

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


বিশ্বজুড়ে ক্রমবর্ধমান হারে বাড়ছে মানসিক ও স্নায়বিক রোগ। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)-এর সর্বশেষ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বর্তমানে পৃথিবীতে ৩০০ কোটিরও বেশি মানুষ কোনো না কোনো ধরনের মানসিক বা স্নায়বিক সমস্যায় আক্রান্ত। এসব রোগে প্রতি বছর ১ কোটি ১০ লাখেরও বেশি মানুষের মৃত্যু ঘটছে।
ডব্লিউএইচও জানায়, সময়মতো চিকিৎসা ও যত্নের অভাবে প্রতিবছর লাখ লাখ মানুষ প্রাণ হারাচ্ছে। অনেক দেশেই এখনো মানসিক স্বাস্থ্যসেবা পর্যাপ্ত নয় এবং প্রশিক্ষিত জনবল ও অবকাঠামোগত ঘাটতি প্রকট।
সংস্থাটির তথ্যানুসারে, বিশ্বের মাত্র ৬৩টি দেশ স্নায়বিক রোগের জন্য জাতীয় নীতিমালা প্রণয়ন করেছে। আর মাত্র ৩৪টি দেশ এই খাতে নির্দিষ্ট বাজেট বরাদ্দ রাখে।
ডব্লিউএইচও মনে করে, এই সীমাবদ্ধতা বিশ্বব্যাপী সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণের জরুরি প্রয়োজনীয়তাকে আরও স্পষ্ট করে তুলেছে-যেখানে গবেষণা, চিকিৎসা ও সচেতনতাকে একসাথে গুরুত্ব দিতে হবে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, মানসিক রোগ শনাক্ত ও চিকিৎসা করা সম্ভব হলেও নিম্নআয়ের এবং প্রত্যন্ত অঞ্চলের বহু মানুষ এখনো স্বাস্থ্যসেবার আওতার বাইরে।
দারিদ্র্য, অপর্যাপ্ত স্বাস্থ্য অবকাঠামো এবং সামাজিক কুসংস্কার-এই তিনটি কারণ চিকিৎসা গ্রহণে বড় বাধা হিসেবে কাজ করছে।
ডব্লিউএইচও জানায়, সময়মতো চিকিৎসা পাওয়া গেলে বিপুলসংখ্যক অকালমৃত্যু রোধ করা সম্ভব এবং লাখো মানুষের জীবনমান উন্নত হবে।
ডব্লিউএইচও’র সহকারী মহাপরিচালক জেরেমি ফারার বলেন, বিশ্বের এক-তৃতীয়াংশেরও বেশি মানুষ মানসিক বা স্নায়বিক সমস্যায় ভুগছে। এটি এখন বৈশ্বিক জনস্বাস্থ্যের জন্য একটি বড় সংকট।
তিনি আরও বলেন, নিম্নআয়ের দেশগুলোতে স্বাস্থ্যকর্মী, গবেষণা ও চিকিৎসা অবকাঠামোর ঘাটতি ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে। ধনী দেশের তুলনায় এসব দেশে স্নায়ুরোগ বিশেষজ্ঞের সংখ্যা প্রায় ৮০ গুণ কম।
ফারার জোর দিয়ে বলেন, এ বৈষম্য দূর না করা গেলে ভবিষ্যতে বৈশ্বিক মানসিক স্বাস্থ্য পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করবে।
ডব্লিউএইচও বিশ্বের সব সরকারকে আহ্বান জানিয়েছে, মানসিক স্বাস্থ্যসেবাকে জাতীয় নীতিমালায় অগ্রাধিকার দিতে, চিকিৎসা সুবিধা বাড়াতে এবং সমাজে সচেতনতা বৃদ্ধিতে সমন্বিত পদক্ষেপ নিতে।
সূত্র: সামা টিভি
মন্তব্য করুন
