

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


কক্সবাজারের টেকনাফে মিয়ানমার থেকে ছুটে আসা গুলিতে আহত শিশু হুজাইফা আফনান বর্তমানে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন রয়েছে।
গুলিবিদ্ধ হওয়ার সময় সে তার দাদার সঙ্গে সকালে দোকান থেকে নাস্তা কিনে ফিরছিল।
রোববার (১১ জানুয়ারি) সকালে টেকনাফের হোয়াইক্যং ইউনিয়নের লম্বাবিল গ্রামের তেচ্ছা ব্রিজ এলাকায় এই ঘটনা ঘটে।
আহত শিশুটি ওই গ্রামের জসিম উদ্দিনের ৯ বছর বয়সী মেয়ে হুজাইফা আফনান। সে স্থানীয় হাজি মোহাম্মদ হোসেন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী। গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর প্রথমে শিশুটির মৃত্যুর খবর জানায় পুলিশ। তবে পরে হোয়াইক্যং ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মো. শাহজালাল জানান, তথ্যটি সঠিক নয়। শিশুটি জীবিত রয়েছে এবং উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রামে পাঠানো হয়েছে। কক্সবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিএসবি) অলক বিশ্বাসও বলেন, শিশুটি গুলিবিদ্ধ হয়েছে। প্রথমে মারা যাওয়ার কথা শোনা গেলেও তা সঠিক নয়। এদিকে, রোববার বিকেলে হুজাইফাকে টেকনাফ থেকে চট্টগ্রামে নিয়ে আসেন তার চাচা শওকত আলী। রাতে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসকরা জানান, শিশুটির অবস্থা সংকটজনক। চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আইসিইউ বিভাগের প্রধান হারুনুর রশীদ জানান, হুজাইফার অবস্থা আশঙ্কাজনক। তার মুখের ডান পাশ দিয়ে গুলি লেগেছে এবং তাকে লাইফ সাপোর্টে রাখা হয়েছে। আহত হুজাইফাদের বাড়ি লম্বাবিল গ্রামের তেচ্ছা বিল এলাকায়। সীমান্তসংলগ্ন ওই এলাকায় প্রায় দুইশ পরিবার বসবাস করে। শিশুটির চাচা শওকত আলী জানান, গত তিন দিন ধরে সীমান্তের ওপারে গোলাগুলি চলছিল। তাদের বাড়ি থেকে মিয়ানমার সীমান্তের দূরত্ব প্রায় তিন কিলোমিটার। তিনি বলেন, শনিবার রাতভর গোলাগুলির শব্দ শোনা গেছে। রোববার সকালে কুয়াশার মধ্যেই গুলির শব্দ আরও বেড়ে যায়। একপর্যায়ে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যের সীমান্ত এলাকা থেকে আরাকান আর্মির সদস্যরা আরসার সন্ত্রাসীদের গুলি করতে করতে বাংলাদেশের দিকে চলে আসে। পরিস্থিতি খারাপ হওয়ায় সকাল থেকেই শিশুদের ঘর থেকে বের হতে দেয়া হয়নি। শওকত আলী জানান, আমার বড় ভাইয়ের মেয়ে হুজাইফা দাদার সঙ্গে নাস্তা কিনতে দোকানে যায়। ফেরার পথে হঠাৎ ছুটে আসা গুলি তার শরীরে লাগে। নাস্তা নিয়েই তারা আর ঘরে ফিরতে পারেনি। হুজাইফার বাবা জসিম উদ্দিন পেশায় মাছ ব্যবসায়ী। তিন সন্তানদের মধ্যে হুজাইফা সবার বড়। জসিম উদ্দিনদের পাঁচ ভাই কয়েক পুরুষ ধরে ওই এলাকায় বসবাস করছেন। সীমান্ত ও তাদের বসতবাড়ির মাঝামাঝি এলাকায় স্থানীয় লোকজন মাছের চাষ করে থাকে। ওই এলাকায় একটি ছোট খাল দুই দেশকে বিভক্ত করেছে। গোলাগুলির সময় সীমান্ত এলাকায় বিজিবির কোনো সদস্য চোখে পড়েনি। এদিকে, ঘটনার পর বিক্ষুব্ধ জনতা কক্সবাজার-টেকনাফ সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ শুরু করে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ঘটনাস্থলে সেনাবাহিনীসহ বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়। হোয়াইক্যং পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ খোকন কান্তি রুদ্র জানান, সার্বিক পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তৎপর রয়েছে। স্থানীয় সূত্র জানায়, টেকনাফের হোয়াইক্যং সীমান্তের ওপারে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে আরাকান আর্মি ও আরাকান রোহিঙ্গা স্যালভেশন আর্মির (আরসা) মধ্যে ব্যাপক সংঘর্ষ চলছে। গত তিন দিন ধরে চলা এই গোলাগুলির প্রভাব পড়ছে বাংলাদেশের সীমান্ত এলাকায়ও, যার কারণে এপারে আতঙ্ক বিরাজ করছে।
মন্তব্য করুন

