

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বিভিন্ন দেশে টানা মুষলধারে বৃষ্টি, আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসের দুর্যোগে এখন পর্যন্ত প্রাণহানি ৬ শতাধিক ছাড়িয়েছে।
নিখোঁজের সংখ্যা আরও বড় হওয়ায় নিহতের তালিকা আরও দীর্ঘ হতে পারে বলে আশঙ্কা স্থানীয় কর্তৃপক্ষের।
আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম জানিয়েছে, কয়েক কোটি মানুষের জীবনে এই বন্যা মারাত্মক বিপর্যয় ডেকে এনেছে।
উষ্ণ সমুদ্রে তৈরি হওয়া ধারাবাহিক ঘূর্ণিঝড় ও তা থেকে সৃষ্ট অস্বাভাবিক মৌসুমি বৃষ্টিপাত ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া, থাইল্যান্ড ও শ্রীলঙ্কাজুড়ে বড় ধরনের জলাবদ্ধতা সৃষ্টি করেছে। বহু স্থানে ঘরবাড়ি ধ্বংস, সড়ক ভেঙে যাওয়া এবং বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হওয়ার ঘটনা ঘটেছে।
বুধবার থেকে ইন্দোনেশিয়ার সুমাত্রা দ্বীপজুড়ে টানা বৃষ্টি শুরু হয়। আচেহ প্রদেশের বহু গ্রাম প্রায় পুরোপুরি পানিতে তলিয়ে গেছে। স্থানীয়দের কেউ কেউ জানান—স্রোত এত দ্রুত এসেছিল যে ঘরবাড়ি রক্ষা করার সুযোগই মেলেনি। অনেক পরিবার কাপড়চোপড় পর্যন্ত সামলাতে পারেনি, ঘর মুহূর্তেই ধসে পড়েছে।
ইন্দোনেশিয়ার দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থা জানিয়েছে, দেশটিতে এখনো প্রায় ৩০০ মানুষ নিখোঁজ। হাজারো মানুষ বাড়ির ছাদে বা উঁচু জায়গায় আটকে আছেন। খারাপ আবহাওয়া ও দ্রুত স্রোতের কারণে উদ্ধারকাজও বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।
থাইল্যান্ডের দক্ষিণাঞ্চলীয় সঙখলা ও আশপাশের প্রদেশগুলোতে কয়েক দশকের মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ বন্যা দেখা দিয়েছে। পানির উচ্চতা অনেক এলাকায় তিন মিটার পর্যন্ত উঠেছে। দেশটিতে ১০টি প্রদেশের প্রায় ৩৮ লাখ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত।
হাতইয়াই শহরে এক দিনে ৩৩৫ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে যা গত ৩০০ বছরে রেকর্ড। পানি নামার পর বিভিন্ন এলাকায় লাশের সংখ্যা বাড়তে থাকে। হাসপাতালের মর্গ পূর্ণ হয়ে গেলে রেফ্রিজারেটেড ট্রাকে মৃতদেহ রাখা হয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, সপ্তাহজুড়ে পানিতে ডুবে থাকলেও পর্যাপ্ত সহায়তা মেলেনি।
ঘূর্ণিঝড় ডিটওয়াহ–এর প্রভাবে শ্রীলঙ্কায় ব্যাপক বন্যা দেখা দিয়েছে। এখন পর্যন্ত সেখানে ১৩০ জনের মৃত্যু নিশ্চিত হয়েছে এবং ১৭০ জন নিখোঁজ। ধ্বংস হয়েছে ১৫ হাজারের বেশি ঘরবাড়ি, ৭৮ হাজারের মতো মানুষ আশ্রয়হীন অবস্থায় রয়েছে। দেশটির এক-তৃতীয়াংশ এলাকায় বিদ্যুৎ ও পানির সরবরাহ বন্ধ হয়ে গেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে জরুরি অবস্থা জারি করেছে সরকার।
মালয়েশিয়ার পেরলিস অঙ্গরাজ্যে দুইজন প্রাণ হারিয়েছেন। হাজারো মানুষ আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থান করছেন। অনেক পরিবার ঘর হারিয়ে খাবার ও বিশুদ্ধ পানির সংকটে পড়েছে।
আবহাওয়াবিদদের মতে, ফিলিপাইনের নিকটবর্তী টাইফুন ‘কোতো’ এবং মালাক্কা প্রণালিতে বিরলভাবে গঠিত ঘূর্ণিঝড় ‘সেনিয়ার’ এই দুটি সিস্টেমের পারস্পরিক প্রভাবে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় বর্ষা স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় বেশি তীব্র হয়েছে।
জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে মৌসুমি বৃষ্টিপাত এখন অনেক বেশি অনিয়মিত ও বিপজ্জনক হয়ে উঠছে কখনো হঠাৎ অতি বৃষ্টি, কখনো আকস্মিক বন্যা ও ঝড়ো হাওয়া দেখা দিচ্ছে।
বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা করছেন, নিখোঁজ মানুষের সংখ্যা বিবেচনায় দক্ষিণ এশিয়ার এই দুর্যোগের ক্ষতি আরও বড় আকার ধারণ করতে পারে।
মন্তব্য করুন
