

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


ভারতের কেরালায় সম্প্রতি নেগলিরিয়া ফাওলরি জীবাণুর সংক্রমণ দেখা দিয়েছে। নেগলিরিয়া ফাওলরি একটি বিরল এবং প্রাণঘাতী মস্তিষ্কসংক্রমণ সৃষ্টি করে।
এতে আক্রান্ত হয়ে এখন পর্যন্ত ১৭ জন মারা গেছেন, যার মধ্যে তিন মাস বয়সের একটি শিশুও রয়েছে। গত মাসে কোঝিকোড়ে ৫২ বছর বয়সী নারীর মৃত্যু হয়, সেপ্টেম্বর মাসে সাতজন মারা গেছেন। বর্তমানে আরও অনেক রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে এখন পর্যন্ত ৫২ জন আক্রান্ত শনাক্ত হয়েছে, বয়স ৩ মাস থেকে ৯১ বছর পর্যন্ত, এর মধ্যে ৩৩ পুরুষ ও ১৯ নারী। আগস্ট-সেপ্টেম্বরের মধ্যে একাধিক ক্লাস্টার রিপোর্ট হয়েছে, যা এই প্রাদুর্ভাবকে সবচেয়ে গুরুতর হিসেবে চিহ্নিত করেছে।
প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হয়েছিল যে সংক্রমণ শুধুমাত্র পুকুর, হ্রদ বা সুইমিংপুলের পানির মাধ্যমে হয়। তবে সম্প্রতি দেখা গেছে, আক্রান্তদের মধ্যে অনেকেই শুধুমাত্র বাড়ি বা ফ্ল্যাটের বাথরুমে গোসল করেছিলেন।
এই জীবাণু উষ্ণ মিঠা পানিতে থাকে যেমন পুকুর, নদী, অযত্নে রাখা কুয়া এবং অপর্যাপ্ত ক্লোরিনযুক্ত সুইমিংপুলে। এটি নাকের মাধ্যমে শরীরে প্রবেশ করে এবং মস্তিষ্কে কোষ ধ্বংস করতে থাকে। এক ব্যক্তি থেকে অন্য ব্যক্তিতে ছড়ায় না এবং সমুদ্রের পানিতে ছড়াতে পারে না।
প্রাথমিক উপসর্গের মধ্যে রয়েছে উচ্চ জ্বর, তীব্র মাথাব্যথা, বমি ও শক্ত ঘাড়। পরবর্তী উপসর্গের মধ্যে বিভ্রান্তি, সিজার, ভারসাম্যহীনতা ও কোমা। চিকিৎসা না করলে সংক্রমণের ৫-৭ দিনের মধ্যে মৃত্যু হতে পারে।
কেরালা কর্তৃপক্ষ ‘ওয়াটার ইজ লাইফ’ ক্লোরিনেশন ক্যাম্পেইন চালু করেছে বিভিন্ন কুয়া, ট্যাংক এবং পাবলিক স্নান স্থলে। আক্রান্ত এলাকায় জ্বর বা স্নায়ুবিষয়ক উপসর্গ থাকা রোগী পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। পরিবেশগত নমুনা সংগ্রহ করা হচ্ছে এবং সিএসএফ ও নাকের সোয়াব পরীক্ষা করা হচ্ছে।
হাসপাতালগুলি, বিশেষ করে কোঝিকোড় মেডিকেল কলেজ, হাই অ্যালার্টে রয়েছে। সাধারণ মানুষকে সতর্ক করা হচ্ছে: অপরিষ্কার পানিতে সাঁতার বা গোসল এড়িয়ে চলতে, বাড়ির কুয়া বা সুইমিংপুলে সঠিক ক্লোরিনেশন নিশ্চিত করতে, নাক পরিষ্কার করতে ফুটানো বা ফিল্টার করা পানি ব্যবহার করতে এবং উন্মুক্ত জলাশয়ে গোসল করার সময় নাকের ক্লিপ ব্যবহার করতে।
কেরালা এখন এই বিরল কিন্তু প্রাণঘাতী মস্তিষ্কখেকো সংক্রমণের বিরুদ্ধে লড়াই করছে। দ্রুত সচেতনতা, নিরাপদ পানি ব্যবহারের অভ্যাস এবং তাত্ক্ষণিক চিকিৎসা একমাত্র সুরক্ষা হতে পারে।
মন্তব্য করুন
