

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


ঈদুল আজহার পরপরই দেশের সাধারণ মানুষের ওপর আসছে বিদ্যুৎ বিলের বড় এক বাড়তি খরচের চাপ। বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) শিগগিরই বিদ্যুতের নতুন খুচরা মূল্য ঘোষণা করতে যাচ্ছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র অনুযায়ী, গড়ে ২০ শতাংশ পর্যন্ত বিদ্যুতের দাম বাড়তে পারে এবং নতুন এই ট্যারিফ চলতি জুন মাস থেকেই কার্যকর করা হবে। তবে নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য একটি স্বস্তির খবর হলো, ‘লাইফ লাইন’ ক্যাটাগরির গ্রাহকদের জন্য আপাতত কোনো পরিবর্তন আনা হচ্ছে না। অর্থাৎ, আগের মতোই শূন্য থেকে ৭৫ ইউনিট পর্যন্ত বিদ্যুৎ ব্যবহারকারীরা বর্তমান হারেই বিল পরিশোধের সুবিধা পাবেন।
বিইআরসির এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ঈদের ছুটির আগেই মূল্য সমন্বয়ের সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে, এখন কেবল আনুষ্ঠানিক ঘোষণার অপেক্ষা। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) দেওয়া শর্তের অংশ হিসেবেই বিদ্যুতের দাম সমন্বয়ের এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ লক্ষ্যে দুই মাস আগে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর নেতৃত্বে গঠিত একটি মন্ত্রিসভা কমিটি প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের দাম ১ টাকা থেকে ১ টাকা ৫০ পয়সা পর্যন্ত বাড়ানোর সুপারিশ করে।
এর আগে গত ২০ ও ২১ এপ্রিল দুই দিনব্যাপী গণশুনানির আয়োজন করে বিইআরসি। সেখানে দেশের ছয়টি বিদ্যুৎ বিতরণ কোম্পানি প্রতি ইউনিটে ৮৫ পয়সা থেকে ২ টাকা ৫ পয়সা পর্যন্ত দাম বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছিল। বিতরণ কোম্পানিগুলোর এই প্রস্তাবের বিপরীতে বিইআরসির কারিগরি কমিটি গড়ে প্রতি ইউনিট ১ টাকা ২৫ পয়সা বাড়ানোর সুপারিশ করেছে এবং কমিশন শেষ পর্যন্ত এই সুপারিশই গ্রহণ করতে পারে বলে আভাস পাওয়া গেছে। বিইআরসির এক কমিশনার জানিয়েছেন, সব পক্ষের মতামত বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হলেও ইউনিটপ্রতি মূল্যবৃদ্ধি ১ টাকার কম হওয়ার কোনো সম্ভাবনা নেই।
গ্রাহকদের ব্যবহারের ওপর ভিত্তি করে ধাপে ধাপে এই মূল্য বৃদ্ধি করা হবে। ২০০ ইউনিট পর্যন্ত বিদ্যুৎ ব্যবহারকারীদের ক্ষেত্রে তুলনামূলক কম হারে দাম বাড়ানো হবে। এরপর ২০০ থেকে ৪০০ এবং ৪০০ থেকে 6০০ ইউনিট ব্যবহারকারীদের জন্য বিল ধাপে ধাপে বৃদ্ধি পাবে। তবে সবচেয়ে বেশি মূল্যবৃদ্ধির চাপ এবং বাড়তি বিলের ধাক্কা সইতে হবে ৬০০ ইউনিটের বেশি বিদ্যুৎ ব্যবহারকারী উচ্চ গ্রাহকদের।
