শনিবার
০৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ২৩ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
শনিবার
০৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ২৩ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

৩ বোনের আত্মহত্যার ঘটনায় বেরিয়ে এলো চাঞ্চল্যকর তথ্য

এনপিবি ডেস্ক
প্রকাশ : ০৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৫:০৩ এএম
ছবি সংগৃহীত
expand
ছবি সংগৃহীত

ভারতের উত্তর প্রদেশের গাজিয়াবাদে ৯ তলা থেকে লাফ দিয়ে ১৬ বছরের কম বয়সী তিন বোনের মৃত্যু ঘটনায় তদন্ত চলাকালীন একের পর এক চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে।

প্রাথমিকভাবে মেয়েদের বাবা সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, তার সন্তানরা একটি কোরীয় গেম খেলছিল। গেমটিতে তাদের বিভিন্ন কাজ বা টাস্ক দেওয়া হয়েছিল এবং শেষ টাস্কটি আত্মহত্যা করার নির্দেশ ছিল।

তবে সন্ধ্যার দিকে পুলিশ এই বিষয়টি পুরোপুরি খারিজ করেছে। পুলিশ জানায়, তিন বোন মূলত তাদের বাবা-মায়ের মুঠোফোনে সারাক্ষণ কোরীয় নাটক দেখত। অতিরিক্ত আবেগপ্রবণ কোরীয় নাটকের প্রভাব থাকলেও পরিবারের আরও বড় সমস্যা ছিল।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, মেয়েদের বাবা চেতন কুমার শেয়ারবাজারের একজন বিনিয়োগকারী। তার ওপর প্রায় ২ কোটি রুপি ঋণের বোঝা ছিল। এমনকি বিদ্যুতের বিল মেটানোর জন্য তিনি মেয়েদের মুঠোফোন বিক্রি করতে বাধ্য হন। এছাড়া তিনি মাঝেমধ্যেই মেয়েদের বিয়ে দিয়ে দেবেন বলে হুমকি দিতেন।

ঘটনাটি গত বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) এনডিটিভি প্রতিবেদনে প্রকাশিত হয়েছে।

গত সপ্তাহে চেতন কুমার মেয়েদের মুঠোফোন ব্যবহার করতে নিষেধ করেন। ১৬ বছর বয়সী নিশিকা, ১৪ বছরের প্রাচী এবং ১২ বছরের পাখি বাবার এই সিদ্ধান্তে খুব মনঃক্ষুণ্ণ হয়েছিল। কারণ, তারা মুঠোফোনে কোরীয় নাটকে বুঁদ হয়ে থাকত।

চেতন কুমারের দুজন স্ত্রী। দ্বিতীয় স্ত্রী হলেন তার প্রথম স্ত্রীর আপন বোন। প্রথম পক্ষের এক ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে এবং দ্বিতীয় পক্ষের এই তিন মেয়ে ছিল। আর্থিক অবস্থা এতটাই খারাপ ছিল যে করোনার পর তিনি মেয়েদের আর স্কুলেও পাঠাননি।

এ ছাড়া প্রথম স্ত্রীর ১৪ বছরের ছেলেটি মানসিকভাবে অসুস্থ, যা পরিবারের জন্য বাড়তি চাপ হয়ে দাঁড়িয়েছিল।

গত মঙ্গলবার দিবাগত রাত ২টার দিকে প্রতিবেশীরা বিকট শব্দ শুনতে পান। প্রত্যক্ষদর্শী পাশের ফ্ল্যাটের বাসিন্দা অরুণ সিং জানান, তিনি বারান্দা থেকে দেখেছিলেন, বড় মেয়েটি কার্নিশের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। বাকি দুই বোন তাকে টেনে ধরার চেষ্টা করছিল। একপর্যায়ে সবচেয়ে ছোট মেয়েটি বড় বোনের কোমর জড়িয়ে ধরে এবং অন্যজন হাত ধরে থাকে; এভাবেই তিনজন নিচে পড়ে যায়।

তদন্তে জানা যায়, পুলিশ মেয়েদের ঘরের দরজা ভেঙে ভেতরে ঢোকে। সেখানে সিনেমার সংলাপ ও কবিতার মতো কিছু লেখা পাওয়া যায়। পরিবারের সদস্যদের ছবি গোল করে সাজানো ছিল। একটি ৮ পাতার ডায়েরি পাওয়া গেছে, যেখানে লেখা ছিল, বাবা-মা যেন এটা পড়ে, কারণ এখানে লেখা সবকিছু সত্যি।

কক্ষে একটি মুঠোফোনও পাওয়া যায়। এটির ওয়ালপেপারে তিন বোনের ছবি ছিল। এতে তারা নিজেদের জন্য পছন্দ করা কোরীয় নাম লিখে রেখেছিল। পুলিশ সেখানে কোনো প্রাণঘাতী গেমের প্রমাণ এখনো পায়নি।

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

মন্তব্য করুন

X