

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


ইরানে ক্রমবর্ধমান জীবনযাত্রার ব্যয়ের প্রতিবাদে ব্যাপক বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। এসব সহিংস আন্দোলনে এখন পর্যন্ত অন্তত ছয়জন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে দেশটির আধা-সরকারি সংবাদমাধ্যম ফার্স।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরার বৃহস্পতিবারের (১ জানুয়ারি) প্রতিবেদনে বলা হয়, লোরেস্তান প্রদেশের আজনা শহরে চলমান বিক্ষোভে তিনজন প্রাণ হারান এবং আহত হন আরও অন্তত ১৭ জন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে রাস্তায় আগুন জ্বলতে দেখা যায় এবং গুলির শব্দের সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের ‘লজ্জা, লজ্জা’ স্লোগান শোনা যায়।
এর আগে চাহারমাহাল ও বাখতিয়ারি প্রদেশের লরদেগান শহরে সংঘর্ষে আরও দুইজন নিহত হন। ফার্সের তথ্য অনুযায়ী, বিক্ষোভকারীদের একাংশ গভর্নরের কার্যালয়, মসজিদ, সিটি হল ও ব্যাংকসহ বিভিন্ন সরকারি স্থাপনায় পাথর নিক্ষেপ করলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ টিয়ার গ্যাস ব্যবহার করে।
এদিকে পশ্চিম ইরানের কুহদাশত শহরে রাতভর চলা বিক্ষোভে নিরাপত্তা বাহিনীর একজন সদস্য নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন। নিহত ব্যক্তি ছিলেন ২১ বছর বয়সী বাসিজ বাহিনীর সদস্য। বাসিজ বাহিনী ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন।
রোববার থেকে মুদ্রার মূল্যপতন ও নিত্যপণ্যের দাম বৃদ্ধির প্রতিবাদে ব্যবসায়ীরা আন্দোলনে নামার পর পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞায় ক্ষতিগ্রস্ত ইরানের অর্থনীতি বর্তমানে প্রায় ৪০ শতাংশ মূল্যস্ফীতির চাপ মোকাবিলা করছে। এর পাশাপাশি জুন মাসে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের বিমান হামলায় দেশটির পারমাণবিক ও সামরিক স্থাপনায় ক্ষতি হওয়ায় সংকট আরও বেড়েছে।
আলজাজিরার তেহরান প্রতিনিধি তোহিদ আসাদি জানান, আগের তুলনায় এবার সরকার বিক্ষোভ মোকাবিলায় কিছুটা সংযত ভূমিকা রাখছে। কর্তৃপক্ষের দাবি, জনগণের অর্থনৈতিক দুরবস্থা লাঘবে উপযুক্ত সমাধান খোঁজা হচ্ছে।
উল্লেখ্য, ২০২২ ও ২০২৩ সালে মাসা আমিনির মৃত্যুকে কেন্দ্র করে ইরানে বড় ধরনের আন্দোলন হয়েছিল। সাম্প্রতিক বিক্ষোভগুলো প্রথমে তেহরানে শান্তিপূর্ণভাবে শুরু হলেও মঙ্গলবার অন্তত ১০টি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা এতে অংশ নেওয়ার পর তা দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে।
ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান বিক্ষোভকারীদের দাবিকে যৌক্তিক বলে মন্তব্য করেছেন। তিনি বলেন, জনগণের জীবিকা সংকটের সমাধান না হলে দেশের ভবিষ্যৎ পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে।
সরকারি মুখপাত্র ফাতেমেহ মোহাজেরানি জানান, ট্রেড ইউনিয়ন ও ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদের সঙ্গে সরাসরি আলোচনার উদ্যোগ নেওয়া হবে। তবে একই সঙ্গে সরকার হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছে, কেউ যদি এই পরিস্থিতিকে অস্থিরতা সৃষ্টির জন্য ব্যবহার করে, তাহলে তার বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মন্তব্য করুন

