রবিবার
১১ জানুয়ারি ২০২৬, ২৭ পৌষ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
রবিবার
১১ জানুয়ারি ২০২৬, ২৭ পৌষ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

‘আগে গুলি, পরে প্রশ্ন’

এনপিবি ডেস্ক
প্রকাশ : ০৯ জানুয়ারি ২০২৬, ০৩:৪৩ পিএম
ডেনমার্কের প্রধানমন্ত্রী মেট্টে ফ্রেডেরিকসেন ও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: সংগৃহীত
expand
ডেনমার্কের প্রধানমন্ত্রী মেট্টে ফ্রেডেরিকসেন ও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: সংগৃহীত

সাবেক ভেনেজুয়েলান প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে সামরিক অভিযানের মাধ্যমে সরিয়ে দেওয়ার ঘটনার পর থেকেই আগ্রাসী বক্তব্য ও অবস্থানে আলোচনায় রয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। একের পর এক দেশে সামরিক হস্তক্ষেপের হুমকি দিচ্ছেন তিনি, যার তালিকায় এবার উঠে এসেছে ইউরোপের দেশ ডেনমার্কের অধীন স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল গ্রিনল্যান্ডের নামও।

প্রাকৃতিক সম্পদে সমৃদ্ধ এই দ্বীপটি দখলের বিষয়ে ডেনমার্ক ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতি প্রকাশ্য হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ট্রাম্প। এমন পরিস্থিতিতে এবার কড়া প্রতিক্রিয়া জানাল কোপেনহেগেন।

ডেনমার্কের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছে গ্রিনল্যান্ডের ভূখণ্ডে কোনো বিদেশি সামরিক বাহিনী প্রবেশের চেষ্টা করলে তাৎক্ষণিক প্রতিরোধ গড়ে তোলা হবে। প্রয়োজনে “আগে গুলি, পরে প্রশ্ন” এই নীতিই অনুসরণ করবে ডেনিশ সেনারা। এ ক্ষেত্রে কোনো দেশকেই ছাড় দেওয়া হবে না, যুক্তরাষ্ট্রও এর বাইরে নয়।

প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের ভাষ্য অনুযায়ী, ১৯৫২ সাল থেকে ডেনমার্কের সেনাবাহিনীতে কার্যকর একটি ‘রুল অব এনগেজমেন্ট’ রয়েছে। এই নিয়ম অনুযায়ী, সরাসরি হুমকির মুখে পড়লে সেনাদের ওপর থেকে উচ্চপর্যায়ের অনুমতির অপেক্ষা না করে সঙ্গে সঙ্গে হামলা প্রতিহত করার নির্দেশনা আছে। ডেনিশ দৈনিক বার্লিংস্কে এই নীতির বর্তমান অবস্থা জানতে চাইলে মন্ত্রণালয় নিশ্চিত করে নিয়মটি এখনো বহাল রয়েছে।

ডেনমার্কের এই অবস্থান এমন সময় সামনে এলো, যখন ট্রাম্প প্রকাশ্যে একাধিকবার গ্রিনল্যান্ডকে যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার আগ্রহের কথা জানিয়েছেন। ন্যাটোভুক্ত এই অঞ্চলটি দখলে নিতে প্রয়োজনে সামরিক শক্তি ব্যবহারের কথাও ভাবা হচ্ছে বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি।

হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট জানান, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের দৃষ্টিতে গ্রিনল্যান্ড যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তার ভাষায়, আর্কটিক অঞ্চলে প্রতিপক্ষ শক্তিগুলোর প্রভাব ঠেকানোই যুক্তরাষ্ট্রের মূল লক্ষ্য, আর সে উদ্দেশ্যে বিভিন্ন বিকল্প বিবেচনায় রয়েছে সামরিক শক্তি ব্যবহারও তার একটি অংশ।

তবে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও তুলনামূলক সংযত সুরে জানিয়েছেন, ট্রাম্প গ্রিনল্যান্ড কেনার বিষয়ে আগ্রহী হলেও সামরিক সংঘাত চান না। তিনি জানান, আগামী সপ্তাহে ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ডের প্রতিনিধিদের সঙ্গে এ বিষয়ে বৈঠক করবেন। ডেনমার্কও আলোচনার পথকে স্বাগত জানিয়ে এটিকে প্রয়োজনীয় কূটনৈতিক সংলাপ হিসেবে দেখছে।

অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স অভিযোগ করেন, গ্রিনল্যান্ডের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ডেনমার্ক ব্যর্থ হয়েছে। আর্কটিক অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত স্বার্থ রক্ষায় ট্রাম্প “প্রয়োজন হলে আরও কঠোর পদক্ষেপ নিতেও প্রস্তুত”—এমন মন্তব্য করেন তিনি।

ডেনমার্ক সরকার বরাবরই বলে আসছে, গ্রিনল্যান্ড কোনোভাবেই বিক্রির বিষয় নয়। ইউরোপের বিভিন্ন দেশের নেতারাও এক যৌথ বিবৃতিতে যুক্তরাষ্ট্রকে সতর্ক করে বলেন, ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ডের সার্বভৌমত্ব অবশ্যই সম্মান করতে হবে।

ডেনমার্কের প্রধানমন্ত্রী মেটে ফ্রেডেরিকসেন আরও একধাপ এগিয়ে বলেন, গ্রিনল্যান্ডে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক আগ্রাসন হলে তা ন্যাটো জোটের অস্তিত্ব এবং দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ-পরবর্তী ইউরোপীয় নিরাপত্তা কাঠামোর জন্য মারাত্মক হুমকি হয়ে দাঁড়াবে।

ট্রাম্প প্রশাসনের যুক্তি অবশ্য ভিন্ন। তাদের দাবি, আর্কটিক অঞ্চলে চীন ও রাশিয়ার ক্রমবর্ধমান প্রভাবের প্রেক্ষাপটে বিশ্বের সবচেয়ে বড় দ্বীপ গ্রিনল্যান্ডের নিয়ন্ত্রণ যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তার জন্য অপরিহার্য।

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

মন্তব্য করুন

X