

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


বিজ্ঞানী হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেছিলেন নিধি তিওয়ারি। তবে তার স্বপ্ন ছিল আরও বড়। ভারতের প্রশাসন ও কূটনীতির গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে কাজ করার লক্ষ্য নিয়ে বিজ্ঞানীর চাকরি ছেড়ে সিভিল সার্ভিস পরীক্ষার প্রস্তুতি শুরু করেন তিনি।
প্রথমবার সাফল্যের খুব কাছাকাছি গিয়েও থেমে যাননি নিধি। শেষ পর্যন্ত ইউনিয়ন পাবলিক সার্ভিস কমিশনের (ইউপিএসসি) পরীক্ষায় সর্বভারতীয় মেধাতালিকায় ৯৬তম স্থান অর্জন করে ভারতীয় ফরেন সার্ভিসে (আইএফএস) যোগ দেন তিনি।
২০১৪ ব্যাচের এই কর্মকর্তা বর্তমানে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ব্যক্তিগত সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। ২০২৫ সালে তাকে এই গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগ দেওয়া হয়।
ভারতের সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, উত্তর প্রদেশের লখনউয়ে বেড়ে ওঠা নিধি তিওয়ারি সেখানেই স্কুল ও স্নাতক পর্যায়ের পড়াশোনা শেষ করেন। পরে বেনারস হিন্দু বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বায়োকেমিস্ট্রিতে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। একাডেমিক ফলাফলের জন্য তিনি স্বর্ণপদকও লাভ করেন।
পড়াশোনা শেষে ভারতের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পরমাণু গবেষণা প্রতিষ্ঠান ভাভা অ্যাটমিক রিসার্চ সেন্টারে (বার্ক) বিজ্ঞানী হিসেবে যোগ দেন নিধি। মর্যাদাপূর্ণ এই প্রতিষ্ঠানে ক্যারিয়ার শুরু করলেও প্রশাসন ও নীতিনির্ধারণের ক্ষেত্রে কাজ করার আকাঙ্ক্ষা তাকে অন্য পথে নিয়ে যায়।
শেষ পর্যন্ত বিজ্ঞানীর স্থায়ী চাকরি ছেড়ে ইউপিএসসি পরীক্ষার প্রস্তুতি নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন তিনি। ২০০৮ সালে বার্কের চাকরি ছেড়ে সিভিল সার্ভিসে যোগ দেওয়ার স্বপ্ন নিয়ে নতুন করে প্রস্তুতি শুরু করেন নিধি তিওয়ারি।
এরপর শুরু হয় ইউপিএসসি সিভিল সার্ভিস পরীক্ষার জন্য কঠোর প্রস্তুতি। তার এই যাত্রায় বাধাও আসে। ২০১২ সালের পরীক্ষায় তার নাম ওয়েটিং লিস্টে ছিল। কিন্তু ব্যর্থতায় থেমে না গিয়ে তিনি আবারও চেষ্টা চালিয়ে যান।
অবশেষে ২০১৩ সালের ইউপিএসসি সিভিল সার্ভিস পরীক্ষায় বড় সাফল্য পান নিধি তিওয়ারি। তিনি সর্বভারতীয় মেধাতালিকায় ৯৬তম স্থান অর্জন করেন। এই ফলাফলের ভিত্তিতে তিনি ভারতীয় ফরেন সার্ভিসে যোগদানের সুযোগ পান এবং ২০১৪ ব্যাচের কর্মকর্তা হিসেবে কূটনৈতিক ক্যারিয়ার শুরু করেন।
ফরেন কর্মকর্তা হওয়ার পর নিধি তিওয়ারি ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন। বিশেষ করে নিরস্ত্রীকরণ ও আন্তর্জাতিক নিরাপত্তাসংক্রান্ত বিষয়ে কাজ করার অভিজ্ঞতা অর্জন করেন তিনি।
পররাষ্ট্রনীতি ও নিরাপত্তা বিষয়ে এই অভিজ্ঞতাই পরবর্তী সময়ে তার ক্যারিয়ারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। কারণ পিএমওতে দায়িত্ব পালনের সময়ও তাকে বিদেশনীতি, আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা ও জাতীয় নিরাপত্তার মতো স্পর্শকাতর বিষয়ে কাজ করতে হয়েছে।
২০২২ সালের নভেম্বরে নিধি তিওয়ারি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে (পিএমও) আন্ডার সেক্রেটারি হিসেবে যোগ দেন। পরবর্তীতে তিনি ডেপুটি সেক্রেটারি পদে উন্নীত হন।
পিএমওতে কাজ করার সময় তিনি পররাষ্ট্র ও আন্তর্জাতিক নিরাপত্তাসংক্রান্ত বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে যুক্ত ছিলেন। জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত ডোভালের সঙ্গেও নিরাপত্তাসংক্রান্ত বিষয়ে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে তার।
পিএমওতে কাজের অভিজ্ঞতা, কূটনীতি ও নিরাপত্তা বিষয়ে দক্ষতা এবং গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক দায়িত্ব পালনের অভিজ্ঞতার পর নিধি তিওয়ারিকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ব্যক্তিগত সচিব হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়।
ভারতের সরকারের উচ্চপর্যায়ে প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত সচিবের দায়িত্ব অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের দৈনন্দিন গুরুত্বপূর্ণ সমন্বয়, নীতিগত বিষয় এবং বিভিন্ন উচ্চপর্যায়ের সরকারি কার্যক্রমে এই পদে থাকা কর্মকর্তাদের ভূমিকা থাকে।

