

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


চারপাশে শুধু পানি আর পানি। পাহাড়ি ঢলের ঘোলা স্রোত ছুটে চলছে ভয়ংকর গতিতে। সেই স্রোতের সঙ্গে ভেসে যাচ্ছে গাছপালা, ঘরবাড়ির ধ্বংসাবশেষ ও নানা স্থাপনা। এর মধ্যেই ধ্বংসযজ্ঞের মাঝে অদ্ভুতভাবে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায় একটি সবুজ রঙের বাড়িকে।
বাড়িটির চারপাশের অনেক স্থাপনা তখন পানির তোড়ে ক্ষতিগ্রস্ত বা নিশ্চিহ্ন। অথচ প্রবল স্রোতের মধ্যেও বাড়িটি টিকে আছে। আরও উদ্বেগের বিষয় ছিল, ওই বাড়ির ভেতরে একটি পরিবার আটকা পড়ে থাকার দাবি।
বাড়িটির এমন দৃশ্য ধারণ করা একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়। কিন্তু বাড়িটি কীভাবে টিকে আছে, তার চেয়েও বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়ায়—ভেতরে থাকা মানুষগুলো কি নিরাপদে আছেন?
ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, প্রবল স্রোত বাড়িটিকে চারদিক থেকে ঘিরে রেখেছে। পানির সঙ্গে ভেসে যাচ্ছে নানা ধরনের বস্তু। আশপাশের স্থাপনাগুলোও একে একে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
ভিডিওতে পরিবারের সদস্যদের স্পষ্টভাবে দেখা না যাওয়ায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারীদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়তে থাকে। অনেকে তাদের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন, আবার কেউ কেউ পরিবারের সদস্যদের জন্য প্রার্থনা করার আহ্বান জানান।
পানি যত বাড়তে থাকে, ততই বাড়িটিকে ঘিরে তৈরি হয় উৎকণ্ঠা। কারণ ভিডিওতে বন্যার স্রোতের ভয়াবহতা স্পষ্ট ছিল।
এরপর একই সবুজ বাড়ির আরেকটি ভিডিও সামনে আসে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ওই ভিডিওকে কেন্দ্র করে দাবি করা হয়, বাড়িটির ভেতরে থাকা পরিবারটি শেষ পর্যন্ত বিপদ কাটিয়ে বেঁচে গেছে।
যদিও পরিবারের সদস্যদের নিরাপত্তা নিয়ে বিস্তারিত ও স্বাধীনভাবে যাচাই করা তথ্য পাওয়া যায়নি, তবু দ্বিতীয় ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর আগের উদ্বেগ অনেকটাই কমে আসে।
দুটি ভিডিওই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে। বিভিন্ন পোস্টে ভিডিওগুলোর বিপুলসংখ্যক ভিউয়ের দাবি করা হলেও এসব সংখ্যার স্বাধীন যাচাই করা যায়নি।
বন্যার ভয়াবহতার পাশাপাশি এখন আলোচনার কেন্দ্রে রয়েছে বাড়িটির নির্মাণকাঠামো। আশপাশের স্থাপনা যেখানে পানির তোড়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, সেখানে একই জায়গায় থাকা বাড়িটি কীভাবে এত প্রবল স্রোত সামলে দাঁড়িয়ে রইল—এ প্রশ্নই ঘুরছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে।
অনেকেই বাড়িটির নির্মাণমান ও কাঠামোগত দৃঢ়তার প্রশংসা করেছেন। কেউ কেউ এটিকে শক্তিশালী নির্মাণের একটি উদাহরণ হিসেবেও দেখছেন।
একজন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারী লিখেছেন, এমন ভয়াবহ পরিস্থিতির মধ্যে বাড়ির ভেতরে থাকা মানুষগুলোর মানসিক অবস্থা কেমন ছিল, সেটিও জানা দরকার। তাঁদের অভিজ্ঞতা নিয়ে কথা বলার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন তিনি।
আরেকজন মন্তব্য করেছেন, প্রবল বন্যার মধ্যেও ভবনটির টিকে থাকা নির্মাণকাজের মান নিয়ে ভাবার সুযোগ তৈরি করেছে।
আবার কেউ বাড়িটির নির্মাণকারীর প্রশংসা করেছেন। অনেকে পরিবারের সদস্যরা নিরাপদে আছেন; এমন খবর পেয়ে স্বস্তি প্রকাশ করেছেন এবং সৃষ্টিকর্তার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন।
নেপালের এই ভয়াবহ বন্যায় যখন বহু ঘরবাড়ি ও স্থাপনা পানির স্রোতে নিশ্চিহ্ন হয়ে যাচ্ছে, তখন ধ্বংসযজ্ঞের মাঝখানে দাঁড়িয়ে থাকা একটি সবুজ বাড়ির ছবি তাই মানুষের দৃষ্টি কেড়েছে। তবে বাড়িটির কাঠামো কেন টিকে গেল এবং ভেতরে থাকা পরিবারের প্রকৃত অবস্থা কী; এসব প্রশ্নের নির্ভরযোগ্য উত্তর পেতে আরও তথ্য ও যাচাই প্রয়োজন।


