

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


সরকারি চাকরিজীবীদের দীর্ঘ প্রতীক্ষিত নবম জাতীয় পে-স্কেলের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের পথে এগোচ্ছে সরকার। আগামী অক্টোবরের আগেই নতুন বেতন কাঠামোর গেজেট প্রকাশের প্রস্তুতি চলছে। তবে একসঙ্গে পুরোপুরি বাস্তবায়নের বদলে আর্থিক চাপ বিবেচনায় ধাপে ধাপে কার্যকরের বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে ভাবা হচ্ছে।
অর্থ বিভাগ ও সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সচিব কমিটির সুপারিশ সমন্বয় করে নবম পে-স্কেলের প্রস্তাব মন্ত্রিসভার অনুমোদনের জন্য পাঠানো হয়েছে। মন্ত্রিসভার অনুমোদন পাওয়া গেলে নতুন বেতন কাঠামো নিয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিতে পারে সরকার।
নতুন পে-স্কেলের আর্থিক প্রভাব নিয়ে সম্প্রতি আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) প্রতিনিধিদলের সঙ্গে সরকারের একাধিক আলোচনা হয়েছে। সূত্র জানায়, দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতি বিবেচনায় আইএমএফ বেতন কাঠামো বাস্তবায়ন পিছিয়ে দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছে। তবে সরকার এ বিষয়ে নিজেদের পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোতে চায়।
সরকারের লক্ষ্য, অক্টোবরের বার্ষিক সভার আগে পে-স্কেলের গেজেট প্রকাশের প্রস্তুতি সম্পন্ন করা। একই সঙ্গে অতিরিক্ত ব্যয়ের চাপ কমাতে বাস্তবায়ন পদ্ধতি নিয়ে বিকল্প পরিকল্পনাও বিবেচনা করা হচ্ছে।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, নতুন পে-স্কেল কার্যকর হলে সরকারের অতিরিক্ত ব্যয় হতে পারে প্রায় ৪৪ হাজার কোটি টাকা। বর্তমানে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন, ভাতা ও পেনশন খাতে বড় অঙ্কের অর্থ ব্যয় হচ্ছে। এর সঙ্গে নতুন বেতন কাঠামোর ব্যয় যুক্ত হলে রাজস্ব ব্যবস্থাপনায় বাড়তি চাপ তৈরি হতে পারে।
সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে সচিব কমিটির দীর্ঘ বৈঠকে নবম পে-স্কেলের সুপারিশ, আর্থিক প্রভাব এবং বাস্তবায়নের সম্ভাব্য কৌশল নিয়ে আলোচনা হয়েছে। বৈঠকে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, অর্থসচিব ড. খায়েরুজ্জামান মজুমদারসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
সূত্র জানায়, অর্থ বিভাগ কয়েকটি বিকল্প মডেল নিয়ে কাজ করছে। এর মধ্যে রয়েছে কয়েক ধাপে বেতন বৃদ্ধি, অপেক্ষাকৃত কম বেতন পাওয়া গ্রেডগুলোকে অগ্রাধিকার দেওয়া এবং ধীরে ধীরে অতিরিক্ত ব্যয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্য তৈরি করা।
তবে এখনো নতুন পে-স্কেলের চূড়ান্ত বেতন কাঠামো প্রকাশ করা হয়নি। ফলে কোন গ্রেডে কত বেতন নির্ধারণ হবে, সে বিষয়ে এখনো সরকারি ঘোষণা নেই। গেজেট প্রকাশের আগ পর্যন্ত বিভিন্ন মাধ্যমে প্রচারিত সম্ভাব্য বেতন কাঠামোকে চূড়ান্ত হিসেবে না দেখার পরামর্শ দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।