

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


মাতৃত্বের অনুভূতি কোনো পদ বা মর্যাদার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়-এমনই এক মানবিক দৃষ্টান্ত স্থাপন করে আলোচনায় এসেছেন নেপালের মহিলা, শিশু ও প্রবীণ নাগরিক বিষয়ক মন্ত্রী সীতা বাদি।
একটি শিশু হোম পরিদর্শনের সময় ১৭ দিন বয়সী এক ক্ষুধার্ত শিশুর কান্না শুনে তাকে কোলে তুলে নিয়ে স্তন্যপান করান তিনি।
এই ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর প্রশংসায় ভাসছেন মন্ত্রী সীতা বাদি।
ঘটনাটি নেপালের রাজধানী কাঠমান্ডুর একটি শিশু হোমে। বিভিন্ন স্থান থেকে উদ্ধার করা শিশুদের ওই হোমে রাখা হয়। সম্প্রতি হোমটির চরম অব্যবস্থাপনা, নোংরা বিছানা এবং বৃষ্টির পানির মধ্যে শিশুদের রাখার খবর পেয়ে পরিদর্শনে যান মন্ত্রী।
পরিদর্শনের সময় হোমের অধিকাংশ শিশুই অসুস্থ অবস্থায় ছিল। এর মধ্যে ১৭ দিন বয়সী একটি শিশুকন্যা ক্ষুধার জ্বালায় একটানা কাঁদতে থাকে। হোমে শিশুটিকে খাওয়ানোর জন্য বিকল্প দুধ না থাকায় কোনো দ্বিধা ছাড়াই তাকে কোলে তুলে নেন মন্ত্রী।
পরে নোংরা বিছানাতেই বসে শিশুটিকে স্তন্যপান করান তিনি। মন্ত্রীর কোলে মায়ের স্পর্শ পেয়ে শিশুটি শান্ত হয়ে যায় এবং একপর্যায়ে ঘুমিয়ে পড়ে।
ঘটনার পর মন্ত্রী সীতা বাদি আবেগাপ্লুত হয়ে জানান, শিশুটিকে কোলে নেওয়ার পর তার নিজের সন্তানের মতোই মনে হয়েছে। তিনি শিশুটির মায়ের দায়িত্ব পালনের কথাও জানান।
সীতা বাদির নিজের জীবনেও শিশু হোমের সঙ্গে রয়েছে গভীর সম্পর্ক। তিনিও একসময় এমন একটি হোমে বড় হয়েছেন। ১২ বছর বয়স পর্যন্ত হোমে থেকে লেখাপড়া করে পরবর্তী সময়ে দেশের মন্ত্রীর দায়িত্বে আসীন হন তিনি।
পরিদর্শন শেষে হোমে থাকা ১৫ দিন থেকে দুই বছর বয়সী অন্তত ২০ শিশুর সার্বিক যত্ন নিশ্চিত করার নির্দেশ দেন মন্ত্রী। একই সঙ্গে হোমটির পরিবেশ ও ব্যবস্থাপনা নতুন করে সাজানোর নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।
পদমর্যাদার ঊর্ধ্বে উঠে একজন জনপ্রতিনিধির এমন মানবিক আচরণ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছে।


