

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


চীন–বাংলাদেশ সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নেওয়ার বার্তা দিয়েছেন চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। তিনি বলেছেন, বিশ্ব যতই পরিবর্তিত হোক না কেন, চীন–বাংলাদেশ বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের সামগ্রিক দিকনির্দেশনায় নিজেদের দেওয়া প্রতিশ্রুতি থেকে চীন কখনো বিচ্যুত হবে না
শুক্রবার (২৬ জুন) প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে বৈঠকের পর দুই নেতা যৌথভাবে ‘নতুন যুগের চীন–বাংলাদেশ অভিন্ন ভবিষ্যতের সম্প্রদায়’ গঠনের ঘোষণা দেন। এই উদ্যোগের মাধ্যমে দুই দেশের কৌশলগত সম্পর্ককে আরও বিস্তৃত করার লক্ষ্য তুলে ধরা হয়।
বৈঠক শেষে শি জিনপিং বলেন, বাংলাদেশকে চীন দীর্ঘদিনের নির্ভরযোগ্য বন্ধু, প্রতিবেশী ও উন্নয়ন–অংশীদার হিসেবে দেখে। তাঁর ভাষায়, আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির পরিবর্তন দুই দেশের পারস্পরিক সহযোগিতার ভিত্তিকে প্রভাবিত করবে না; বরং ভবিষ্যতেও এই সম্পর্ক আরও শক্তিশালী হবে।
চীনের প্রেসিডেন্ট বলেন, বেইজিং বাংলাদেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও ভৌগোলিক অখণ্ডতার প্রতি সমর্থন অব্যাহত রাখবে এবং দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে যেকোনো ধরনের বিদেশি হস্তক্ষেপের বিরোধিতা করবে। একই সঙ্গে বাংলাদেশের নতুন সরকারের উন্নয়ন পরিকল্পনায় সহযোগিতা করার আগ্রহও পুনর্ব্যক্ত করেন তিনি।
অর্থনৈতিক সহযোগিতার প্রসঙ্গে শি জানান, উচ্চমানের বেল্ট অ্যান্ড রোড উদ্যোগের আওতায় দুই দেশের অংশীদারত্ব আরও জোরদার করতে চায় চীন। পাশাপাশি সবুজ উন্নয়ন, ডিজিটাল অর্থনীতি, তথ্যপ্রযুক্তি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং স্বল্প-কার্বন প্রযুক্তির মতো নতুন খাতেও যৌথ উদ্যোগের সুযোগ রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
তিনি আরও বলেন, স্বাস্থ্য, শিক্ষা, সংস্কৃতি ও স্থানীয় পর্যায়ে জনগণের মধ্যে যোগাযোগ বাড়ানোর পাশাপাশি চীন–মিয়ানমার–বাংলাদেশ অর্থনৈতিক করিডোর বাস্তবায়নের দিকেও গুরুত্ব দিতে চায় বেইজিং।
আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও বাংলাদেশের সঙ্গে সমন্বয় বাড়ানোর কথা তুলে ধরেন শি। তাঁর মতে, জাতিসংঘসহ বহুপাক্ষিক প্ল্যাটফর্মে দুই দেশের ঘনিষ্ঠ সহযোগিতা বৈশ্বিক দক্ষিণের দেশগুলোর স্বার্থ রক্ষায় ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে।
অন্যদিকে, চীনা কমিউনিস্ট পার্টির ১০৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে শুভেচ্ছা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, বাংলাদেশের উন্নয়নযাত্রায় চীন একটি আস্থাভাজন ও গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার। চীনের আধুনিকায়নের অভিজ্ঞতা বাংলাদেশের জন্যও অনুকরণীয় বলে তিনি মন্তব্য করেন।
তারেক রহমান জানান, বেল্ট অ্যান্ড রোড উদ্যোগের আওতায় সহযোগিতা বাড়ানোর পাশাপাশি বাণিজ্য, কৃষি, অবকাঠামো, প্রযুক্তি, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে যৌথ উদ্যোগ আরও সম্প্রসারণে আগ্রহী বাংলাদেশ।
বৈঠকে তিনি বাংলাদেশের ‘এক চীন নীতি’র প্রতি অটল অবস্থানের কথাও পুনর্ব্যক্ত করেন। একই সঙ্গে তাইওয়ানকে চীনের অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে স্বীকৃতি এবং এ-সংক্রান্ত জাতিসংঘের প্রস্তাবের প্রতি বাংলাদেশের সমর্থনের বিষয়টি উল্লেখ করেন।
এ ছাড়া আন্তর্জাতিক শান্তি, উন্নয়ন ও ন্যায়ভিত্তিক বৈশ্বিক ব্যবস্থা গঠনে চীনের বিভিন্ন বৈশ্বিক উদ্যোগের প্রশংসা করে তারেক রহমান বলেন, আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন ইস্যুতে ভবিষ্যতেও বেইজিংয়ের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সমন্বয় বজায় রাখতে আগ্রহী ঢাকা।
