মঙ্গলবার
২৮ জুলাই ২০২৬, ১৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
মঙ্গলবার
২৮ জুলাই ২০২৬, ১৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

পেপসি-রেড বুলকে বাজারজাত করা বন্ধের নির্দেশ

এনপিবি ডেস্ক
প্রকাশ : ২৭ জুলাই ২০২৬, ০৬:৩৪ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
expand
ছবি: সংগৃহীত

ভারতে উচ্চ ক্যাফেইনযুক্ত পানীয়কে ‘এনার্জি ড্রিংক’ নামে বাজারজাত করা বন্ধের নির্দেশ দিয়েছে দেশটির খাদ্য নিরাপত্তা নিয়ন্ত্রক সংস্থা। দ্রুত সম্প্রসারণশীল এই বাজারে নিয়ন্ত্রণ জোরদারের অংশ হিসেবে সরকারের এমন সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছে ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স।

রয়টার্সের সোমবার প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে সরকারি নথি ও সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রের বরাতে বলা হয়, ভারতের ফুড সেফটি অ্যান্ড স্ট্যান্ডার্ডস অথরিটি অব ইন্ডিয়া (এফএসএসএআই) এ ধরনের পানীয় প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে পণ্যের গায়ে ‘এনার্জি ড্রিংক’ বা এ ধরনের বিভ্রান্তিকর তকমা ব্যবহার অবিলম্বে বন্ধ করতে নির্দেশ দিয়েছে।

এর আগে জুলাইয়ের শুরুতে এফএসএসএআই জানিয়েছিল, সংশ্লিষ্ট কোম্পানিগুলোকে কারণ দর্শানোর নোটিশ পাঠানো হয়েছে। সংস্থাটির মতে, ভারতে এনার্জি ড্রিংকের জন্য এখনো কোনো নির্দিষ্ট মানদণ্ড নেই। ফলে ‘শরীর ও মন চাঙ্গা করে’ বা ‘সাধারণ দুর্বলতা দূর করে’—এ ধরনের দাবি ভোক্তাদের বিভ্রান্ত করতে পারে।

সূত্রগুলো জানিয়েছে, এই নির্দেশনার আওতায় পেপসি, রেড বুল, মনস্টার বেভারেজ, রিলায়েন্স এবং হেল এনার্জিসহ কয়েকটি বড় প্রতিষ্ঠানকে তাদের পণ্যে ‘এনার্জি ড্রিংক’ শব্দটি ব্যবহার বন্ধ করতে বলা হয়েছে।

নিয়ন্ত্রক সংস্থার এই সিদ্ধান্তে কোম্পানিগুলোর সঙ্গে এক ধরনের অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে। সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর আশঙ্কা, পণ্যের মূল পরিচিতি পরিবর্তন করতে হলে ব্র্যান্ডের বাজারমূল্য ও বিক্রিতে বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।

গত শুক্রবার শিল্পখাতের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে এক রুদ্ধদ্বার বৈঠকে এফএসএসএআইয়ের প্রধান নির্বাহী রাজিত পুনহানি ব্যবসায়িক ক্ষতির যুক্তি নাকচ করে দেন। তিনি জানান, কোনো প্রতিষ্ঠান আপত্তি থাকলে আদালতের দ্বারস্থ হতে পারে।

এ বিষয়ে এফএসএসএআই বা রাজিত পুনহানির আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। পেপসি মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে এবং অন্য কোম্পানিগুলোও রয়টার্সের প্রশ্নের জবাব দেয়নি।

রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, ভারতে এনার্জি ড্রিংকের বাজার ২০২৮ সালের মধ্যে প্রায় ১ দশমিক ৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে পৌঁছাতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

দেশটির সরকারি একটি সূত্র বলেছে, উচ্চপর্যায়ের আলোচনার পর শিল্প খাত লেবেল পরিবর্তনের এই সিদ্ধান্ত মেনে নিতে সম্মত হয়েছে এবং এফএসএসএআই তা বাস্তবায়নে কোম্পানিগুলোকে ৯০ দিনের সময় বেঁধে দিয়েছে।

বিশ্বজুড়ে বেশ কিছু স্বাস্থ্য প্রবিধান সংস্থা এ ধরনের পানীয় নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে আসছে। তাদের মতে, এগুলোতে মাত্রাতিরিক্ত ক্যাফেইন, চিনি এবং ‘টরিন’ নামের অ্যামিনো অ্যাসিড থাকে; যা স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। যুক্তরাজ্যে আগামী বছরের এপ্রিল থেকে ১৬ বছরের কম বয়সীদের জন্য এ ধরনের পানীয় নিষিদ্ধ হতে যাচ্ছে এবং পাকিস্তানের কিছু অঞ্চলে এগুলোকে বাধ্য হয়ে ‘‘উত্তেজক পানীয়’’ হিসেবে বিক্রি করতে হয়।

• শিল্প খাতের সংকট ও আকর্ষণীয় বিজ্ঞাপন

বিশ্বজুড়ে এনার্জি ড্রিংকের পুরো ব্যবসাই গড়ে উঠেছে তাৎক্ষণিক শক্তি পাওয়ার চটকদার বিজ্ঞাপনের ওপর ভর করে।

রেড বুলের ‘গিভস ইউ উইংস’ স্লোগানটি বিশ্বজুড়ে বহুল পরিচিত। অন্যদিকে পেপসি ভারতে তাদের ‘স্টিং’ পানীয়টির বিজ্ঞাপনে দাবি করে, এটি পান করলে শরীরে বিজলীর মতো চমক সৃষ্টি হয় এবং ‘বিদ্যুতায়িত শক্তি’ পাওয়া যায়।

ভারতের বাজারে প্রধান প্রধান কোম্পানিগুলোর প্রতিনিধিত্বকারী ইন্ডিয়ান বেভারেজ অ্যাসোসিয়েশন বলছে, তারা সরকারি প্রবিধান মেনে চলতে এবং বিজ্ঞানভিত্তিক নীতি প্রণয়নে নিয়ন্ত্রক সংস্থার সঙ্গে কাজ করার জন্য প্রস্তুত রয়েছে।

তবে গত ৬ জুলাই এফএসএসএআইকে দেওয়া এক গোপন চিঠিতে সংস্থাটি বলেছে, এভাবে বিজ্ঞপ্তি দিয়ে কঠোর পদক্ষেপ নিলে ব্র্যান্ডের সুনাম নষ্ট হবে ও বাজারে চরম বিভ্রান্তি ছড়াবে। তারা বিষয়টিতে ঝুঁকি-ভিত্তিক প্রয়োগ নীতি অনুসরণের আহ্বান জানিয়ে একটি স্বচ্ছ ও পরামর্শমূলক কাঠামোর জোর দাবি জানিয়েছে।

• ‘আমি এই পানীয়তে আসক্ত’

২০১৭ সালে পেপসি ‘স্টিং’ বাজারে আনার পর ভারতে এনার্জি ড্রিংকের বাজার ব্যাপকভাবে বিস্তৃত হয়। মাত্র ২০ রুপি দাম হওয়ায় ভারতে ১৫ থেকে ১৯ বছর বয়সী তরুণ ও শিক্ষার্থীদের মাঝে এবং গ্রামীণ এলাকায় এটি দারুণ জনপ্রিয় হয়ে ওঠে।

গবেষণাপ্রতিষ্ঠান ইউরোমনিটরের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৮ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে ভারতে এই পানীয়র বিক্রি প্রতি বছর প্রায় ১০০ শতাংশ হারে বেড়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, ২০২৮ সালের মধ্যে এর বাজার ১.৬ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছাবে; যা যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের চেয়েও দ্রুতগতিতে বাড়ছে।

উত্তর প্রদেশের ২৪ বছর বয়সী বাইক মেকানিক সানি রাজবংশী বলেন, প্রতিবার যখন খিদে পায় বা ধূমপান করতে যাই, একটা স্টিং বা ক্যাম্পা এনার্জি কিনে খাই। এতে পেট ভরে যায় আর কাজ করার নতুন শক্তি পাই। আমার মনে হয় আমি এগুলোর প্রতি আসক্ত হয়ে পড়েছি।

সরকারি তদারকির অংশ হিসেবে চলতি মাসেই ভারতের রাজস্থান রাজ্য থেকে হাজার হাজার বোতল স্টিং, ক্যাম্পা এনার্জি এবং রেড বুল জব্দ করা হয়। একই সঙ্গে অ্যামাজন, ফ্লিপকার্ট, ব্লিনকিট ও সুইগির মতো ই-কমার্স প্ল্যাটফর্মগুলোকে এ ধরনের কোনো পণ্যকে ‘‘এনার্জি ড্রিংক’’ হিসেবে প্রচার না করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

সূত্র: রয়টার্স।

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন