

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


সম্প্রতি ভারত ও নেপালের মধ্যে চলমান সীমান্ত বিরোধ নিয়ে প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহের বক্তব্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে ভারত। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, ‘ভারত-নেপাল সীমান্তের প্রায় ৯৮ শতাংশ অংশই ইতোমধ্যে চিহ্নিত (ডিমার্কেট) করা হয়েছে এবং অবশিষ্ট সীমান্ত-সংক্রান্ত বিষয়গুলো দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান দ্বিপাক্ষিক ব্যবস্থার মাধ্যমেই সমাধানের চেষ্টা চলছে।’
মঙ্গলবার (২ জুন) সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সোয়াল স্পষ্ট করে বলেন, ‘ভারত ও নেপালের মধ্যকার বিষয়গুলোতে কোনো তৃতীয় পক্ষের ভূমিকা রাখার কোনো সুযোগ নেই।’
মূলত নেপালের প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহ দুই দেশের সীমান্ত বিরোধ মিমাংসায় চীন ও যুক্তরাজ্যের সঙ্গে কূটনৈতিক আলোচনার উদ্যোগের কথা জানিয়েছিলেন। এ বিষয়টিকেই ভালোভাবে নেয়নি ভারত।
নেপালের প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের বিষয়টি ভারত নজরে নিয়েছে বলে সাংবাদিকদের জানান জয়সোয়াল। এসময় তিনি জোর দিয়ে বলেন, ‘সীমান্ত-সংক্রান্ত বিষয়গুলো বিদ্যমান দ্বিপাক্ষিক ব্যবস্থার মাধ্যমেই সমাধান করা হচ্ছে।’
তিনি বলেন, ‘আমরা প্রধানমন্ত্রীর মন্তব্য দেখেছি। ভারত-নেপাল সীমান্তের প্রায় ৯৮ শতাংশের সীমানা নির্ধারণ সম্পন্ন হয়েছে। তবে কিছু বিষয় এখনও অমীমাংসিত রয়েছে, যার মধ্যে ‘নো-ম্যানস ল্যান্ড’-এ অনুপ্রবেশ-সংক্রান্ত সমস্যাও রয়েছে। এসব বিষয় সমাধানের জন্য আমরা দ্বিপাক্ষিক ব্যবস্থাতেই এগুচ্ছি।’
জয়সোয়াল আরও উল্লেখ করেন, গণ্ডকী নদীর গতিপথ পরিবর্তনের কারণে কিছু এলাকায় বর্তমান পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। সীমান্তের ‘নো-ম্যানস ল্যান্ড’ এলাকায় বর্তমানে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের মোতায়েন রাখা হয়েছে।
এর আগে গত রোববার (৩১ মে) নেপালের প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহ পার্লামেন্টে বলেছিলেন, ‘শুধু ভারতই নেপালের ভূখণ্ড দখল করে নেই বরং নেপালও বেশ কিছু স্থানে ভারতের ভূখণ্ড দখল করে রয়েছে। এমন জটিল পরিস্থিতির সমাধানে দুই পক্ষেরই আলোচনায় বসা উচিত।’
তিনি আরও বলেছিলেন, ‘সীমান্ত বিরোধের বিষয়ে চীন ও যুক্তরাজ্যের সঙ্গেও কূটনৈতিক আলোচনা করেছে নেপাল। আমরা শুধু ভারত ও চীনের সঙ্গেই নয়, যুক্তরাজ্য সরকারের সঙ্গেও কথা বলেছি। আমাদের মত হলো, এই বিষয়ে যুক্তরাজ্যেরও আগ্রহ দেখানো উচিত, কারণ সমস্যাটির সূত্রপাত সেই সময়ে, যখন ব্রিটিশ ভারত অঞ্চলটি ত্যাগ করেছিল।’
তথ্যসূত্র: প্রেস ট্রাস্ট অফ ইন্ডিয়া, নিউজ এইটিন
