শুক্রবার
২০ মার্চ ২০২৬, ৬ চৈত্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শুক্রবার
২০ মার্চ ২০২৬, ৬ চৈত্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

নেপালের পার্লামেন্টে ঢুকে পড়েছে হাজার হাজার ছাত্র-জনতা

এনপিবি ডেস্ক
প্রকাশ : ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ০৫:১১ পিএম আপডেট : ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ০৫:১২ পিএম
expand
নেপালের পার্লামেন্টে ঢুকে পড়েছে হাজার হাজার ছাত্র-জনতা

নেপালে ফেসবুক, ইউটিউব, এক্সসহ জনপ্রিয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম বন্ধের প্রতিবাদে রাজধানী কাঠমান্ডুতে ব্যাপক আন্দোলন ছড়িয়ে পড়েছে। বিক্ষোভকারীরা সংসদ ভবনে প্রবেশ করলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।

এ ঘটনায় পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে অন্তত ১৪ জন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে রাজধানীতে কারফিউ জারি করেছে প্রশাসন এবং সেনা মোতায়েন করা হয়েছে।

স্থানীয় গণমাধ্যম সূত্রে জানা যায়, নিহতদের মধ্যে ন্যাশনাল ট্রমা সেন্টারে ছয়জন, সিভিল হাসপাতালে তিনজন, এভারেস্ট হাসপাতালে তিনজন, কাঠমান্ডু মেডিকেল কলেজে একজন এবং ত্রিভুবন বিশ্ববিদ্যালয় টিচিং হাসপাতালে একজন মারা যান। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, নিহতদের বেশিরভাগের শরীরে গুলির আঘাত ছিল।

বিক্ষোভে আহতের সংখ্যা এত বেশি যে হাসপাতালগুলো রোগীদের জায়গা দিতে হিমশিম খাচ্ছে। কিছু রোগীকে অন্য হাসপাতালে পাঠানো হচ্ছে।

জানা গেছে, নেপাল সরকার সম্প্রতি ২৬টি অনিবন্ধিত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম বন্ধের সিদ্ধান্ত নেয়। এর মধ্যে রয়েছে ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম, হোয়াটসঅ্যাপ, ইউটিউব ও স্ন্যাপচ্যাট। সরকার জানিয়েছিল, এসব প্ল্যাটফর্মকে নিবন্ধন করতে হবে, দেশে প্রতিনিধি নিয়োগ দিতে হবে এবং অভিযোগ ব্যবস্থাপনার জন্য অফিস রাখতে হবে। কিন্তু নির্ধারিত সময়ের মধ্যে শর্ত মানা হয়নি। ফলে ৪ সেপ্টেম্বর থেকে নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হয়।

এই সিদ্ধান্তে ক্ষুব্ধ হয়ে বিশেষ করে তরুণ প্রজন্ম সরকারকে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা দমনের অভিযোগ তোলে। শান্তিপূর্ণ মিছিল দিয়ে আন্দোলন শুরু হলেও পরে তা সহিংসতায় রূপ নেয়। বিক্ষোভকারীরা সংসদ ভবনের ব্যারিকেড ভেঙে ভেতরে প্রবেশের চেষ্টা করলে পুলিশ জলকামান, টিয়ারগ্যাস ও রাবার বুলেট ব্যবহার করে। এতে পরিস্থিতি আরও অগ্নিগর্ভ হয়ে ওঠে।

সংঘর্ষের পর প্রশাসন প্রথমে বানেশ্বর এলাকায় সীমিত কারফিউ জারি করলেও পরে তা সম্প্রসারণ করে প্রেসিডেন্টের বাসভবন শীতল নিবাস, উপ-রাষ্ট্রপতির বাসভবন, প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন বালুওয়াটার, সিংহ দরবার এবং আশপাশের সংবেদনশীল এলাকায়।

কাঠমান্ডুর প্রধান জেলা কর্মকর্তা ছাবিলাল রিজাল জানিয়েছেন, স্থানীয় প্রশাসন আইনের ধারা ৬ অনুযায়ী কারফিউ দুপুর ১২টা ৩০ মিনিট থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত বলবৎ থাকবে। এই সময়ে জনসমাগম, মিছিল কিংবা ঘেরাও কার্যক্রম সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

মন্তব্য করুন