

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


আসন্ন ফুটবল বিশ্বকাপকে সামনে রেখে খেলার নিয়মে বড় ধরনের পরিবর্তন আনছে ফুটবলের আইন প্রণয়নকারী সংস্থা ইন্টারন্যাশনাল ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন বোর্ড (আইএফএবি)। খেলার গতি বাড়ানো, সময় নষ্ট কমানো এবং বৈষম্যমূলক আচরণের বিরুদ্ধে আরও কঠোর অবস্থান নিশ্চিত করতেই নতুন এসব নিয়ম প্রণয়ন করা হয়েছে।
যদিও নিয়মগুলো আনুষ্ঠানিকভাবে ২০২৬-২৭ মৌসুম থেকে কার্যকর হওয়ার কথা, তবে বিশ্বকাপেই প্রথমবারের মতো এগুলোর প্রয়োগ দেখা যেতে পারে।
ফিফার প্রধান রেফারিং কর্মকর্তা পিয়েরলুইজি কলিনা জানিয়েছেন, আধুনিক ফুটবলের বাস্তবতা বিবেচনায় রেখেই এই পরিবর্তনগুলো আনা হয়েছে।
মুখ ঢেকে কথা বললে কঠোর শাস্তি:
নতুন নিয়ম অনুযায়ী, ম্যাচ চলাকালে কোনো উত্তপ্ত পরিস্থিতি বা বিতর্কের সময় যদি কোনো খেলোয়াড় হাত, বাহু কিংবা জার্সি দিয়ে নিজের মুখ ঢেকে প্রতিপক্ষের সঙ্গে কথা বলেন, তাহলে তাকে সরাসরি লাল কার্ড দেখানো হতে পারে।
ফিফার ধারণা, অনেক ক্ষেত্রে খেলোয়াড়রা মুখ ঢেকে বর্ণবাদী, বৈষম্যমূলক বা আপত্তিকর মন্তব্য করেন, যা শনাক্ত করা কঠিন হয়ে পড়ে। সেই সুযোগ বন্ধ করতেই এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। তবে স্বাভাবিক পরিস্থিতিতে সতীর্থদের সঙ্গে কথোপকথনের ক্ষেত্রে এই নিয়ম প্রযোজ্য হবে না।
প্রতিবাদে মাঠ ছাড়লে সরাসরি লাল কার্ড:
রেফারির সিদ্ধান্তে অসন্তুষ্ট হয়ে কোনো খেলোয়াড় যদি মাঠ ছেড়ে চলে যান, তাহলে তাকে সরাসরি লাল কার্ড দেখানো হবে। একইভাবে কোচ বা দলের কোনো কর্মকর্তা খেলোয়াড়দের মাঠ ত্যাগে উৎসাহিত করলে তারাও শাস্তির আওতায় আসবেন।
আর কোনো দল মাঠ ছেড়ে যাওয়ার কারণে ম্যাচ সম্পন্ন না হলে প্রতিপক্ষকে বিজয়ী ঘোষণা করা হবে।
সময় নষ্ট ঠেকাতে কাউন্টডাউন ব্যবস্থা:
ফুটবলে সময় নষ্ট করা দীর্ঘদিনের একটি বিতর্কিত বিষয়। নতুন নিয়মে থ্রো-ইন ও গোল-কিক নেওয়ার ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে।
রেফারি দৃশ্যমানভাবে পাঁচ সেকেন্ডের কাউন্টডাউন শুরু করবেন। থ্রো-ইনের ক্ষেত্রে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বল মাঠে না পাঠাতে পারলে বলের দখল প্রতিপক্ষের কাছে চলে যাবে।
গোলরক্ষক যদি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে গোল-কিক নিতে ব্যর্থ হন, তাহলে প্রতিপক্ষ দল কর্নার কিক পাবে।
বদলি খেলোয়াড়দের জন্য নতুন বাধ্যবাধকতা:
খেলোয়াড় পরিবর্তনের সময়ও আসছে নতুন নিয়ম। চতুর্থ রেফারি যখন বদলির সংকেত দেবেন, তখন মাঠ ছাড়তে যাওয়া খেলোয়াড়কে ১০ সেকেন্ডের মধ্যে মাঠের নিকটতম সীমানা দিয়ে বাইরে যেতে হবে।
এ সময়সীমা অতিক্রম করলে বদলি হিসেবে নামতে যাওয়া খেলোয়াড়কে অতিরিক্ত এক মিনিট অপেক্ষা করতে হবে। খেলা পরবর্তীবার বন্ধ হওয়ার পরই তিনি মাঠে প্রবেশের অনুমতি পাবেন।
তবে গুরুতর ইনজুরি বা নিরাপত্তাজনিত কারণে ব্যতিক্রম রাখা হয়েছে।
চিকিৎসার পর বাধ্যতামূলক অপেক্ষা:
চোট পেয়ে কোনো আউটফিল্ড খেলোয়াড় মাঠে চিকিৎসা নিলে চিকিৎসা শেষে সঙ্গে সঙ্গে খেলায় ফিরতে পারবেন না। তাকে অন্তত এক মিনিট মাঠের বাইরে থাকতে হবে।
তবে গোলরক্ষকের চোট, মাথায় গুরুতর আঘাত, গোলরক্ষক ও অন্য খেলোয়াড়ের সংঘর্ষ কিংবা পেনাল্টি নিতে যাওয়া খেলোয়াড়ের ক্ষেত্রে এই নিয়ম প্রযোজ্য হবে না।
ভিএআরের ক্ষমতা আরও বাড়ছে:
ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি (ভিএআর) প্রযুক্তির ব্যবহারও আরও বিস্তৃত করা হয়েছে। এখন ভুল খেলোয়াড়কে কার্ড দেখানো, ভুলভাবে দ্বিতীয় হলুদ কার্ড প্রদান কিংবা কর্নার কিক সংক্রান্ত স্পষ্ট ভুল সিদ্ধান্ত সংশোধনের ক্ষেত্রেও ভিএআর ব্যবহার করা যাবে।
এ ছাড়া কর্নার বা ফ্রি-কিকের আগে আক্রমণভাগের খেলোয়াড়ের ফাউল ধরা না পড়লে ভিএআর রেফারিকে বিষয়টি পর্যালোচনার পরামর্শ দিতে পারবে।
বাধ্যতামূলক পানি পানের বিরতি:
উচ্চ তাপমাত্রা ও খেলোয়াড়দের শারীরিক সুরক্ষার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে বিশ্বকাপের প্রতিটি ম্যাচে বাধ্যতামূলক হাইড্রেশন ব্রেক রাখা হবে।
প্রতি অর্ধে একবার করে প্রায় তিন মিনিটের বিরতি দেওয়া হবে, যাতে খেলোয়াড়রা পানি পান ও শারীরিকভাবে কিছুটা পুনরুদ্ধারের সুযোগ পান।
চিকিৎসার সময় কোচিংয়ে নিষেধাজ্ঞা:
নতুন নিয়ম অনুযায়ী, গোলরক্ষক চিকিৎসা নেওয়ার সময় অন্য খেলোয়াড়রা সাইডলাইনে গিয়ে কোচের কাছ থেকে কৌশলগত নির্দেশনা নিতে পারবেন না।
ফিফার মতে, চিকিৎসা বিরতিকে অনানুষ্ঠানিক ‘টাইম-আউট’ হিসেবে ব্যবহার করার প্রবণতা কমাতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
