রবিবার
১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
রবিবার
১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বাগানের মাটি খুঁড়তেই মিলল বিশাল রৌপ্যভান্ডার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ : ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৪:১৭ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
expand

বাড়ির পেছনের বাগানে টেরেস তৈরির কাজ করছিলেন ডেনমার্কের রেবিল্ড এলাকার এক ব্যক্তি। মাটি কাটার সময় হঠাৎ তার চোখে পড়ে কয়েকটি পুরোনো রুপার বস্তু। শুরুতে তিনি হয়তো ভাবেননি, ছোট এই আবিষ্কারের পেছনে লুকিয়ে আছে প্রায় এক হাজার বছরের ইতিহাস।

ঘটনার খবর পেয়ে প্রত্নতাত্ত্বিকেরা সেখানে গিয়ে খনন ও পরীক্ষা শুরু করেন। এরপর একে একে বেরিয়ে আসে বিপুলসংখ্যক রুপার নিদর্শন। গবেষকদের মতে, এটি ডেনমার্কে আবিষ্কৃত ভাইকিং যুগের সবচেয়ে বড় রৌপ্যভাণ্ডারগুলোর একটি।

খননকাজে এখন পর্যন্ত প্রায় ৭০০টি রুপার বস্তু পাওয়া গেছে। সব মিলিয়ে এসব নিদর্শনের ওজন প্রায় ১৮ দশমিক ৫ কেজি। এর মধ্যে রয়েছে রুপার দণ্ড, অলংকার ও মুদ্রা। এছাড়া থরের হাতুড়ির আদলের ছোট একটি রুপার বস্তুও পাওয়া গেছে।

ধারণা করা হচ্ছে, এসব বস্তু ভাইকিং যুগের। অর্থাৎ এগুলো প্রায় এক হাজার বছর আগে মাটির নিচে রাখা হয়েছিল। এত দীর্ঘ সময় পার হওয়ার পরও অনেক নিদর্শন ভালো অবস্থায় রয়েছে। ফলে শুধু প্রত্নতাত্ত্বিক মূল্য নয়, গবেষণার দিক থেকেও এগুলোর গুরুত্ব অনেক।

ভাইকিংদের ইতিহাসে রুপার ব্যবহার ছিল ব্যাপক। তারা ইউরোপের বিভিন্ন অঞ্চলে অভিযান চালানোর পাশাপাশি বাণিজ্যেও সক্রিয় ছিল। মুদ্রা, অলংকার ও রুপার অন্যান্য সামগ্রী ছিল তাদের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

নতুন আবিষ্কারে পাওয়া মুদ্রা ও অন্যান্য নিদর্শন বিশ্লেষণ করে সে সময়ের বাণিজ্যপথ এবং বিভিন্ন অঞ্চলের সঙ্গে ভাইকিংদের যোগাযোগ সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যেতে পারে। একই জায়গায় এত বিপুল পরিমাণ রুপার সামগ্রী পাওয়ায় গবেষকদের কাছে আরও একটি প্রশ্ন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে—কেন এগুলো একসঙ্গে এখানে জমা করা হয়েছিল?

কোনো ব্যক্তি বা পরিবার কি বিপদের সময় নিজেদের সম্পদ মাটির নিচে লুকিয়ে রেখেছিল? নাকি এর পেছনে ছিল অন্য কোনো সামাজিক বা ঐতিহাসিক কারণ? আপাতত এসব প্রশ্নের নিশ্চিত উত্তর নেই।

প্রত্নতাত্ত্বিকেরা উদ্ধার হওয়া বস্তুগুলোর ধরন, বয়স ও উৎস বিশ্লেষণ করছেন। বিশেষ করে মুদ্রাগুলো থেকে ভাণ্ডারটির সময়কাল এবং তৎকালীন মানুষের যোগাযোগের পরিধি সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য মিলতে পারে।

সবচেয়ে চমকপ্রদ বিষয় হলো, এত বড় আবিষ্কারের শুরু হয়েছিল একেবারেই সাধারণ একটি নির্মাণকাজ দিয়ে। বাড়ির মালিক বাগানে টেরেস বানানোর জন্য মাটি কাটছিলেন। সেই মাটির নিচেই শত শত বছর ধরে চাপা পড়ে ছিল ভাইকিং যুগের রুপার ভাণ্ডার।

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
X
City bank
City bank