

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


কম্বোডিয়া থাইল্যান্ডের বিরুদ্ধে সীমান্ত এলাকায় ‘ভূতের মতো ভয়াবহ শব্দ’ বাজানোর অভিযোগ তুলেছে। দেশটির মানবাধিকার কমিশন বলছে, এটি মানসিক চাপ তৈরি করার উদ্দেশ্যে একটি সাইকোলজিকাল ওয়ারফেয়ার বা মানসিক যুদ্ধের অংশ। যদিও দুই দেশ গত জুলাইয়ে যুদ্ধবিরতি চুক্তি করেছিল, নতুন এই অভিযোগে উত্তেজনা আবার বাড়ছে।
কম্বোডিয়ার সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বর্তমানে সিনেট সভাপতি হুন সেন ফেসবুকে জানান, মানবাধিকার কমিশন এ বিষয়ে জাতিসংঘের মানবাধিকার হাইকমিশনার ভলকার টুর্কের কাছে অভিযোগ পাঠিয়েছে।
চিঠিতে বলা হয়েছে, থাইল্যান্ড সীমান্তবর্তী এলাকায় ‘উচ্চস্বরে, ভৌতিক ও তীক্ষ্ণ শব্দ’ ব্যবহার করে স্থানীয়দের ঘুম নষ্ট করছে, উদ্বেগ সৃষ্টি করছে এবং শারীরিক অস্বস্তি দিচ্ছে। কমিশন সতর্ক করে বলেছে, এমন কর্মকাণ্ড দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা আরও বাড়াতে পারে।
কম্বোডিয়ার মানবাধিকার কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, সীমান্তবর্তী গ্রামগুলোর স্থানীয় প্রশাসন ও বাসিন্দারা জানিয়েছেন, থাইল্যান্ডের সেনারা রাতে লাউডস্পিকারের মাধ্যমে ‘ভূতের আর্তনাদ’ এবং বিমান ইঞ্জিনের মতো শব্দ বাজাচ্ছে। তবে এখন পর্যন্ত থাইল্যান্ড সরকার এই অভিযোগে কোনো প্রতিক্রিয়া দেয়নি।
হুন সেন জানিয়েছেন, কম্বোডিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী বিষয়টি মালয়েশিয়ার সঙ্গে আলোচনা করেছেন। মালয়েশিয়া গত জুলাইয়ে দুই দেশের মধ্যে যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে মধ্যস্থতা করেছিল।
অন্যদিকে, থাইল্যান্ড অভিযোগ করেছে, কম্বোডিয়া সীমান্ত এলাকায় নতুনভাবে স্থলমাইন বসাচ্ছে। তারা জানিয়েছে, জুলাই থেকে এখন পর্যন্ত অন্তত ছয় থাই সেনা স্থলমাইনের বিস্ফোরণে আহত হয়েছে। তবে কম্বোডিয়া এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে এবং বলেছে, আহত সেনারা দেশটির পুরনো গৃহযুদ্ধের সময় পোঁতা মাইনগুলোর ওপর পা রেখেই আহত হয়েছেন।
জীবন্ত উত্তেজনা, ভূতের মতো শব্দ, মানসিক চাপ এবং পারস্পরিক অভিযোগ—সব মিলিয়ে যুদ্ধবিরতির পরও সীমান্তে থাইল্যান্ড-কম্বোডিয়ার সম্পর্ক নতুন করে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে।
সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান।
মন্তব্য করুন
