

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


ভারতের বাণিজ্যিক রাজধানী মুম্বাইয়ে আয়োজিত শিক্ষার্থীদের একটি প্রতিবাদ কর্মসূচি চলাকালীন এক তরুণী বিক্ষোভকারীকে পুলিশের এক কর্মকর্তা ‘অত্যন্ত অশালীন স্পর্শ’ ও শ্লীলতাহানি করেছেন বলে একটি ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। এই ঘটনা কেন্দ্র করে সমগ্র এলাকায় তীব্র জনক্ষোভের পাশাপাশি রাজনৈতিক অঙ্গনে বড় ধরনের তোলপাড় ও আক্রমণ শুরু হয়েছে।
মুম্বাইয়ের দাদার নামক এলাকায় আয়োজিত বিক্ষোভের সময় ধারণ করা সেই ভিডিওটিতে দেখা যায়, সাধারণ পোশাকে থাকা একজন পুরুষ পুলিশ কর্মকর্তা এক নারী প্রতিবাদকারীকে ধরে অত্যন্ত আপত্তিজনকভাবে টেনেহিঁচড়ে নিয়ে যাচ্ছেন।
মুম্বাই কংগ্রেসের সভানেত্রী বর্ষা গায়কওয়াড় সোশ্যাল মিডিয়ায় ভিডিওটি প্রকাশ করার পরপরই এটি নেটিজেনদের মধ্যে ব্যাপক প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করে এবং মুম্বাই পুলিশের ভূমিকা ও পেশাদার আচরণ নিয়ে মারাত্মক প্রশ্ন তুলে দেয়।
অভিযুক্ত পুলিশ কর্মকর্তার এমন ন্যাক্কারজনক আচরণকে সম্পূর্ণ ‘অগ্রহণযোগ্য’ অভিহিত করে তার বিরুদ্ধে কঠোর প্রশাসনিক শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন বর্ষা গায়কওয়াড়।
মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়নবিসকে এক্স (সাবেক টুইটার) পোস্টে ট্যাগ করে তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে লেখেন, মুম্বাই পুলিশ, এটি কী ধরনের আচরণ? একজন পুরুষ পুলিশ কেন একজন তরুণী বিক্ষোভকারীকে এভাবে অশালীনভাবে সামলাচ্ছেন? তার নারী সহকর্মীদের কেন এটি সামলাতে দেওয়া হচ্ছে না? তার বিরুদ্ধে কী পদক্ষেপ নেওয়া হবে? এই আচরণ কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
ভিডিও নিয়ে মুম্বাই পুলিশের সাফাই ও ব্যাখ্যা
তবে তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েও অভিযুক্ত পুলিশ কর্মকর্তার পক্ষাবলম্বন করেছে মুম্বাই পুলিশ প্রশাসন। তাদের দাবি, সামাজিক মাধ্যমে ভিডিওটি অত্যন্ত দায়িত্বজ্ঞানহীনভাবে উপস্থাপন ও ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে।
বর্ষা গায়কওয়াডের সামাজিক মাধ্যম পোস্টের জবাবে মুম্বাই পুলিশ জানায় যে, ভিডিওতে দৃশ্যমান পুলিশ অফিসারটি মূলত এক পুরুষ বিক্ষোভকারীকে সরিয়ে একপাশে টেনে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছিলেন, কিন্তু ঠিক সেই মুহূর্তে উক্ত নারী বিক্ষোভকারী তাদের দুজনের মাঝখানে চলে আসেন।
মুম্বাই পুলিশ তাদের ব্যাখ্যায় আরও দাবি করে, নারী বিক্ষোভকারী যখন সামনে আসেন, তখন ওই পুলিশ কর্মকর্তা অন্যদিকে বা বিপরীত দিকে তাকিয়ে ছিলেন। একই সঙ্গে জানানো হয় যে, উচ্চপদস্থ ও জ্যেষ্ঠ পুলিশ কর্মকর্তারা পুরো ভিডিওটি সূক্ষ্মভাবে বিশ্লেষণ করে দেখেছেন এবং তারা ওই কর্মকর্তার আচরণের মধ্যে কোনো ভুল বা অনিয়ম খুঁজে পাননি।
ভিডিওতে দৃশ্যমান সত্য ও বিরোধীদের পাল্টা তোপ
পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে নির্দোষ দাবি করা হলেও, ভাইরাল ভিডিওটির ফুটেজে কিন্তু একটি ভিন্ন চিত্র ফুটে উঠেছে। ভিডিওতে দেখা যায়, সাভিল পোশাকে থাকা ওই পুলিশ কর্মকর্তা সরাসরি বিক্ষোভকারীদের একটি দলের দিকে তেড়ে যান। তিনি প্রথমে এক পুরুষ বিক্ষোভকারীকে ধরে ফেলার চেষ্টা করেন, তবে চরম হুড়োহুড়ির মধ্যে তার হাত গিয়ে পড়ে এক নারীর শরীরে।
ভিডিওর শুরুর অংশে হাত দিয়ে ধরার সময় অভিযুক্ত পুলিশ কর্মকর্তাকে অন্যদিকে তাকিয়ে থাকতে দেখা গেলেও, ভিডিওর শেষাংশে পরিষ্কার দেখা যায় যে, তিনি সেই নারীকে ধরা ও টেনে নিয়ে যাওয়ার সময় সরাসরি ওই নারীর দিকেই তাকিয়ে ছিলেন। ভিডিওতে আরও স্পষ্ট দেখা যায়, বিষয়টি বুঝতে পারার পরও তিনি কিন্তু সেই নারীর ওপর থেকে নিজের হাত সরিয়ে নেননি।
মুম্বাই পুলিশের এই আত্মরক্ষামূলক ব্যাখ্যার কড়া জবাব দিয়ে ন্যাশনালিস্ট কংগ্রেস পার্টি বা এনসিপির তরুণ নেতা রোহিত পাওয়ার পাল্টা আক্রমণ চালান।
পুলিশের অসংলগ্ন ব্যাখ্যাকে সম্পূর্ণ নাকচ করে দিয়ে এক্স পোস্টে রোহিত পাওয়ার প্রশ্ন তোলেন, পুরুষ বিক্ষোভকারীর বদলে একজন নারীকে ধরে ফেলেছেন বুঝতে পারার পরও কেন সেই পুলিশ কর্মকর্তা সরে আসলেন না? ভুলভাবে একজন নারীকে ধরে রেখেছেন দেখার পরও কেন তিনি নিজের হাত সরিয়ে নেননি?
টানা দুই দিনে দ্বিগুণ বিতর্কে মুম্বাই পুলিশ
মুম্বাই পুলিশের বিতর্কিত কর্মকাণ্ড ও অপেশাদার আচরণ নিয়ে গত দুই দিনের মধ্যে এটি দ্বিতীয় ঘটনা যা ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিলো।
এর আগে বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) আটক হওয়া আন্দোলনকারী ও শিক্ষার্থীদের ভুয়া মাদকের মামলায় ফাঁসিয়ে দেওয়ার ধমক দিয়ে ক্যামেরায় হাতেনাতে ধরা পড়েছিলেন মুম্বাই পুলিশের এক সদস্য। পরবর্তী সময়ে ভিডিও প্রমাণ প্রকাশ্যে আসায় সেই অভিযুক্ত পুলিশ সদস্যকে সাময়িক বরখাস্ত করেছিল মুম্বাই পুলিশ প্রশাসন।
সূত্র: এনডিটিভি