

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


রাজধানীর অভিজাত এলাকা গুলশান, বনানী, বারিধারা ও ক্যান্টনমেন্ট নিয়ে গঠিত ঢাকা-১৭ আসন। এই আসনে আসন্ন ত্রয়োদশ নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করছেন চিকিৎসক ও ব্যবসায়ী হিসেবে পরিচিত ডা. এস এম খালিদুজ্জমান। এই আসনে তিনি বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বীতা করবেন।
ডা. এস এম খালিদুজ্জামান বাংলাদেশের একজন সুপরিচিত প্রজনন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ এবং বাংলাদেশ ফার্টিলিটি হাসপাতালের একজন চিকিৎসক। তিনি মূলত টেস্ট টিউব বেবি এবং বন্ধ্যাত্ব চিকিৎসার ক্ষেত্রে অবদানের জন্য পরিচিত।
নির্বাচন কমিশনের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত তাঁর হলফনামা অনুযায়ী, আয় ও সম্পদের দিক থেকে তাঁর আর্থিক অবস্থান বেশ শক্তিশালী। চিকিৎসক ও ব্যবসায়ী হিসেবে তাঁর বার্ষিক ব্যবসায়িক আয় ৩ কোটি ৫২ লাখ টাকা।
ডা. খালিদুজ্জমানের শেয়ার, সঞ্চয়পত্র ও ব্যাংক আমানত থেকে বার্ষিক আয় ১১ লাখ ৬৮ হাজার ৫২৭ টাকা। তাঁর হাতে বর্তমানে নগদ রয়েছে ৬৮ লাখ ২৬ হাজার ১২০ টাকা ও তাঁর স্ত্রীর নামে নগদ রয়েছে ৩ লাখ ৪৮ হাজার ৫১০ টাকা।
ব্যাংক হিসাবে ডা. খালিদুজ্জমানের নামে জমা রয়েছে ৩৩ লাখ ৭৯ হাজার ৩৬৩ টাকা এবং তাঁর স্ত্রীর হিসাবে রয়েছে ৫ লাখ ৪৪ হাজার ৭০২ টাকা।
এছাড়া পাঁচ সন্তানের বাবা ডা. খালিদুজ্জমানের নিজের নামে রয়েছে ২ কোটি ২৫ লাখ ৫৯৫ টাকার বন্ড, ঋণপত্র ও কোম্পানির শেয়ার। তাঁর স্ত্রীর নামে রয়েছে ৯০ লাখ টাকার সমপরিমাণ বিনিয়োগ। এ ছাড়া তাঁর নিজের নামে সঞ্চয়পত্রে আছে ১ কোটি ৩৬ লাখ ৮৯ হাজার ৬১৭ টাকা এবং স্ত্রীর নামে রয়েছে ৩৯ লাখ ৫০ হাজার টাকার সঞ্চয়পত্র।
প্রসঙ্গত, সম্প্রতি গানম্যান নিয়ে ক্যান্টনমেন্টের ভেতর দিয়ে পার হতে গিয়ে সেনাসদস্যদের সঙ্গে তর্কে জড়ান জামায়াত প্রার্থী স ম খালিদুজ্জামান। এ সংক্রান্ত একটি ভিডিওতে দেখা যায়, ক্যান্টনমেন্টে অস্ত্র বা গানম্যান নিয়ে প্রবেশের নিয়ম নেই এমনটি বলা হলে সেনাসদস্যের সঙ্গে তর্কে জড়িয়ে পড়েন খালিদুজ্জামান। এক পর্যায়ে তিনি বেশ উত্তেজিত হয়ে পড়েন।
এসময় সেনা সদস্যকে ফোনে বলতে শোনা যায়, ....একজন জামায়াত পদপ্রার্থী প্রবেশ করে বের হবেন। উনার সঙ্গে গানম্যান আছেন। আমি অ্যালাউ করলাম স্যার।
তখন সেনাসদস্যের উদ্দেশে ওই এমপি পদপ্রার্থী বলেন, তারেক জিয়ার (বিএনপি চেয়ারম্যান) প্রতিদ্বন্দ্বী এস এম খালিদুজ্জামান বলেন। বলেন, তারেক জিয়ার প্রতিদ্বন্দ্বী। উনি আমার ক্যান্ডিডেট।
এমপি পদপ্রার্থী ঊর্ধ্বতনের সঙ্গে কথা বলতে চান। খালিদুজ্জামান সেখানে দায়িত্বে থাকা সেনাসদস্যকে বলেন, আমার সঙ্গে (ঊর্ধ্বতনের) কথা বলিয়ে দেন। এসময় এমপি পদপ্রার্থীর কাছে মোবাইলটি দেয়া হয়। এ ঘটনার একটি ভিডিও সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়।
এদিকে ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পরে দুঃখ প্রকাশ করেছেন ঢাকা-১৭ আসনের জামায়াত ইসলামীর প্রার্থী ডা. এস এম খালিদুজ্জামান।
ফেসবুকে দেয়া একটি পোস্টে ডা. খালিদুজ্জামান বলেন, ‘বেশকিছু দিন আগে ক্যান্টনমেন্ট এলাকায় প্রবেশকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশের গর্ব ও অহংকার, সার্বভৌমত্বের অতন্দ্র প্রহরী সেনাবাহিনীর দায়িত্বরত সদস্যদের সঙ্গে একটি অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়, যা থেকে মিশ্র প্রতিক্রিয়ার জন্ম নেয়।’
তিনি আরও লেখেন, ‘বিষয়টি ইতোমধ্যে সমাধান হওয়া সত্ত্বেও দুঃখজনকভাবে একটি স্বার্থান্বেষী মহল এই সমাধানকৃত ইস্যুকে কেন্দ্র করে ঘোলা পানিতে মাছ শিকারের অপচেষ্টা চালিয়ে পরিস্থিতিকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার চেষ্টা করছে।’
পোস্টের শেষাংশে তিনি ঘটনার জন্য দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, ‘যাই হোক উক্ত ঘটনার বিষয়ে আমি দুঃখ প্রকাশ করছি এবং ভবিষ্যতে যেন এ ধরনের ভূল বুঝাবুঝি আর না হয়, সে ব্যাপারে আমি সচেষ্ট থাকবো. ইনশাআল্লাহ।’
মন্তব্য করুন

