

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


পশ্চিমবঙ্গের তৃণমূল কংগ্রেসের সভানেত্রী ও প্রতিষ্ঠাতা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কংগ্রেসে যোগদানের জল্পনা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন আখ্যা দিয়েছেন কংগ্রেসের জাতীয় সাধারণ সম্পাদক কেসি ভেনুগোপাল।
বৃহস্পতিবার (১১ জুন) এক সংবাদ সম্মেলনে ভেনুগোপাল বলেন, পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং তার ভাইপো অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে সাম্প্রতিক বৈঠকে জাতীয় স্তরের ইস্যু নিয়েই আলোচনা হয়েছে। দুই দলের একীভূত হওয়া নিয়ে এমন কোনো আলোচনা হয়নি।
সম্প্রতি দিল্লি সফরে সোনিয়া গান্ধীর সঙ্গে মমতার সাক্ষাতের পরই গুঞ্জন শুরু হয়, রাজনৈতিকভাবে নিঃস্ব হয়ে যাওয়া মমতাকে পুনর্বাসন করতে পারে কংগ্রেস।
জাতীয় স্তরে তৃণমূল কংগ্রেসের বিশ্বস্ত সূত্র নিশ্চিত করে, অবশিষ্ট দল কংগ্রেসের সঙ্গে একীভূত করার শর্তে মমতাকে পুনর্বাসনের প্রস্তাব দিয়েছে কংগ্রেস। মমতাকে সেক্ষেত্রে কংগ্রেসের জাতীয় সহ-সভাপতি এবং অভিষেককে জাতীয় সাধারণ সম্পাদক করার প্রস্তাবও দেয়া হয়েছে।
এমনকি মমতার শর্ত মেনে তাকে সংসদীয় রাজনীতিতে ফেরাতে সংসদ সদস্য হিসেবে রাজ্যসভায় পাঠাবে কংগ্রেস, এমন কথাও শোনা যায়।
তবে এর সবকিছুই কংগ্রেসের পক্ষ থেকে ভিত্তিহীন দাবি করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার দিল্লির ইন্দিরা ভবনে কংগ্রেসের সব প্রদেশের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদককে নিয়ে বৈঠক করে কংগ্রেসের শীর্ষ নেতৃত্ব। দেশে মূল্যবৃদ্ধি, বেকারত্ব, নিট কেলেঙ্কারি ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ সমস্যা নিয়ে আলোচনা হয়। তবে এ দিনের বৈঠকে তৃণমূল কংগ্রেস সংক্রান্ত কোনো বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়নি বলে দাবি করেন ভেনুগোপাল।
সংবাদমাধ্যমের উদ্দেশে কংগ্রেস নেতা জয়রাম রমেশ বলেন, ‘বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে একটি খবর প্রকাশ হয়েছে। এই খবর সম্পূর্ণ ভুয়া। সোনিয়া গান্ধীর সঙ্গে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ৪০ বছরের ব্যক্তিগত সম্পর্ক। তাদের মধ্যে অনেক কথা হয়েছে। আপনারা যা বলছেন, সেসব বিষয় নিয়ে কোনও আলোচনা হয়নি।’
যদিও দিল্লির ওয়াকিবহাল সূত্রের খবর, প্রাদেশিক কংগ্রেস নেতৃত্বের তীব্র বিরোধিতার মুখে মমতাকে নিয়ে কংগ্রেস হাইকমান্ড পিছু হটতে বাধ্য হয়েছে। পশ্চিমবঙ্গে কংগ্রেসের যেটুকু অস্তিত্ব আছে, সেটুকুও বিলীন হওয়ার আশঙ্কায় মমতাকে নিয়ে কোনও সিদ্ধান্ত নিতে পারেনি সোনিয়া কিংবা রাহুল।
১৯৯৮ সালে কংগ্রেস থেকে বেরিয়ে তৃণমূল কংগ্রেস গড়েছিলেন মমতা। এরপর কংগ্রেসকে তিলে তিলে ভেঙেই তৃণমূল কংগ্রেসকে শক্তিশালী করেছিলেন মমতা। বিধানসভা নির্বাচনে শোচনীয় পরাজয়ের পর বিধানসভার পরিষদীয় দল হাতছাড়া হয় তার।
চলতি সপ্তাহে পশ্চিমবঙ্গে যখন তার দলের নেতারা একে একে সঙ্গ ছাড়ছিলেন, একের পর এক কাউন্সিলর-নেতারা গ্রেপ্তার হচ্ছিলেন, তখন মমতা দিল্লিতে ইন্ডিয়া জোটের বৈঠকে ছিলেন। মমতা দিল্লিতে থাকাকালীনই সংসদীয় দলও হাতছাড়া হয়ে মমতার।
রাজ্য এবং জাতীয় রাজনীতিতে রীতিমত কোণঠাসা মমতা এমন অবস্থায় দেখা করেন সোনিয়া গান্ধীর সঙ্গে। এরপর তৃণমূল কংগ্রেস ও কংগ্রেসের একাধিক সূত্রে মমতার কংগ্রেসে যোগদানের জল্পনার জোরদার হয়।
