মঙ্গলবার
০৭ জুলাই ২০২৬, ২৩ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
মঙ্গলবার
০৭ জুলাই ২০২৬, ২৩ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

রাখাইনে স্কুলে বিমান হামলায় ১৯ শিক্ষার্থী নিহত

এনপিবিনিউজ ডেস্ক
প্রকাশ : ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ০৫:৪৩ পিএম আপডেট : ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ০৫:৪৪ পিএম
রাখাইনে স্কুলে বিমান হামলায় ১৯ শিক্ষার্থী নিহত, শিশুরাই সহিংসতার সবচেয়ে বড় শিকার
expand
রাখাইনে স্কুলে বিমান হামলায় ১৯ শিক্ষার্থী নিহত, শিশুরাই সহিংসতার সবচেয়ে বড় শিকার

মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে ভয়াবহ এক বিমান হামলায় প্রাণ হারিয়েছে ১৯ জন শিক্ষার্থী। প্রত্যেকেই স্কুলে পড়াশোনারত ছিল । কারও স্বপ্ন ছিল শিক্ষক হওয়া, কেউবা ডাক্তার হয়ে মানুষের সেবা করার। কিন্তু মিলিটারি বাহিনীর আকাশ থেকে চালানো বোমাবর্ষণে তাদের সেই স্বপ্ন চিরতরে থেমে গেল।

আরাকান আর্মির তথ্য অনুযায়ী, নিহতদের বয়স ১৫ থেকে ২১ বছরের মধ্যে। তারা সবাই ছিল একটি আবাসিক স্কুলের শিক্ষার্থী।

জাতিসংঘের শিশু বিষয়ক সংস্থা ইউনিসেফ জানিয়েছে, শুধু এই ঘটনাই নয়, পুরো রাখাইন এখন শিশুদের জন্য সবচেয়ে অনিরাপদ জায়গাগুলোর একটি হয়ে উঠেছে। বোমা হামলা ও গোলাগুলির ভয়ংকর পরিস্থিতি পরিবারগুলোকে ভেঙে দিচ্ছে, শিশুদের ভবিষ্যৎ কেড়ে নিচ্ছে।

গণতন্ত্রপন্থী ছায়া সরকার ন্যাশনাল ইউনিটি গভর্নমেন্ট (NUG) বলছে, গত এক মাসে মিয়ানমার সেনারা সারা দেশে অন্তত ৫০০ বিমান হামলা চালিয়েছে। এতে ৪০ জনের বেশি শিশু নিহত হয়েছে, ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে অন্তত ১৫টি স্কুল।

হামলার লক্ষ্যবস্তু শুধু যুদ্ধক্ষেত্রেই সীমাবদ্ধ নয়, বাড়িঘর, বাজার, এমনকি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানও রক্ষা পাচ্ছে না।

রাখাইনের বহু এলাকায় ইন্টারনেট ও মোবাইল নেটওয়ার্ক বন্ধ করে রেখেছে সেনাবাহিনী। ফলে ক্ষয়ক্ষতির সঠিক চিত্র জানা যাচ্ছে না। স্থানীয় মানুষের কণ্ঠও বাইরের পৃথিবীতে পৌঁছাচ্ছে না।

অন্যদিকে, সামরিক বাহিনী এ হামলা নিয়ে কোনো মন্তব্য করেনি। কিন্তু প্রতিদিনই যাদের মৃত্যু ঘটছে, তারা ছিল কারও সন্তান, কারও বন্ধু কিংবা শিক্ষকদের গর্বের ছাত্র।

২০২১ সালের অভ্যুত্থানের পর থেকেই দেশজুড়ে সহিংসতা বেড়েছে। সামরিক শাসনের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ দমন করা হয় কঠোরভাবে, যার পর থেকে যুদ্ধ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।

সাম্প্রতিক সময়ে সেনাবাহিনী ঘোষণা করেছে, ২৮ ডিসেম্বর নির্বাচন হবে। তবে আন্তর্জাতিক মহল ও স্থানীয়রা এটিকে ছদ্ম নির্বাচন হিসেবে দেখছেন, যেখানে গণতন্ত্রের চেয়ে বেশি প্রাধান্য পাচ্ছে অস্ত্রের শক্তি।

আজ (১৫ সেপ্টেম্বর) সামরিক নিয়ন্ত্রিত নির্বাচন কমিশন জানায়, বিদ্রোহ-নিয়ন্ত্রিত ৬৫টি আসনে ভোট হবে না। এর মধ্যে রয়েছে রাখাইন, কাচিন, চিন ও শান রাজ্যের কয়েকটি অঞ্চল।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই যুদ্ধে প্রকৃত কোনো জয়ী নেই—বরং সবচেয়ে বড় ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে শিশুরা। তাদের স্বপ্ন, পড়াশোনা, খেলা সব থেমে যাচ্ছে একের পর এক বিস্ফোরণে।

ইউনিসেফ বলছে, রাখাইনে বর্তমান সহিংসতা শিশু ও পরিবারগুলোর জীবনে ভয়াবহ প্রভাব ফেলছে।

একটা স্কুলে বইয়ের বদলে যখন বোমা এসে পড়ছে, তখন প্রশ্ন জাগে আমরা আসলে কেমন পৃথিবী তৈরি করছি?

শিশুরা যুদ্ধ চায় না। তারা শুধু শান্তিতে বাঁচতে চায়, স্কুলে ফিরতে চায়, স্বপ্ন দেখতে চায়। কিন্তু আমরা কি তাদের সেই অধিকার দিতে পারছি?

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
X
UPCOMING
USA VS Belgium
Scheduled
07 Jul, 06:00 AM
VS
World Cup