি করা হয়েছে, তা ‘ভুল’ বলেও দাবি করেছে প্রতিষ্ঠানটি।

সূত্র : এনডিটিভি

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন